বিস্ফোরণ, হাতাহাতি, চট্টগ্রামে ছাত্রলীগের সম্মেলন পন্ড

ককটেল বিস্ফোরণ আর হাতাহাতিতে পণ্ড হয়ে গেছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন। গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের উপস্থিতিতে এ ঘটনা ঘটে। আজ মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১২টার দিকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সাকিব হোসেন সুইম। এমন সময় সম্মেলনস্থলের পাশে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দিগ্বিদিক দৌড়াতে থাকেন উপস্থিত সবাই। এক পর্যায়ে ছাত্রলীগের কয়েকটি পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। এরপর শুরু হয় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া। বিশৃঙ্খল এ পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকজন আহত হন।  ছাত্রলীগের কয়েক পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি থামানোর চেষ্টায় বার বার আহ্বান জানান গণপূর্তমন্ত্রীসহ উপস্থিত ছাত্রলীগের নেতারা। এসব আহ্বান উপেক্ষা করে মারামারি চলতেই থাকে। পরে মন্ত্রী মোশাররফ হোসেন মাইকে বলেন, হামলাকারীরা বহিরাগত। এরা সংগঠনের কেউ নয়। ককটেল বিস্ফোরণের পর বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্রলীগের সমর্থকরা মিছিল করে সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয় ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউট এলাকায়।  বেলা ১টা পর্যন্ত সম্মেলন চালিয়ে যেতে ব্যর্থ হওয়ায় গণপূর্তমন্ত্রীসহ অতিথিরা সম্মেলনস্থল ত্যাগ করেন। অতিথিরা চলে গেছে ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউটের আশপাশের সড়ক অবরোধ করতে থাকে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব দাবি করেন, বক্তারা জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। তখনই ককটেল হামলা হয়। এ বিশৃঙ্খলার জন্য জামায়াত-শিবির দায়ী বলে তিনি অভিযোগ করেন। সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করে বিকালে দ্বিতীয় অধিবেশন করার কথা জানায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ।
ওদিকে, সম্মেলনস্থান ত্যাগ করার আগে গণপূর্তমন্ত্রী হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশকে নির্দেশ দেন। মন্ত্রী ছাড়াও সম্মেলনে রাউজানের সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরী, রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ হাছান মাহমুদ ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনসহ শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।