মাদকদ্রব্যের তথ্য গোপন করায় ৬ পুলিশ বরখাস্ত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা : মাদক উদ্ধারের পর আত্মসাতের অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার দুই উপপরিদর্শকসহ ছয় পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনা তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।  মঙ্গলবার রাতে জেলা পুলিশ সুপারের আদেশে তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। বরখাস্তরা হলো কসবা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শ্যামল মজুমদার ও মনির হোসেন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ফারুক ও সালাউদ্দিন, কনস্টেবল শাহজাহান ও কাসেম। মাদকদ্রব্যের একটি চালান উদ্ধারের পরপরই তাদেরকে প্রত্যাহার করা হয়।  পুলিশের একটি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে পুলিশ কসবা পৌরসভার টি আলী কলেজ মোড় এলাকায় অভিযান চালায় উপপরিদর্শক (এসআই) শ্যামল মজুমদার ও মনির হোসেনসহ কয়েকজন। এসময় বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায় দুটি প্রাইভেটকার থেকে গাঁজার একটি বড় চালান উদ্ধার করা হয়। তবে থানায় গিয়ে মামলায় দেখানো হয় ৪০ কেজি। মামলায় দেখানো গাঁজা ছাড়াও বড় ধরনের একটি চালান কৌশলে লুকিয়ে রাখে তারা।   পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এর একটি দল গিয়ে কসবা থানার কাছ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় গাঁজার একটি বড় চালান উদ্ধার করে। এই ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতেই জেলা পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের আদেশে দুই এসআইসহ ৬ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে কি কারণে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে এ বিষয়ে পুলিশের কেউ মুখ খুলছে না।  এই ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসাইনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।  কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিউদ্দিন দুই এসআইসহ ৬ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্থ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে কি কারণে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।  এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসাইনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তারা ফোন রিসিভ করেন নি।