জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারীর মামা ও চাচা আটক

সিলেট সংবাদদাতা : সিলেটে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর হামলাকারী ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুলের এক মামাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, যিনি কৃষক লীগের একজন জেলা পর্যায়ের নেতা। এছাড়া র‌্যাব সদস্যরা সুনামগঞ্জে ফয়জুলের গ্রামে অভিযান চালিয়ে আটক করেছে তার চাচাকে। শনিবার গভীর রাতে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কুমারগাঁওয়ের শেখপাড়ায় ফয়জুলের বাসায় অভিযান চালিয়ে তার মামা ফজলুর রহমানকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। জালালাবাদ থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ফজলুর রহমান সুনামগঞ্জ জেলা কৃষক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। ওই বাসা ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়জুলের আত্মীয়-স্বজন আর কাউকে পাওয়া যায়নি। এদিকে র‌্যাব সদস্যরা রোববার সকালে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার জগদল ইউনিয়নের কালিদারকাপন গ্রামে অভিযান চালিয়ে ফয়জুলের চাচা আব্দুল কাহেরকে আটক করে। সুনামগঞ্জ র‌্যাব-৯ এর কোম্পানি কমান্ডার ফয়সাল আহমেদ  বলেন, “ফয়জুলের বাড়ি তালাবন্ধ, সেখানে কেউ নেই। পাশের বাড়ি থেকে তার চাচা কাহেরকে আটক করা হয়। তাকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করছি।” ফয়জুলের বাবা মাওলানা আতিকুর রহমান সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের পার্শ্ববর্তী টুকেরবাজারে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। তবে তিনি এখন কোথায়, তা জানাতে পারেননি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।  সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল। শনিবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে এক তরুণ ছুরি নিয়ে অধ্যাপক জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালায়। ছুরির আঘাতে জনপ্রিয় এই লেখকের মাথায় চার জায়গায় এবং বাঁ হাত ও পিঠে জখম হয়। হামলার পরপরই ওই তরুণকে ধরে ফেলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তাকে বেদম পেটানোর পর পুলিশ ও র‌্যাব কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাকে নেওয়া গয় র‌্যাব হেফাজতে। হামলাকারী তরুণের ছবি সংবাদমাধ্যমে আসার পর তার পরিচয় শনাক্ত করেন প্রতিবেশীরা। তারা জানান, ফয়জুর রহমান ওরফে ফয়জুল নামের এই তরুণ নিজেকে মাদ্রাসাছাত্র বলে পরিচয় দিতেন। পরিবারের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শেখপাড়ায় থাকেন তিনি। পরিচয় জানার পর গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শেখপাড়ায় অভিযান চালিয়ে ফয়জুলের মামাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। র‌্যাব-৯ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমদ রাতে সাংবাদিকদের বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদে ওই তরুণ বলেছে, জাফর ইকবাল ইসলামের শত্রু। তাই তাকে হত্যার উদ্দেশে হামলা করেছি।” সে নিজের পরিচয় নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর’ দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “সে বলেছে, সে সিলেট আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র। তবে আমরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার সত্যতা পাইনি।”