৬৪৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ কমিয়ে সংশোধিত এডিপির অনুমোদন

সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (আরএডিপি) বরাদ্দ কমানো হয়েছে ৬ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। এ হিসাবে এডিপির আকার দাঁড়ালো এক লাখ ৫৭ হাজার ৫৯৪ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরে এডিপির মূল আকার ছিল এক লাখ ৬৪ হাজার ৮৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। সংশোধিত এডিপিতে বৈদেশিক সহায়তা এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে বরাদ্দ কমেছে। কিন্তু সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে বরাদ্দ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।  অন্যদিকে বেড়েছে প্রকল্পের সংখ্যা। মূল এডিপিতে প্রকল্প ছিল এক হাজার ৩০৮টি। কিন্তু সংশোধিত এডিপিতে এসে মোট প্রকল্প সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৫৮টিতে। ফলে মূল এডিপির তুলনায় সংশোধিত এডিপিতে প্রকল্প বেড়েছে ৩৫০টি।   মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এই সংশোধিত এডিপির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এনইসি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এই তথ্য জানান।  পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, সংশোধিত এডিপিতে সরকারের নিজস্ব তহবিলের (জিওবি) অপরিবর্তিত বরাদ্দ রয়েছে ৯৬ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। বৈদেশিক সহায়তার বরাদ্দ কমে হয়েছে ৫২ হাজার ৫০ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে মূল বরাদ্দ ৫৭ হাজার কোটি টাকা থেকে কমেছে ৪ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ কমে হয়েছে ৯ হাজার ২১৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এক্ষেত্রে মূল বরাদ্দ ১০ হাজার ৭৫৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা থেকে বাদ গেছে এক হাজার ৫৪০ কোটি ১৯ লাখ টাকা।  মুস্তফা কামাল বলেন, চলতি অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির বাস্তবায়ন অনেক বাড়বে। কেননা আবহাওয়া ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো।  এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, হলি আর্টিসান হামলার কারণে অনেকটা সময় প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। তাই বৈদেশিক সহায়তা থেকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বাদ দিতে হয়েছে। আগামীতে যদি কোনো মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হয় তাহলে সেটি আমি বিবেচনা করে বরাদ্দ দেব। এই দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী আমাকে দিয়েছেন।  মুস্তফা কামাল জানান, প্রকল্প যাতে ঘন ঘন সংশোধন করা না হয় সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নের মান যাতে নিশ্চিত হয় সেটি খেয়াল রাখতে হবে।  ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, সংশোধিত এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পরিবহন খাতে ৩৭ হাজার ৫১৩ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ খাতে দেয়া হয়েছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ ২২ হাজার ৪১০ কোটি টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পল্লী উন্নয়ন ও পল্লী প্রতিষ্ঠান খাতে ১৬ হাজার ৭৯৩ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।  সংশোধিত এডিপিতে অন্যান্য কয়েকটি খাতের বরাদ্দ হলো- ভৌত পরিকল্পনা, পানি সরবরাহ ও গৃহায়ন খাতে ১৫ হাজার ২১৩ কোটি টাকা, শিক্ষা ও ধর্ম খাতে ১৪ হাজার ১৮৬ কোটি, স্বাস্থ্য,পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবারকল্যাণ খাতে ৯ হাজার ৬২৪ কোটি, কৃষি খাতে ৫ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা।  এদিকে সংশোধিত এডিপিতে বরাদ্দহীনভাবে সংযুক্ত অনুমোদনহীন প্রকল্প রয়েছে ১ হাজার ২৭টি। বৈদেশিক সহায়তা প্রাপ্তির সুবিধার্তে অনুমোদন ও বরাদ্দহীনভাবে ২৬৮টি প্রকল্প যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া পিপিপির (পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনাশিপ) প্রকল্প রয়েছে ৩০টি। আর ৩০০টি প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।