আশুলিয়ায় মাছ ব্যবসায়ীদের হাতে এএসআই লাঞ্ছিত, আটক ৬

আশুলিয়া ব্যুরো : মাছ কিনতে গিয়ে মাছ ব্যবসায়ীর সাথে বাক-বিতন্ডার জেরে মাজেদুল (৩০) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীকে আশুলিয়া থানা সহকারি উপ-পরিদর্শক নিজাম উদ্দিন জামার কলার ধরে ঘুষি দেয়। এ ঘটনায় আড়তের মাছ ব্যবসায়ীরা মিলে পুলিশের ওই কর্মকর্তাকে লঞ্ছিত করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার সকাল সোয়া ৯টায় আশুলিয়ার বাইপাইল মোড়ে হাজী সদর আলী কমপ্লেক্সের মাছের আড়তে এ ঘটনা ঘটে। আটককৃত মাছ ব্যবসায়ীরা হলো-মাজেদুল (৩০), সোহাগ (৩২), রমজান (৫২), আনোয়ার (২৬), নুরুজ্জামান ((২৩) ও আতাউর রহমান (৪২)।

এ ব্যাপারে মাছ ব্যবসায়ীরা জানান, সকালে একজন ক্রেতা (থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক নিজাম উদ্দিন) মাছ কিনতে আসেন। মাছের দাম ৭ শ’ টাকা হাকা হয়। পাশের ব্যবসায়ী ওই মাছ ৬ শ’ টাকায় দিতে বললে ওই ক্রেতা সকলকে দালালের বাচ্চা বলে গালি দেয়। এ ঘটনায় পাশর্^বর্তী মাছ ব্যবসায়ী ও ওই ক্রেতার সাথে বাক-বিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে ওই ক্রেতা মাছ ব্যবসায়ী মাজেদুলকে জামার কলার ধরে মুখ-মন্ডলে ঘুষি দেয়। এ ঘটনায় ওই আড়তের মাছ ও সবজি ব্যবসায়ীরা মিলে আশুলিয়া থানা পুলিশের এএসআই নিজাম উদ্দিনকে লঞ্ছিত করেছে। এতে সে গুরুতর আহত হন। পরে বাইপাইল এলাকার ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে উদ্ধার ও ৬ মাছ ব্যবসায়ীকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তারা আরো বলেন, এ ঘটনায় আটক মাছ ব্যবসায়ী মাজেদুল এর ২ লাখ টাকার মাছ, সোহাগের ৩০ হাজার, আনোয়ারের ২০ হাজার ও আতাউর রহমান এর ৬০ হাজার টাকার মাছ অবিক্রিত অবস্থায় আড়তে পড়ে রয়েছে।

ঘটনাস্থলে আশুলিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আউয়াল ও ইন্সপেক্টর (তদন্ত) পরিদর্শন করেছেন এবং মার্কেটের মালিক হাজী সদর উদ্দিন ও সভাপতি খলিলুর রহমানসহ মাছ ব্যবসায়ীদের নিয়ে অফিসার ইনচার্জের কক্ষে সমাধানের জন্যে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন।

জানতে চাইলে আহত সহকারি উপপরিদর্শক নিজাম উদ্দিন বলেন, মাছ কিনতে গিয়ে মাছের দাম বলার পর তাকে দেয়া হয়নি। পরে পাশের এক মাছ ব্যবসায়ী ৬ শ’ টাকায় দেয়ার জন্য বললে সে বিষয় নিয়ে বাক-বিতন্ডার জেরে ব্যবসায়ীরা তার ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে সে নিজেকে আশুলিয়া থানা পুলিশ এর সহকারি উপ-পরিদর্শক পরিচয় দিলে মাছ ব্যবসায়ীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে অনৈতিকভাবে তাকে বেদম মারধর করে। একপর্যায়ে ট্রাফিক পুলিশ ও থানা পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। তার দুই হাত,  মুখ-মন্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে নীলা-ফুলা জখম করেছে বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানা ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আতাউর রহমান বলেন, উভয়ের ভুল বোঝাবুঝির কারণে একটি অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। ব্যবসায়ীদের সাথে সমঝোতা ও সমাধান হয়েছে।

এ সম্পর্কে ওই মাছের আড়তের সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত ব্যবসায়ীরা পা ধরে ক্ষমা চেয়েছে ওই আহত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে। তিনিও তাদের ক্ষমা করে দিয়ে অভিযুক্তদের ছেড়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।