ধামরাইয়ে ধর্ষণের শিকার অন্ত:সত্ত্বা স্কুলছাত্রীর গর্ভপাত, ৬দিন পর নবজাতকের লাশ উদ্ধার

ধামরাই প্রতিনিধি : ধামরাইয়ের গোপালকৃষ্ণপুর গ্রামের এক ভ্যান চালকের মেয়ে স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়ে গর্ভপাত ঘটানোর পর নবজাতকের লাশ মাটি চাপা দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে ছয়দিন পর বুধবার স্থানীয়রা নবজাতকের লাশটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ধর্ষকের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে। ছাত্রীর মা বাদী হয়ে একই গ্রামের বৃদ্ধ ধর্ষক নূর মোহাম্মদকে আসামি করে বুধবার বিকেলে ধামরাই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে ধর্ষিতা, তার পরিবার ও এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা গেছে, উপজেলার নান্নার ইউনিয়নের গোপালকৃষ্ণপুর গ্রামের মৃত নান্দু মিয়ার ছেলে নুর মোহাম্মদের বাড়ীতে সাংসারিক কাজ করতো একই গ্রামের দ্ররিদ্র ভ্যান চালকের স্ত্রী ও মেয়ে রোজিনা (ছদ্মনাম)। কাজ শেষে মাঝেমধ্যে রাতে নুুরু মোহাম্মদের বাড়ীতেই ঘুমাতো রোজিনা। এ সুযোগে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে চার সন্তানের জনক ৭০ বছরের বৃদ্ধ নুরু মোহাম্মদ। এরপর ধর্ষণের কথা প্রকাশ করলে রোজিনাকে জীবনে মেরে ফেলার হুমকি দেয় প্রভাবশালী নুরু মোহাম্মদ। পরে মেয়েটি অন্তসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এদিকে রোজিনার শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের লোকজনের জিজ্ঞাসায় বিস্তারিত ঘটনা খুলে বলে রোজিনা। পরে তার মা নান্নার বাজারের ডাক্তার ডালিম হোসেনের কাছে নিয়ে যান রোজিনাকে। ডালিম হোসেনের দেওয়া বিভিন্ন ধরনের ওষধ খেয়ে গত শুক্রবার রাতে গর্ভপাতের ঘটনা ঘটে। লোকলজ্জার ভয়ে ওই রাতেই এলাকার কাউকে না জানিয়ে প্রসবকৃত প্রায় দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের মৃত ছেলে নবজাতককে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে বিলের পাশে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয় বলে জানান রোজিনার মা ও তার স্বজনরা। বিষয়টি সোমবার রাতে স্থানীয় মাতাব্বর কিয়ামুদ্দিন মিমাংসার চেষ্টা করে।

এদিকে মেয়ের অনাগত ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ধর্ষিতার মা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানীয়রা তাকে কালামপুর জনতা ক্লিনিকে ভর্তি করে। এরপরই বিষয়টি পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বুধবার এলাকাবাসী মাটিচাপা দিয়ে রাখা ওই নবজাতকের লাশটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় গ্রামবাসী নুর মোহাম্মদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে। এ ঘটনার পরই অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ এলাকা থেকে গা ঢাকা দিয়েছে। বুধবার বিকেলে ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে ধর্ষক নুর মোহাম্মদকে আসামি করে ধামরাই থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত ১০টা) ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিদর্শন করেনি বলে জানান মেয়েটি ফুফু। তবে নবজাতকের লাশটি স্থানীয় চৌকিদারের প্রহরায় রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে ডাক্তার ডালিম হোসেন রোজিনাকে ওষধ দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন।

রোজিনা জানায়, আমাকে নুরু মোহাম্মদ ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেছে। ধর্ষণের কথা প্রকাশ করলে মেরে ফেলার হুমকি দেয় নুরু মোহাম্মদ। আমি তার শাস্তি চাই।

রোজিনার মা বলেন,আমি ও আমার মেয়ে নুরু মোহাম্মদের বাড়ীতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালাইতাম। এ সুযোগে আমার মেয়ের সর্বনাশ করে নুরু মোহাম্মদ। আমি উপযুক্ত বিচারের দাবি জানাই।

স্থানীয় চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন বলেন, নবজাতকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে শুনেছি। বিষয়টি অমানবিক। অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদের স্ত্রী কমলা বেগম বলেন, আমার স্বামী এই কাজ করতে পারেনা।

এ ব্যাপারে ধামরাই থানার ওসি রিজাউল হক অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। রোজিনা কালামপুর আমাতন নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী।