দেশের উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি কৃষি : প্রধানমন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কৃষি আমাদের দেশের উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি। বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বে আমরা জায়গা করে নিয়েছি। ধান, মাছ, মাংস, আম, পেয়ারা ও ছাগল উৎপাদনে বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। তিনি বলেন, শুধু দেশের মানুষের চাহিদা মেটানোই নয়, বিদেশে রফতানির লক্ষ্য নিয়ে কৃষির উন্নয়নে এগিয়ে যেতে হবে।  বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২৩ এর পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণি সম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ।   দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কৃষিতে বিশেষ অবদান রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রী ৩২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪২৩ এর পদক পরিয়ে দেন। পুরস্কার প্রাপ্তদের মধ্যে ৫টি স্বর্ণ পদক, ৯টি রৌপ্য পদক এবং ১৮টি ব্রোঞ্জ পদক প্রদান করা হয়।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সাল থেকে কৃষিবান্ধব নীতি গ্রহণ করায় কৃষিতে আধুনিকায়ন ঘটছে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কৃষি সমাদৃত হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকারের ধারাবাহিকতা থাকার কারণে কৃষিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন দৃশ্রমান হচ্ছে।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের পুনর্গঠনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন কৃষিতে। এ করণে তিনি জানতেন, কৃষিই বদলে দিতে পারে মানুষের আর্থ-সামাজিক অবস্থা। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে কৃষি উন্নয়নে অনুপ্রেরণা যোগাতে কৃষিক্ষেত্রে অবদানের জন্য ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ প্রবর্তন করেন। তিনি উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবদ, উন্নতবীজ, সার, সেচ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ করে কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যে স্ব-নির্ভরতা অর্জনের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন।  শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৯ সাল থেকে কৃষির সার্বিক উন্নয়নে কৃষিবান্ধব নীতি ও সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সার, বীজসহ সকল কৃষি উপকরণের মূল্যহ্রাস, কৃষকদের সহজশর্তে ও স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা প্রদান, ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগসহ তাঁদের নগদ সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এই টাকা থেকে কৃষক যতটুকু পারছে খরচ করছে, আবার ব্যাংক একাউন্ট থাকার কারণে সেখানে কিছু সঞ্চয়ও হচ্ছে।