সিংগাইরের গোলাম রব্বানির বীজবিহীন লেবু চাষে সাফল্য

মাসুম বাদশাহ্, সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) থেকে : ভিটামিন ‘সি ’এর প্রধান উৎস লেবু চাষ করে মাত্র ৩ বছরেই সফল হয়েছেন মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের ইরতা-কাশিমপুর গ্রামের এ,কে,এম গোলাম রব্বানি (৫০)। চাকুরি ছেড়ে তিনি এখন সফল লেবু চাষী। ১২ মাস ফলন দেয়া বীজবিহীন হাইব্রিড কাগজি লেবুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় আর্থিকভাবে ও হচ্ছেন লাভবান। প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টাকার লেবু বিক্রি করছেন তিনি।
তার লেবু বাগনে গত শুক্রবার কথা হয় গোলাম রব্বানির সাথে। তিনি জানান, বেসরকারি সংস্থা প্রশিকার এলাকা সমন্বয়কারি হিসেবে চাকুরিকালীন সময়ে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি ইউনিয়নে প্রচুর লেবু বাগান দেখতে পান। চাষীদের সংগে কথা বলে তিনি লেবু বাগান করতে উৎসাহী হন। ২০১৫ সালে প্রতিটি ৪০ টাকা করে ৫শ’টি সীডলেস লেবুর চারা ক্রয় করেন তিনি। ওই বছরই বাড়ির পাশে ১০০ শতক জমিতে লেবুর চারা রোপন করেন। সেই সংগে সাথী ফসল হিসেবে ধনে পাতা,পালং শাক ও মিষ্টি কুমড়া আবাদ করেন। খরচের বেশির ভাগ টাকা এ ফসল থেকে ওঠে আসে। ৬ মাস যেতে না যেতেই ওই বাগানে লেবু ধরা শুরু করে। এক বছর পর থেকে পুরোদমে ফলন হতে থাকে।
গোলাম রব্বানি আরো জানান, বাগানের পরিচর্যার জন্য গত ২ বছর আগে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। স্ত্রী জিয়াসমিন আক্তার, মেয়ে তাসমিন বিনতে রব্বানি (১৭) ও লাবিবা বিনতে রব্বানিকে নিয়ে লেবু বাগানের আয় দিয়েই ভালভাবেই সংসার চালাচ্ছেন। তিনি আরো জানান, সঠিক ভাবে পরিচর্যা করলে একাধারে ২০ বছর পর্যন্ত ফলন দিবে এ লেবু গাছ। বছরে একবার ডালপালা ছাটা এবং মাটি কোপাতে টাঙ্গাইল থেকে ৬ -৮ জন শ্রমিক এক সপ্তাহের জন্য আনতে হয়। প্রতি ৩ মাসে একবার নিড়ানী ও ২/৩ মাস অন্তর সেচ দিতে হয়। গত বছর নিজের উৎপাদিত কলম চারা দিয়ে আরো ৪০ শতক জমিতে নতুন বাগান তৈরি করেছেন তিনি। নতুন বাগানেও লেবু ধরা শুরু করেছে। এছাড়া প্রতিটি কলম চারা ৫০ টাকা করে বিক্রি করছেন। এ বাগান থেকে গত বছর প্রায় ৩ লক্ষ টাকার লেবু বিক্রি করেছেন। চলতি আরো অধিক টাকার লেবু বিক্রি করবেন বলে তিনি আশাবাদি।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ টিপু সুলতান সপন বলেন, লেবু বাগানের মালিক এ,কে,এম গোলাম রব্বানি সাহেবকে সার্বক্ষনিক সঠিক পরার্মশ দিয়ে আসছি। লেবুচাষ লাভজনক হওয়ায় ইতিমধ্যেই উপজেলার চারিগ্রাম, ধল্লা ও চান্দহর ইউনিয়নে একাধিক বাগান গড়ে ওঠেছে।