ধামরাইয়ে বংশাই নদী থেকে বালু উত্তোলন ফসলি জমি ঘরবাড়ী নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা

ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের আড়ালিয়া বাজার এলাকায় বংশাই নদী থেকে অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে করে এলাকার রাস্তা-ঘাট বাড়ি ঘর ও শতাধিক প্রান্তিক চাষীর ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করেছে এলাকাবাসী।
সরেজমিন ধলেশ^রী নদীতে গিয়ে দেখা যায়, ধামরাইয়ের কুল্লা ইউনিয়নের সীতিপাল্লী এলাকার অসাধু ব্যক্তি লাল মিয়া অবৈধভাবে নদীতে ড্রেজার বসিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার ঘনফুট বালি উত্তোলন করে তা বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তিনি। এতে করে ওই এলাকার পরিবেশের ক্ষতির পাশাপাশি ভয়াবহ রুপ নিচ্ছে নদী ভাঙ্গন।
সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত লাল মিয়ার অধিনে ৩ জন শ্রমিক ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে বালু উত্তোলনের ফলে সেখানকার ফসলী জমি, রাস্তা-ঘাট বাড়ি ঘর হুমকির মুখে রয়েছে। ইতিমধ্যে নদীর দু’পাড় ভাঙতে শুরু করেছে। ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলায় নদীর বিভিন্ন স্থানে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার সাধারণ মানুষ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানালেও তা বন্ধ হচ্ছে না। এদিকে এলাকাবাসী বালু উত্তোলন বন্ধ করার কথা বললে অবৈধ বালু ব্যবসায়ী লাল মিয়া তাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছেন। এ কারণে ভয়ে অনেকে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।
বালু তোলায় বংশাই নদী তীরবর্তী বহু লোকের জমিজমা নদী গর্ভে বিলীন হওয়ায় আশংকা দেখা দিয়েছে। এলাকার বাসিন্দা মিজানুর, সেলিম, জাহিদ, আসকর আলী বলেন, আমরা ড্রেজার মেশিনের শব্দে দিনে বাড়ি ঘরে থাকতে পারছি না। এছাড়া স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা বাড়িতে পড়াশুনা করতে পারছে না আমরা বর্তমানে খুব সমস্যার মধ্যে আছি। স্থানীয় প্রশাসন সব কিছু দেখেও না দেখার ভান করছে। এ ব্যাপারে অবৈধ বালু উত্তোলনকারী লাল মিয়া বলেন আপনারা এখানে এসেছেন চা খেয়ে চলে যান কোন নিউজ ফিউজ করার দরকার নাই। আমরা তো আপনাদেরই ভাই ব্রাদার।
এবিষয়ে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল কালাম বলেন, যদি নদী থেকে কেউ বালু উত্তোলন করে থাকে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা কয়েকটি অভিযোগ পেয়েছি অচিরেই অবৈধ বালু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ধলেশ^রী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ মালেকসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষেরা।