প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী যাচ্ছেন আজ

: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনব্যাপী সফরে আজ রাজশাহী যাচ্ছেন। সফরকালে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের ষষ্ঠ কোরের পুনর্মিলনীতে যোগদান এবং ২১টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ১২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজশাহী মহানগরীর মাদ্রাসা ময়দানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় ভাষণ দেবেন। প্রধানমন্ত্রীর অফিস সূত্র জানিয়েছে, সকালে রাজশাহী পৌঁছানোর পর তিনি কাদিরাবাদ সেনানিবাসে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের ষষ্ঠ কোরের পুনর্মিলনীতে যোগদান করবেন। দুপুরের পর শেখ হাসিনা মাদ্রাসা ময়দান থেকে ২১টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন এবং ১২টি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচন করবেন। এদিকে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পড়েছে রাজশাহী। নগরীতে র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনি তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর ঘিরে এ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শহরজুড়ে নজরদারির মধ্যে নিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। মহানগরীর সব থানাসহ জেলার বিভিন্ন থানা পুলিশ বিশেষ তৎপরতার অংশ হিসেবে স্ব স্ব এলাকায় নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ নজর রেখেছে। এতে কোন ধরনের অপতৎপরতার সুযোগ নেই কারোর। এসব তথ্য জানিয়েছেন সিনিয়র সহকারি কমিশনার ও আরএমপির মুখপাত্র ইফতে খায়ের আলম। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর ঘিরে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নগরীর সব সড়কে স্বাভাবিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে ও এ কেন্দ্রিক সব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এরইমধ্যে চেকপোস্ট বাড়িয়েছি, স্থায়ী চেকপোস্টের পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে ভ্রাম্যমাণ চেকপোস্ট। পুলিশের নিয়মিত রাত্রিকালীন অভিযান আরো জোরদার করা হয়েছে। এএসপি ইফতে খায়ের আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ভাষণ দেবেন। ভেন্যু কেন্দ্রিক সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, এ ভেন্যু ঘিরে কোনও অপতৎপরতার সুযোগ কারো নেই। ভেন্যুর আশপাশ এলাকা ও পুরো শহর নিরাপত্তা বলয়ে ঢাকা রয়েছে। পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, এ ধরনের জনসভায় প্রচুর লোকজনের আগমন ঘটে, বিষয়টি মাথায় রেখে ট্রাফিক ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছি। শহরের আবাসিক হোটেলগুলোও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ নজরে রয়েছে। সব ধরণের অপতৎপরতা ও নাশকতার সুযোগ যেন কেউ নিতে না পারে তার জন্য গোয়েন্দারা কাজ করছেন। বৃহস্পতিবার এ সফরকালে চারটি থানার বাইরে রাজশাহীতে আরো ৮টি থানাসহ ৩১টি উন্নয়ন কর্মকান্ডের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। ইফতে খায়ের বলেন, এই থানাগুলোর কার্যক্রম শুরু হলে এই অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরো ভালো হবে, অপরাধ কমে আসবে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে জামায়াত-শিবির সমর্থকদের নাশকতার তৎপরতার সুযোগ নেই উল্লেখ করে পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা রয়েছে, তাদের জন্য ঊর্ধ্বতন নির্দেশনা রয়েছে। প্রসঙ্গত, বিকেলে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেবেন। এ জনসভা সফল করতে আওয়ামী লীগ ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। জনসভা ও এর আশপাশ এলাকাজুড়ে পাঁচ লাখ মানুষের সমামের আশা করছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জনসভা সফল করতে রাজশাহী নগরের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করে লিফলেট বিতরণ করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এ সময় তারা জনসভায় যোগদানের জন্য সাধারণ মানুষকের আমন্ত্রণ জানান। সকাল থেকেই নেতাকর্মীরা রাজশাহীর মাদরাসা ময়দানে জমায়েত হতে শুরু করেছে বলে জানা যাচ্ছে। এর মধ্যেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা রাজশাহী পৌঁছেছেন।