মানবতাবিরোধী অপরাধ : গফরগাঁওয়ের ১১ জনের বিচার শুরু

স্টাফ রিপোর্টার : মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ময়মনসিংহের গফরগাঁও উজেলার ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন ট্রাইব্যুনাল। আগামী ১২ এপ্রিল আসামিদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।  আসামিদের মধ্যে গ্রেফতার ৫ জন হলেন- ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের সাধুয়া গ্রামের মো. খলিলুর রহমান (৬২), একই গ্রামের মো. সামসুজ্জামান ওরফে আবুল কালাম (৬৫), একই গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ (৬২), মো. রইছ উদ্দিন আজাদী ওরফে আক্কেল আলী (৭৪) এবং ভালুকা উপজেলার রাজৈ ইউনিয়নের খুর্দ্দ পনাশাইল গ্রামের মো. আব্দুল মালেক আকন্দ ওরফে আবুল হোসেন ওরফে আবুল মেম্বার (৬৮)। বাকী ছয়জন পলাতক।   রোববার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন। আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর সাহিদুর রহমান ও রেজিয়া সুলতানা চমন। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আব্দুস শুকুর খান ও আব্দুস সাত্তার পালোয়ান।  পরে রেজিয়া সুলতানা চমন জানান, চারটি অভিযোগে ওই ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ১২ এপ্রিল দিন ঠিক করা হয়েছে।  এর আগে গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নি সংযোগ, অপহরণ, আটক, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের চারটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে।  এর মধ্যে রয়েছে ৪ জনকে হত্যা, ৯ জনকে আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের সাধুয়া গ্রাম ও টাঙ্গাব ইউনিয়নের রৌহা গ্রাম এলাকায় তারা এসব অপরাধ করেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।  আসামিদের বিরুদ্ধে ২০১৪ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে তদন্ত শুরু করে গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। ৬০ জনের জবানবন্দি নেওয়া হলেও একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জব্দ তালিকার দু’জনসহ মোট ৩১ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে সামসুজ্জামান ও মো. রইছউদ্দিন আজাদী জামায়াত, মো. আব্দুল মালেক বিএনপি ও মো. খলিলুর রহমান জাতীয় পার্টির সক্রিয় সমর্থক।