খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে সরকার চোরাবালিতে আটকে গেছে: নজরুল

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, মিথ্যা, সাজানো ও বানোয়াট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে সাজা দিয়ে বর্তমান সরকার চোরাবালিতে আটকে গেছে।  সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের তৃতীয় তলায় নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ আয়েজিত নার্স সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।  নজরুল ইসলাম বলেন, খালেদা জিয়াকে সরকার প্রতিহিংসামূলকভাবে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে। কিন্তু দেশের মানুষ এটাকে ভালোভাবে নেয়নি। সবাই সরকারের এমন আচরণের নিন্দা জানিয়েছে। খালেদা জিয়ার জামিনে বাধা দিয়ে সরকার চোরাবালির আরও গভীরে পৌঁছেছে।   তিনি বলেন, খুনের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ও দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্তরা জামিন পেলেও খালেদা জিয়াকে জামিন দেয়া হচ্ছে না। অনেক খুনের আসামির আপিল গ্রহণের সাথে সাথেই জামিন হচ্ছে কিন্তু খালেদা জিয়ার জামিন নথির কথা বলা হচ্ছে।  বিএনপি’র এই নীতিনির্ধারক বলেন, সাবেক সেনা সরকারের সময় শুধু খালেদা জিয়া নয় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের অনেক নেতার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা হয়েছে। কিন্তু খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের মামলাগুলো সচল রাখা হয়েছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলকভাবে।  নজরুল বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এক-এগারোর সরকার ১৫টি মামলা করেছে। তিনি যখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তখন তার মাথার উপর ১৫টি দুর্নীতির মামলা ছিলো। কিন্তু সেগুলোকে আদালতের মাধ্যমে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।  নজরুল ইসলাম খান বলেন, ২ কোটি টাকার জন্য খালেদা জিয়ার ৫ বছরের সাজা হলে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির জন্য কত বছর জেল হবে? শেয়ারবাজার, হলমার্ক, বিসমিল্লাহ গ্রুপের কেলেঙ্কারির জন্য কত বছর সাজা হবে? বিচারের হাত থেকে বাঁচার জন্যই এসব লুটে-দুর্নীতিবাজরা চায় বর্তমান সরকার আবারো ক্ষমতায় থাকুক।  তিনি বলেন, বিএনপি দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল আর সে দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের সবচেয়ে বেশী জনপ্রিয় নেত্রী। তাই বিএনপি চেয়ারপারসনের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে তাকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে।  বিএনপির এ নেতা বলেন, খালেদা জিয়া সরকারে সব অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবাদ করেন, গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করছেন তাই বর্তমান সরকারে প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। মিথ্যা সাজানো মামলায় অন্যায়ভাবে সাজানো দেয়া হয়েছে।  জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদের সমালোচনা করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আপনারা বলেছেন বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা আপনাদের দলে যোগ দিবেন। কই আজ আপনারা? কয়জন বিএনপি’র সিনিয়র নেতা বা কর্মী আপনাদের দলে যোগ দিয়েছেন? আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশী শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ।  আয়োজক সংগঠনের সভাপতি জাহানারা সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে নার্সেস সমাবেশে বিএনপি’র ভাইস-চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহামন হাবিব, ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও’ আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ নেতারা বক্তব্য দেন।