নিজেদের মধ্যেই শত্রু আছে : নাসিম

স্টাফ রিপোর্টার :‘একাত্তর সালে শত্রু চেনা যেত, এখন শত্রুদের চেনা যায় না’ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, ‘আমাদের নিজেদের মধ্যেই শত্রু আছে। ৭১ সালের শত্রু এখানেও থাকতে পারে। সেই শত্রু এখনও সক্রিয়।’ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভা সফল করতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা আয়োজিত বর্ধিত সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন। নাসিম বলেন, ‘আমাদের সামনে অনেকগুলো চক্রান্ত অপেক্ষা করছে। অধ্যাপক জাফর ইকবাল বসে ছিলেন এক অনুষ্ঠানে। পেছন থেকে তার ওপর হামলা হয়েছে। এখন আমার পেছনে যারা দাঁড়িয়ে তারা আমার কর্মী। পেছন দিয়ে কেউ যদি মেরে বসে, কী করবেন, বলেন? আমাদের নিজেদের মধ্যেই শত্রু আছে!’ তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়াকে আমরা জেলে পাঠাই নাই। তিনি একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বয়স্ক মহিলা। তাকে কারাগারে পাঠানো আমাদের জন্য স্বস্তির বা সুখকর নয়। কেউ জেলে থাকুক আমরা চাই না। জেলে থাকার অভিজ্ঞতা তো অনেকের চেয়ে আমার বেশি আছে। সেখানে কত কষ্ট হয় আমি জানি। আইনি পক্রিয়ায় তিনি জেলে গেছেন, আইনি প্রক্রিয়ায় উনি বের হয়ে আসবেন।’ বিএনপির উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, “আপনাদেরআইনজীবীরা যদি দক্ষ হন অবশ্যই উনি (খালেদা জিয়া) জেল থেকে বেরিয়ে আসবেন। কেউ কেউ বলছেন, ‘খালেদা জিয়া জেলে থাকলে প্রতিদিন ১০ লাখ ভোট বাড়ে।’ তার মানে উনি (মওদুদ) নিজেই চান তার নেত্রী জেলে থাকুক, প্রতিদিন ভোট বাড়ুক।” ‘এই আইনজীবী দিয়ে কেমনে আপনাদের নেত্রীকে বের করবেন? এ জন্য আমি বলেছি, এমন আইনজীবী বাদ দিয়ে অন্য আইনজীবী নেন। তাহলে তিনি বের হতে পারবেন’- যোগ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে জনপ্রিয়তা কমে-বাড়ে। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক ভুলত্রুটি হয়। গ্রামের মানুষ আনন্দে-স্বাচ্ছন্দ্যে আছে। বিদ্যুৎ দেয়া হয়েছে, রাস্তাঘাটের উন্নতি হয়েছে। তারা সন্তুষ্ট। কিন্তু শহরের লোকদের সন্তুষ্ট করা কঠিন। তাদের নিয়ে আমরা বিব্রত। ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে বলবো, শহরকে ঠিক করতে হবে। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভুলত্রুটি মাপ চেয়ে সব ঠিক করতে হবে। ঢাকা যা বলে সারা বাংলাদেশ তা করে।’ ঐতিহাসিক ৭ মার্চের জনসভা প্রসঙ্গে নাসিম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুও তার জীবনে এর চেয়ে বড় বক্তব্য দিতে পারেন নাই। সেই দিনে আয়োজিত এ জনসভা কোনো সাধারণ জনসভা নয়, বিশেষ জনসভা। এটি আনন্দ-উল্লাসের জনসভা। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শপথ নেয়ার জনসভা। নিজের মনের টানে আসবেন, সবাইকে নিয়ে আসবেন। এখানে আপনারা পরিবার নিয়ে আসবেন। জনসভা বড় হলে শত্রুর হৃদকম্প বাড়বে।’ ‘বেগম জিয়া ও বিএনপিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করতে চায় সরকার’- মির্জা ফখরুলের এমন মন্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ‘দোষ তো আমাদের নয়। শেখ হাসিনা আপনাদের আহ্বান করেছেন, সাড়া দেননি। নির্বাচন ভ-ুলের জন্য জ্বালাওপোড়াও করেছেন আপনারা। ফাঁকা মাঠে কে গোল দিতে চায় না, বলেন! ফাঁকা মাঠ দিলে আমরা কী করবো, বলেন! যথা সময়ে সবাইকে নিয়েই নির্বাচন হবে। এটা নিয়ে গবেষণা বা আলোচনার কিছু নাই।‘ আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘কাউকে বাদ দিয়ে নির্বাচন আমরা করতে চাই না। বিএনপিকে নিয়েই আমরা নির্বাচন করব। হ্যাটট্রিক জয় উপহার দেব শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। খেলেই আমরা গোল দেব।’ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।