মিয়ানমার জেনারেলদের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি ইইউয়ের

ফুলকি ডেস্ক : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় দেশটির জেনারেলদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। যেসব জেনারেলের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা আনা হবে তাদের নামের একটি তালিকা প্রস্তুত করতে পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধানকে আগামী সপ্তাহেই অনুরোধ জানানো হবে। একই সঙ্গে আগামী জুলাইতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে দমন অভিযানের ঘটনায় কম্বোডিয়ার ওপরও ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স।  ইইউয়ের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বৃহস্পতিবার এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত মিয়ানমারের ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায় অতি দ্রুত সেসব প্রস্তাব সামনে আনতে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান মোঘেরিনিকে আহ্বান জানাবেন ইউরোপীয় দেশগুলোর মন্ত্রীরা।   শুক্রবার ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক খবরে বলা হয়েছে, কম্বোডিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আনা হতে পারে। চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক করা হবে। কম্বোডিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যর বিষয়গুলোও আরো পর্যবেক্ষণ করা হবে।  বৃহস্পতিবার জার্মানি জানিয়েছে, তারা কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন, ঊচ্চ পদস্থ সেনা কর্মকর্তা এবং দেশটির সুপ্রিম কোর্টের প্রেসিডেন্টসহ সরকারি কর্মকর্তাদের ভিসা স্থগিত করেছে।  রোহিঙ্গা মুসলিমদের অত্যাচার, নির্যাতনের ঘটনায় নতুন করে মিয়ানমার জেনারেলদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি বা তাদের সম্পদ জব্দের পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা হবে মিয়ানমারের ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়নের কঠোরতম পদক্ষেপ। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা অনেক আগেই মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের ওপর এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে।  নব্বইয়ের দশক থেকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ মিয়ানমারের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইইউ। ওই নিষেধাজ্ঞা এখনও জারি রয়েছে। কীভাবে তা আরও জোরদার করা যায় সে বিষয়ে সোমবার মোঘেরিনি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র দপ্তরকে আহ্বান জানাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।  আগামী সোমবার ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের স্বাভাবিক বৈঠকের পর এ বিষয়ে একটি বিবৃতি আসতে পারে বলে আভাস  পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ওই বিবৃতিতেই মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ডিসেম্বরের ১২ তারিখে গ্রেফতার হওয়া রয়টার্সের দুই সাংবাদিকে মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানানো হতে পারে।  ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রয়টার্সের একটি প্রতিবেদন তৈরির জন্য কাজ করছিলেন ওই দুই সাংবাদিক। রাখাইনের স্থানীয় বৌদ্ধ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা ওই ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করে গণকবরে মাটি চাপা দেয়।  কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, মিয়ানমারের কোন কোন জেনারেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আনা হতে পারে সে বিষয়ে এখনও কোনো আলোচনা হয়নি। তবে রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অভিযানের নেতৃত্ব দেয়ায় গত ডিসেম্বরে মিয়ানমারের মেজর জেনারেল মং মং সোয়ের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।  রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অভিযানকে জাতিগত নিধনযজ্ঞ বলে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘ এবং যুক্তরাষ্ট্র। সেনাবাহিনীর অত্যাচার, নির্যাতনের কারণে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা রাখাইন ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।