সিংগাইর রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নানা সমস্যায় জর্জরিত

মাসুম বাদশাহ, (মানিকগঞ্জ) সিংগাইর থেকে : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের ৭২ নং রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘ ৩৮ বছর অতিক্রম করলেও চলছে শ্রেণীকক্ষ সংকটে। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে হচ্ছে দু’চালা টিনের ঘরে। সরকারিভাবে কোনো অনুদান না পাওয়ায় আসবাবপত্র সংকট, ব্যবহার অনুপযোগী টয়লেট ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ না থাকায় কম্পিউটার সুবিধা না পাওয়া, ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারি ও  শিক্ষক স্বল্পতাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে এ বিদ্যালয়টি। জরুরী ভিত্তিতে ভবন নির্মাণসহ বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে স্থানীয় দানশীল ব্যক্তিদের সহযোগিতায় ৯৮ শতক জমির উপর রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। সিংগাইর উপজেলা সদর থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব প্রায় ৫ কিলোমিটার। ১৯৮৩ সালে বিদ্যালয়টি রেজিষ্টার্ড হলেও ১৯৯৫ সালে সরকারিভাবে একটি ভবন নির্মিত হয়। অল্পদিনের ব্যবধানে ওই ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগি হয়ে পড়ে। উপজেলা প্রকৌশল দফতর থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলে ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরে তিন কক্ষ বিশিষ্ট একটি নতুন ভবন নির্মান করা হয়। শিক্ষক মন্ডলীর লাইব্রেরীর জন্য একটি কক্ষ রেখে অপর দু’টি শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষ হিসেবে ব্যবহারের জন্য দেয়া হয়। বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ম শ্রেণীতে ৭৯ জন, ২য় শ্রেণীতে ৬৬জন, ৩য় শ্রেণীতে ৮১, ৪র্থ শ্রেণীতে ৬৫ ও ৫ম শ্রেণীতে ৭৩ জন। প্রতি ৪০ জনে একজন করে শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বিদ্যালয়টিতে ৪১৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে মোট শিক্ষক আছেন ৫ জন। এর বাইরে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সহযোগিতায় স্থানীয়ভাবে দু’জন শিক্ষক স্বেচ্ছাশ্রমে পাঠদান করাচ্ছেন। উপজেলায় ১৮টি রেজিষ্টার্ড সরকারিকরণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে লেখাপড়ার গুনগত মানে এটি রয়েছে শীর্ষে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন সমস্যার কারণে ডিজিটাল যুগে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ সময় পার করলেও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানটি সরকারিভাবে তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা পায়নি। বিশেষ করে শ্রেণীকক্ষ সংকটে বিদ্যালয় সংলগ্ন পশ্চিম পাশের্^ দু’চালা টিনের ঘর নির্মাণ করে ছাত্র-ছাত্রীদের গাদাগাদি করে বসিয়ে পাঠদান দেয়া হচ্ছে। তাছাড়া নেই পর্যাপ্ত চেয়ার, টেবিল ও বেঞ্চ। ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের ব্যক্তিগত ফান্ড থেকে কিছু আসবাবপত্র ক্রয় করে প্রতিষ্ঠানটি চালানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে দু’চালা টিনের ঘরে প্রচন্ড গরম সহ্য করে শিক্ষার্থীদের পাঠ নিতে হচ্ছে। এতে করে শিক্ষার্থীরা নানামুখী সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সমস্যায় জর্জরিত প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষাদান মারাত্মকভাবে বিঘিœত হচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই।
রামনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কার্তিক চন্দ্র মন্ডল বলেন, আমাদের বিদ্যালয় লেখাপড়ার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে। এ জন্য বিদ্যালয়টি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এনে এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করছি। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুর রউফ বলেন, জরুরীভাবে স্কুল ভবন নির্মান ও আসবাবপত্র বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করা হয়েছে। ৫/৬ মাস অতিবাহিত হলেও এখনো কোনো রেজাল্ট পাইনি। নানাবিধ সমস্যার কারণে আমাদের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা শিক্ষা অফিসার সৈয়দা নার্গিস আক্তার বলেন, নতুন ভবন করার জন্য বরাদ্দ এসেছে। স্কুলের নাম ভুল আসার কারণে একটু সময় লাগছে। আশা করছি শীঘ্রই ওই স্কুলের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।