সাভার প্রেসক্লাব থেকে নানা অভিযোগে বহিস্কৃত মিঠুন সরকারকে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন (ভিডিও)

চাঁদাবাজীসহ  নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত মিঠুন সরকারকে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে সাভারের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন । বৃহস্পতিবার সকালে সাভার নাগরিক সমাজের আয়োজনে পৌর এলাকার গেন্ডা বাসষ্ট্যান্ডে ঢাকা আরিচা মহাসড়কে  এ মাববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয় ।
আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচীতে উপস্থিত বক্তরা মিঠুন সরকারেক সামাজিকভাবে বয়কট করে অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সাথে স্বাধীনতার সাথে সম্পৃক্ত একাত্তর মিডিয়া থেকে তাকে বরখাস্তের জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।
নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক ও সাভার নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি কৃষিবিদ ড. রফিকুল ইসলাম ঠান্ডু মোল্লার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, নাগরিক সমাজের যুগ্ম আহ্বায়ক ইয়াকুব হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ম. হামিদ রঞ্জু, বীর মুক্তযোদ্ধা তারেক মমতাজুর রহমান,সাভার উপজেলা শিশু সুরক্ষা মনিটরিং কমিটির সভাপতি মিসেস রোকেয়া হক, সাভার ক্লাবের সভাপতি আব্দুল কাদের তালুকদার, সাভার নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সাধারন সম্পাদক মুহাম্মদ সামসুল হক, জসিম উদ্দিন পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আখম সিরাজুল হক , সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সাধারন সম্পাদক  স্মরন সাহা, উদীচী শিল্পী গোষ্ঠির সভাপতি বাবুল মোড়ল,উদীচী শিল্পী গোষ্ঠির সাধারন সম্পাদক সাজেদা বেগম সাজু,অগ্রগামী শিশু পরিষদের সাবেক সভাপতি মনি মুক্তা প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে  কৃষিবিদ ড. রফিকুল ইসলাম ঠান্ডু মোল্লা বলেন, একাত্তরের রক্ত¯œাত যে টিভি, একাত্তরের ইতিহাস গাথা যে টিভি সেই টিভিকে আমরা সন্মান জানাই। আমি ব্যক্তিগতভাবে একাত্তর টেলিভিশনের যে সংবাদ বিশ্লেষন তা না দেখে রাতে ঘুমাতে যাইনা। সেই চ্যানেলে মিঠুনের মতো একটা নোংরা ও কুকর্মের হোতাকে নিয়োগ দেয়ায় আমরা এর তিব্র নিন্দা জানাই। তার অত্যাচারে সাভারবাসী অতিষ্ঠ। মিঠুন সরকারের মতো লোক যদি ৭১ চ্যানেলের সাংবাদিক হয় তাহলে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। তাই অবিলম্বে মিঠুন সরকারকে একাত্তর চ্যানেল থেকে বহিস্কার করা হোক এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ তাকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া হোক।
তিনি আরো বলেন সাংবাদিকতা জাতির বিবেক। সেদিনের ছেলে মিঠুন। আমি তার বাব-দাদাকে চিনি। কিন্তু সে সাভার প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক হয়ে মানুষকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজী করে যাচ্ছে। তার অপরাধের মাত্রা এতটাই বেড়ে গেছে যে সাভারের মানুষ আজ তার গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। তার অপকৃত্তির কারনে সাভারের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হচ্ছে। যে কারনে আজকে সাভারের সর্বস্তরের জনতা তার শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচীতে অংশ নিয়েছে। সে একটি রিসোর্টে ফোন করে বলেছে তাকে বিনা পয়সায় সেখানে থাকতে দিতে হবে। লন্ডনার্স নামে একটি রেস্টুরেন্টে ফোন করে বিনা পয়সায় ৫০ প্যাকেট খাবার পাঠিয়ে দিতে বলে। নইলে খাবারে মশা দিয়ে বলবো ভেজাল খাদ্য সরবরাহের কথা প্রচার করা হবে।
বীর মুক্তিযোদ্ধা ম. হামিদ রঞ্জু বলেন, সাংবাদিকদের বলা হয় জাতির বিবেক। সেই সাংবাদিতার নামে যদি কেউ চাঁদাবাজি করে এবং অপসাংবাদিকতা করে তাহলে আমরা খুব দুঃখ পাই। ফেসবুক ও পত্রিকার মাধ্যমে মিঠুন সরকারের অপকর্মের যে ফিরিস্তি উঠে আসছে তার প্রতি নিন্দা জানিয়ে বলতে চাই, আপনার যারা সাংবাদিকতা করছেন তাদের প্রতি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার অনুরোধ দেশ গড়ার ক্ষেত্রে আপনাদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। আপনারাই পারেন এ দেশটাকে সত্যিকার অর্থে সুন্দরভাবে অসাম্প্রদায়িক এবং বৈষম্যহীন একটি সুন্দর গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে।
সাভার উপজেলা শিশু সুরক্ষা মনিটরিং কমিটির সভাপতি মিসেস রোকেয়া হক বলেন, আমরা আজকে একজন অপসাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন কর্মসূচীতে পালন করছি। আমরা জানি সাংবাদিক সেই ব্যক্তি যে একটি দেশ আনতে পারে। একটি জাতীকে তুলে ধরে একটি সমাজের পরিবর্তন এনে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু আমরা হলুদ সাংবাদিকতা চাইনা, যার দ্বারা দেশ এবং জাতি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আমরা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে নই উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, একটা বাংলাদেশ সৃষ্টির পেছনে সাংবাদিকদের অবদান রয়েছে। ইত্তেফাক নামের একটি প্রত্রিকা বাংলাদেশের সৃষ্টি করেছে। তাহলে কেন আজকে একাত্তর নামে একটি টিভি চ্যানেলের প্রতিনিধি নানা ধরনের অপকর্ম করে আমাদেরকে ধুলায় মিশিয়ে দিবে। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পন উল্লেখ করে তিনি বলেন সাংবাদিকরা যদি চাঁদাবাজি করে, সঠিক তথ্যটি তুলে না ধরে তাহলে আমরা কাদেরকে নিয়ে এগিয়ে যাবো।
সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সদস্য সচিব সরন সাহা বলেন, একজন সাংবাদিক এবং সংস্কৃতিকর্মী সুষ্ঠ-সাভাবিক সমাজ বিনির্মানে অগ্রনী ভূমিকা রাখতে পারে। সেখানে তারা যদি অপকর্ম করে তাহলে সমাজ তাদেরকে ঘৃনা করবে। মিঠুন সরকারে মতো একজন চাঁদাবাজ কিভাবে সাংবাদিকদের নেতৃত্ব দেয়। সাংবাদিক নামধারী কতিপয় ব্যক্তি তাকে সঙ্গ না দিলে তিনি এতো বড় সন্ত্রাসী হতে পারতেন না। তার সাথে কতিপয় নামধারী সাংবাদিক জড়িত রয়েছে। আজকে শুধু মিঠুন সরকারের বিরুদ্ধে নয় ওইসব নামধারী সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে হুশিয়ারি উচ্চারন করে বলতে চাই আপনারা নিজেদের পরিনতি মিঠুন সরকারের মতো হতে দিয়েন না। আপনারা নিজেকে ভালো এবং সামাজিক কাজে নিয়োজিত করেন। কেন আপনি চাঁদাবাজি করবেন, আপনি কি সন্ত্রাসী?  একটি মিঠুন সরকার  অপকের্মর রুখে দিতে এসে বলতে চাই তাই সুষ্ট সাভার গঠনে সবাই সচেষ্ঠ থেকে সুস্থ এবং সচ্ছ সাংবাদিকতা করার আহ্বান জানান।
নদী উন্নয়ন পরিষদের সাধারন সম্পাদক সামসুল হক বলেন, আজকে সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে আয়োজিত মানববন্ধন এখানেই সীমাবদ্ধ থাকবেনা। সারা সাভারের মানুষ আজকে কুখ্যাত চাঁদাবাজ মিঠুন সরকারে বিরুদ্ধে মাঠে নামবে। আমরা বলতে চাই যে ছেলের নামে মাত্র কয়েকমাসের মধ্যে ডজন খানেক মামলা হয়েছে। কিন্তু অপকর্ম যে কত ডজন করেছে তা ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে আজকে সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ প্রতিবাদের ঝর তুলেছে। তাই সাভার বাসীর উদ্দেশ্যে বলতে চাই আমরা তাকে সামাজিকভাবে বয়কট করলাম। আপনারা তাকে ছি ছি বলুন, তাকে ধীক্কার দিন, তাকে ধরিয়ে দিন, আইনগতভাবে তার বিচার হোক। সে যাতে ভবিষ্যকে আর সাংবাদিকতার নাম ভাঙ্গিয়ে কোন অপকর্ম করতে না পারে সে জন্য সমস্ত দ্বিধা দন্দের উর্ধে উঠে এমন কুলাঙ্গার সাংবদিকদের প্রতিহত করুন। এছাড়া সাভারবাসী অন্যায় অপরাধের বিরুদ্ধে সোচ্চার রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যদি অন্য কোন সাংবাদিক, কোন উচ্চ বিলাশী ব্যক্তি এই অপসাংবাদিকের সাথে এবং অপকর্মের সাথে জড়িত হওয়ার নীল নকশার স্বপ্ন দেখে থাকেন তাহলে আল্লাহর রস্তে কেটে পড়েন। সাভার নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক বাবুল মোড়ল বলেন, একজন সাংবাদিক যদি ন্যায়ের পথে থাকেন এবং দেশের জন্য কাজ করেন তাহলে তার লেখনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের চিত্র ফুটে উঠে। কিন্তু একজন সাংবাদিক যদি অপসাংবাদিকতা করে, মানুষের প্রতি অন্যায়-অত্যাচার ও দূর্নীতি করে তাহলে দেশের চরিত্র উল্টে যায়। দেশ আর ভালো থাকতে পারেনা। তাই আমি আজকে সাভার নাগরিক সমাজ ও বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠির পক্ষ থেকে অনুরোধ করছি কোন সাংবাদিক যাতে অন্যায়-অপরাধের সাথে যুক্ত না হয় তাহলে দেশ সুন্দরভাপে পরিচালিত হবে।
সাভার ক্লাবের সভাপতি আব্দুল কাদের তালুকদার বলেন, মিঠুনের নামে যে সমস্ত কর্মকান্ডের লিফলেট বেড়িয়েছে সে কোন মানব সমাজের লোক কিনা আমার সন্দেহ রয়েছে। ঘৃন্য মানসিকতা সম্পন্ন এই মিঠুন মানুষের কাছে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন রোংরা কাজের সাথে জড়িত এবং সে তার মনুষত্ব হারিয়ে ফেলেছে। এধরনের ব্যক্তিকে সমাজচ্যুত করা উচিত উল্লেখ্য করে তিনি বলেন সাংবাদিকতার মতো মহৎ পেশায় তার কাজ করার কোন অধিকার নাই। তাই অবিলম্বে তাকে গ্রেফতার করে বিচারের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করছি।  আয়োজিত এ মানববন্ধন কর্মসূচীতে সাভার উপজেলা শিশু সুরক্ষা মনিটরিং কমিটি, সাভার নারী যোগাযোগ কেন্দ্র, পোড়াবাড়ী যুব সংঘ- সাভার , বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, সাভার শাখা, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, সাভার নদী ও পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের ব্যানারে শত শত লোক মানববন্ধন কর্মসূচীতে অংশ নিয়ে মিঠুন সরকারের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানায়। উল্লেখ্য , সীমাহীন চাঁদাবাজি,সাভারে কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে চরম অসাদাচরণ, মারধর হুমকি ও ক্লাবে অনৈতিক কর্মকান্ড সহ শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে সাভার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাভার প্রতিনিধি মিঠুন সরকারকে আজীবনের জন্য বহিস্কার করা হয়েছে।
গত শনিবার সাভার প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক জরুরী কার্য নির্বাহী ও সাধারন সভায় কন্ঠভোটের  মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এ সময় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক পার্থ চক্রবর্তীকে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয় ।