প্রস্তাব পেলে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থায়ন: এডিবি

বাংলাদেশ চাইলে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে অর্থায়ন করবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সরকার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে সংস্থাটি। এই সেতু নির্মাণে পাঁচ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। এই পরিমাণ অর্থায়নের সক্ষমতা এডিবির আছে কিনা তাও ভাবতে হবে। তবে এই সেতু নির্মাণের সঙ্গে এডিবি যুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন এডিবির প্রেসিডেন্ট তাকেহিকো নাকাও। বাংলাদেশের জন্য অর্থ কোনও সমস্যা নয় বলেও জানান তিনি।  বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সফররত তাকেহিকো নাকাও রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এডিবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আগ্রহের কথা জানান। এ সময় তিনি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ সময় বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ উপস্থিত ছিলেন।   সংবাদ সম্মেলনে তাকেহিকো নাকাও বলেন, ‘বাংলাদেশের জিডিপি বাড়াতে এডিবি অবকাঠামো খাতে, বিশেষ করে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি, যোগাযোগ ও নগর উন্নয়নে ঋণ সহায়তা অব্যাহত রাখবে।’ এর বাইরে এডিবি এফডিআই বাড়াতেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে বলে জানান তিনি।  এডিবি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘২০১৬ থেকে ২০২০ পর্যন্ত এই পাঁচ বছরে বাংলাদেশকে আট বিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে এডিবির। এটি আগের পাঁচ বছরের অর্থাৎ (২০১১ থেকে ২০১৫) তুলনায় ৬০ শতাংশ বেশি।’  এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাশ বলেন, ‘দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণে সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রয়োজন হলে এডিবি অতিরিক্ত অর্থ সহায়তা দেবে। সরকারের যে ১০টি মেগা প্রকল্প রয়েছে, চাইলে এডিবি সেগুলোতেও বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত আছে।’  তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ভালোভাবেই পরিচালিত হচ্ছে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়াতে বাংলাদেশ সঠিক পথেই রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ভালো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে, অর্থনীতির অন্যান্য সূচকও ইতিবাচক। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে হবে। বাড়াতে হবে রাজস্ব আদায়।’  তিন দিনের সফরে সোমবার রাতে ঢাকায় আসেন এডিবি প্রেসিডেন্ট তাকেহিকো নাকাও। ১৯৭৩ সালে এডিবির সদস্য হওয়ার পর থেকেই আন্তর্জাতিক এই উন্নয়ন সংস্থাটি বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ঋণ সহায়তা দিয়ে আসছে।