এডিপির বাস্তবায়ন তিন বছরে সর্বোচ্চ

চলতি অর্থবছরের আট মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের হার তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এই সময়ে বাস্তবায়ন হয়েছে মোট বরাদ্দের ৩৮ দশমিক শূন্য এক শতাংশ, যা গত অর্থবছরে একই সময়ে ছিল ৩৬ দশমিক ৯১ শতাংশ। আর তার আগের বছর ছিল ৩৪ শতাংশ।  মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।   এই বাস্তবায়নের পরও কমানো হয়েছে এডিপির আকার। ছেঁটে ফেলা হয়েছে ৬ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা।  এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, বরাদ্দ কমানো হলেও চলতি অর্থবছরে সংশোধিত এডিপির বাস্তবায়ন অনেক বাড়বে। কেননা আবহাওয়া ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো।  তিনি বলেন, হলি আর্টিসান হামলার কারণে অনেকটা সময় প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়। তাই বৈদেশিক সহায়তা থেকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা বাদ দিতে হয়েছে। বাকি টাকা কমেছে সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে। এরপরও যদি কোনো প্রকল্পে টাকার প্রয়োজন হয়, যথাযথ যুক্তি উপস্থাপন করতে পারলে বরাদ্দ বাড়ানো যাবে।  পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করেছে ৬২ হাজার ৩৭২ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ব্যয় হয়েছিল ৪৫ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা এবং তার আগের ২০১৫-১৬ অর্থবছরেও ব্যয় হয়েছিল ৩৪ হাজার ৬৭৫ কোটি টাকা।  পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, এ অর্থবছরের আট মাসে সর্বোচ্চ এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছে। সেটি টাকার অঙ্কে যেমন অনেক বেশি তেমনি শতাংশের দিক থেকেও অনেক বেশি। মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো অনেক বেশি ভালো করছে। আমরা চাই আরও অনেক বেশি ভালো কাজ হোক। তবে যাতে মানসম্মত কাজ হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।  পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) হিসাব অনুসারে, এডিপি বাস্তবায়নে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এই বিভাগটি মোট বরাদ্দে ৭৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় করেছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগ বাস্তবায়ন করেছে ৪৯ দশমিক শূন্য এক শতাংশ। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বাস্তবায়নের হার ৩৭ দশমিক ১০ শতাংশ। এরপর সর্বোচ্চ অর্থ ব্যয় করতে পারা মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে রয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ৪২ শতাংশ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২৮ দশমিক ৯১ শতাংশ, সেতু বিভাগ ২৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ২৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ৩২ দশমিক ২০ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে।  অন্যদিকে বাস্তবায়নে পিছিয়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এর মধ্যে সংসদ সচিবালয় এক দশমিক ৭৩ শতাংশ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪ দশমিক ৬৩ শতাংশ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ বাস্তবায়ন করেছে।