বিজ্ঞাপন বাজারে বাড়ছে ফেসবুক গুগলের দৌরাত্ম

: জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও সার্চ ইঞ্জিন গুগলের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত শ্রেণীর কাছে নিজের প্রচারণা পৌঁছে দিতে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে বছরে এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে বাংলাদেশের কোম্পানিগুলো।  একদিকে দিন দিন দেশে সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি, অপরদিকে নিপুণভাবে কাঙ্ক্ষিত শ্রেণীর কাছে বিজ্ঞাপন পৌঁছে দেয়ার মতো প্রযুক্তি- এই উভয় কারণেই জনপ্রিয়তা পাচ্ছে এই ডিজিটাল প্রচারণা।  যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য কিংবা অস্ট্রেলিয়া- যেকোনো দেশে বসেই বাংলাদেশীরা স্থানীয় বিজ্ঞাপনগুলো দেখতে পারে গুগল ও ফেসবুকের মতো বৈশ্বিক জায়ান্টদের মাধ্যমে।   অবশ্য ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানগুলো কত টাকা খরচ করে- তার কোনো সঠিক হিসাব নেই সরকারের কাছেও। বিভিন্ন ডিজিটাল এজেন্সিগুলো জানিয়েছে, এসব বিজ্ঞাপনের বাজারমূল্য ২০০ কোটি থেকে এক হাজার কোটি টাকার মধ্যে।  এ বিষয়ের বিশেষজ্ঞ আসিফ ইকবাল জানান, ২০১৭ সালে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে ১১০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এর অর্ধেকই ফেসবুক, গুগল ও অন্য মাধ্যমগুলোতে ব্যয় হয়েছে।  মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের এই নির্বাহী পরিচালক আরো জানান, বছরে বাংলাদেশের মোট বিজ্ঞাপন বাজার দেড় হাজার থেকে এক হাজার ৬০০ কোটি টাকার সমান।  তিনি বলেন, চলতি বছর ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মূল্য কমপক্ষে দ্বিগুন হবে।  গুগলের তথ্যমতে, বাংলাদশে বর্তমানে চার কোটি সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে, যার ৩৫ শতাংশই প্রতিদিন ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে তিন কোটি বাংলাদেশী ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে।  এ নিয়ে সতর্ক পত্রিকা মালিকদের সংগঠন নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)। সম্প্রতি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, রাজস্ব বোর্ড ও টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে দেয়া এক চিঠিতে তারা জানান, ফেসবুক ও গুগলের বাংলাদেশে কোনো অফিস নেই এবং তারা দেশের আইনি সীমার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।  চিঠিতে লেখা হয়, তারা প্রচুর অর্থ কামিয়ে নিচ্ছে। অথচ বাংলাদেশ তার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।  দেশের একটি শীর্ষ মার্কেটিং এজেন্সি জানায়, ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের জন্য কোম্পানিগুলোকে বিদেশী মুদ্রা পরিশোধ করতে হয়। ট্যাক্স কম হওয়ায় ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে নরওয়েতে পাঠানো হয় টাকা। এতে সুবিধা হচ্ছে, কম কর পরিশোধ করে, যেসব দেশে বেশি কর সেসব দেশেও বিজ্ঞাপন পরিশোধ করা যায়। এরইমধ্যে ফ্রান্সসহ ইউরোপের কিছু দেশ বিদেশ থেকে আসা বিজ্ঞাপন প্রদর্শন নিষিদ্ধ করেছে।  এ ব্যাপারে ফেসবুকের ভারত অফিসের কর্মকর্তা কুশাগ্র সাগরের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোনো তথ্য দিতে অস্বীকার করেন। ফেসবুক তার আয়ের ব্যাপারে কাউকে কোনো তথ্য দেয় না।  নোয়াবের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, এসব বিদেশী কোম্পানি বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করলেও তারা কোনো কর দিচ্ছে না।  কর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, কর বিধিমালা অনুসারে, শুধু বাংলাদেশে উপার্জিত অর্থেরই কর পরিশোধ করতে হয়। আর তাই বাংলাদেশে অফিস না থাকায় কর নেয়া সম্ভব হচ্ছে না ফেসবুক বা গুগলের মতো কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে।