শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭ তম: টিআই

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) দুর্নীতির ধারণা সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশে দুর্নীতি তুলনামূলক কমেছে। শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭তম। গত বছর এই অবস্থান ছিল ১৫তম। আগের চেয়ে দুই ধাপ উন্নতি হয়েছে বাংলাদেশের। এ বছর ঊর্ধ্বক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৩তম।  বৃহস্পতিবার রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে দুর্নীতির ধারণা সূচক ২০১৭ তুলে ধরেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। মোট ১৮০টি দেশকে এই সূচকে গণ্য করা হয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা দ্বিতীয়। প্রথম স্থানে আফগানিস্তান।  টিআইয়ের মতে বা সূচকে এবার শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ সোমালিয়া। তাদের স্কোর ১০০–তে ৯। সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ নিউজিল্যান্ড। তাদের স্কোর ১০০–তে ৮৯। বাংলাদেশের স্কোর ২৮। বাংলাদেশের সঙ্গে একই অবস্থানে রয়েছে গুয়াতেমালা, কেনিয়া, লেবানন ও মৌরতানিয়া। জার্মানির বার্লিন থেকে সারাবিশ্বে একযোগে প্রকাশিত টিআই-এর ২০১৮ সালের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-টিআইবির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বার্লিন থেকে প্রকাশিত প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়েছে।   যে সকল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই দুর্নীতির ধারণা সূচক তৈরি করা হয়েছে তা হলো, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এক্সিকিউটিভ ওপিনিয়ন সার্ভে, ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের কান্ট্রি রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট, ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের রুল অব ল ইনডেক্স, পলিটিক্যাল রিস্ক সার্ভিস ইন্টারন্যাশনাল কান্ট্রি রিস্ক গাইড, বার্টলসমেন্ট ফাউন্ডেশন ট্রান্সফরমেনশন ইনডেক্স, ইনফরমেশন হ্যান্ডেলিং সার্ভিসেস গ্লোবাল ইনসাইড কান্ট্রি রিস্ক রেটিং, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি পলিসি অ্যান্ড ইনস্টিউশনাল অ্যাসেসমেন্ট এবং ভেরাইটিজ অব ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট প্রভৃতি রিপোর্ট।  প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালের সূচকে অন্তর্ভুক্ত মোট ১৮০টি দেশের মধ্যে উচ্চক্রম (ভালো থেকে খারাপের দিকে) অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৩তম। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়া বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় স্থানের। এ অঞ্চলে প্রথম আছে আফগানিস্তান। এছাড়া ৩য় থেকে যথাক্রমে ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা অবস্থান করছে।  এর আগে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৫তম, ২০১৫ সালে ছিল ১৩তম। এ ছাড়া ২০১৪ সালে ১৪তম, ২০১৩ সালে ১৬তম এবং ২০১২ সালে ছিল ১৩তম স্থানে।