আশুলিয়ায় বিউটিশিয়ানকে ধর্ষণ, চাঁদা চেয়ে ভিডিও প্রকাশের হুমকি

আশুলিয়া ব্যুরো : আশুলিয়ায় এবার বিউটিশিয়ানকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে হাসিব আহমেদ নামে এক বখাটের বিরুদ্ধে। এঘটনায় ভুক্তভোগী মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে সামাজিকভাবে বিয়ের কথা বলে জোরপূর্বক তার বাচ্চা নষ্ট করানো হয়। পরে ভুক্তভোগী বিউটিশিয়ান বিয়ের জন্য বখাটেকে চাপ দিলে কৌশলে মোবাইল ফোনে ধারণ করা তাদের অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এঘটনায় ওই বিউটিশিয়ান আইনের সহায়তা চেয়ে বৃহস্পতিবার আশুলিয়া থানায় বখাটে হাসিব আহমেদ ও তার মা সখিনা বেগমের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযুক্ত বখাটে হাসিব জামগড়া ভূঁইয়াপাড়া এলাকার হারুন অর রশিদ ও সখিনা বেগমের ছেলে।

ভুক্তভোগী তরুণীর অভিযোগ সে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় হাসিবদের বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় ভূঁইয়া মার্কেট এলাকায় একটি বিউটি পার্লার পরিচালনা করতো। এসময় বখাটে হাসিবের কু নজর পড়ে ওই বিউটিশিয়ানের উপর। বিভিন্ন সময় তাকে মোবাইলে ও সরাসরি প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হওয়া হাসিব একদিন লুকিয়ে ওই বিউটিশিয়ানে ঘরে ঢুকে পড়ে। একপর্যায়ে মেয়েটি ঘুমিয়ে পড়লে বখাটে হাসিব অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে না জানানোর অনুরোধ করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করলে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এঘটনায় সামাজিকভাবে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জোরপূর্বক বাচ্চাটি নষ্ট করায় বখাটে হাসিব।

ভুক্তভোগী বিউটিশিয়ান আরও বলেন, বিভিন্ন সময়ে হাসিব তার প্রয়োজেন আমার কাছ থেকে প্রায় এক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এরপরও সে কিছুদিন আগে মোটরসাইকেল কেনার জন্য আমার কাছে দুই লক্ষ টাকা দাবি করে। ব্যবসা ভালো না হওয়ায় আমি টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করি। এঘটনায় হাসিব কৌশলে তার মোবাইল ফোনে আমাদের অন্তরঙ্গ মুহুর্তের ভিডিও চিত্র ধারণ করে তা ইউটিউবে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়। বিষয়টি তার মা সখিনা বেগমকে জানানো হলে সে কোন সমাধান না দিয়ে উল্টো আমাকে বাসা ছেড়ে দিয়ে এলাকা থেকে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই বিউটিশিয়ান ধর্ষণের অভিযোগ এনে বৃস্পতিবার আশুলিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আওয়াল বলেন, এ ধর্ষণের বিষয় উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযুক্ত যুবককে আটক ও ধর্ষণের ভিডিও চিত্র উদ্ধারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।