ভোটার তথ্য সংশোধনের নির্দেশ

সারা দেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদে ভুলত্রুটি কারণে অসস্থিতিতে নির্বাচান কমিশন। এসব ভোটারের তথ্য দ্রুত সংশোধন করতে ৬৪টি জেলার নির্বাচন অফিসে পৃথক দুটি চিঠি দিয়েছে সাংবিধানিক সংস্থাটি।  ইসির চিঠিতে বলা হয়, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিস হতে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগকে অবহিত করা হয় যে পুরুষ ভোটার তালিকায় মহিলা ভোটার অথবা মহিলার তালিকায় পুরুষ ভোটার রয়েছে। মাঠ পর্যায়ে ডাটা এন্ট্রি অপরেটর ভোটার এন্ট্রির সময় লিঙ্গ সিলেক্ট (পুরুষ-মহিলা) সঠিক ভাবে চিহ্নিত না করায় পরেবর্তিতে প্রুফ রিডার কর্তৃক তথ্য সঠিকবাবে সম্পৃন না হওয়ায় এ সমস্য হয়েছে। ফলে সে ভাবে ভোটারের ডাটা ক্লাইন্ট সার্ভারে সেইভ করা হয়। এ কারণে ভোটার তালিকায় একলিঙ্গের ভোটার অন্য লিঙ্গে রয়ে গেছে। সমস্যাগুলো আগামী ১২ মার্চের মধ্যে সমাধানের নির্দেশ দিচ্ছে কমিশন। ইসির অপর এক চিঠিতে দ্বৈত ভোটারের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।  সূত্র জানায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় ভুলত্রুটি থাকায় অনেকটাই বিপাকে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তালিকা চূড়ান্ত করার আগে সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হলেও মাঠ কর্মকর্তাদের উদাসীনতায় চূড়ান্ত তালিকায় ব্যাপক ভুলত্রুটি রয়ে গেছে। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল দিতে গিয়ে ভোটার তালিকার এমন ত্রুটি বেরিয়ে আসে। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় এমন ভুল নিয়ে নির্বাচন কমিশনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।  সূত্র জানায়, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের নির্বাচন উপলক্ষে তৈরি করা ভোটার তালিকার সিডি পরীক্ষায় পুরুষ তালিকায় দুজন নারীর নাম পাওয়া গেছে। পরে তা সংশোধনের জন্য জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে পাঠিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা। একই উপজেলার বালিয়াতলী ও লেবুখালী ইউনিয়নের সিডিতেও পুরুষ ভোটার তালিকায় নারী ও নারীর তালিকায় পুরুষের নাম পাওয়া গেছে।  এ ছাড়া গাজীপুর সদর উপজেলার মির্জাপুর, পিরুজালী, টাঙ্গাইলের কালীহাতি উপজেলার বাংড়া, বীরবাসিন্দা, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ফেঞ্চুগঞ্জ, মাইজগাঁও, গিলাচড়া, উত্তর কুশিয়ারা ও উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ভোটার তালিকার সিডিতেও ভুল পাওয়া গেছে।  এদিকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরও ইসির ভোটার তালিকায় দ্বৈত ভোটার থেকে যাচ্ছে। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার এক দম্পতি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনে ব্যর্থ হয়ে দ্বৈত ভোটার হয়েছেন । তারা উভয়ে এনআইডি সংশোধনের জন্য সোনালী ব্যাংকের চট্টগ্রামের বোয়ালখালী শাখায় ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর টাকা জমা দেন। এরপর তারা সেগুলো নির্বাচন কমিশনে জমা দেন। যা এখনো তদন্ত রিপোর্ট চাহিত অবস্থায় রয়ে গেছে।  সূত্র জানায়, সংশোধনীতে স্বামী মোহাম্মদ মুছা জন্ম সাল চেয়েছিলেন ১৪ মে ১৯৫৬ আর তার এনআইডিতে জন্ম সাল ছিল ৭ মার্চ ১৯৬৮ এবং স্ত্রী তৌফিয়া খানমের সংশোধনীতে চাহিত জন্ম সাল ছিল ১৯ এপ্রিল ১৯৬৩ সাল। আর তার এনআইডিতে জন্ম সাল ছিল ২০ আগস্ট ১৯৬৭। এছাড়া তার ইংরেজি নামে পরিবর্তন চেয়েছিলেন। কিন্তু সংশোধনে ব্যর্থ হয়ে তরা দ্বিতীয়বার ভোটার হয়েছেন।  সূত্র জানায়, স্বামী মোহাম্মদ মুছার (প্রথম এনআইডি নাম্বার ১৯৬৮১৫১১২৫০৫৭২৬৬২ ও দ্বিতীয়টি ১৯৫৬১৫২১২০৭০০০০০২) এবং তার স্ত্রী তৌফিয়া খানমের (প্রথমটি ১৯৬৭১৫১১২৫০৫৭২৬৬৩ ও দ্বিতীয়টি ১৯৬৩১৫২১২০৭০০০০০১) দুইটি করে এনআইডি চালু রয়েছে।  এ কাজে সহযোগিতার জন্য বোয়ালখালী উপজেলার একজন অফিস সহকারীকে শাস্তি স্বরুপ কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাচন অফিসে বদলী করা হয়। কিন্তু তারা যে দ্বৈত ভোটার হয়েছেন তাদের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি।  ইসি কর্মকর্তারা জানান, কমিশন এতো সচেতন হওয়ার পরও কিভাবে দ্বৈত ভোটার করা হচ্ছে বিষয়টি আমাদের মাথায় আসে না। তবে যে বা যারাই দ্বৈত ভোটার হোক না কেনো, তারা ধরা পড়বেই।  এবার দ্বৈত ভোটার হওয়ার বিষয়টি কড়া নজরদারিতে রেখেছে কমিশন। এবার হালনাগাদে ২ লাখের উপরে দ্বৈত ভোটার শনাক্ত করে তালিকা থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।  কোনো নাগরিক একাধিক স্থানে ভোটার হয়েছেন সন্দেহ হলেই সেটি মাঠ পর্যায়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করারও নির্দেশ দিতে পরে ইসি।