ধামরাইয়ে বিএনপি’র কোন কর্মসূচী পালন হয়নি,নেতাকর্মীরা ক্ষুব্দ

ধামরাই প্রতিনিধি : বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খালেদা জিয়ার ৫ বছরের কারাদন্ড হলেও বিএনপি ঘোষিত কোন কর্মসূচী পালন করেনি ধামরাইয়ে বিএনপির কোন নেতাকর্মী। ধামরাইয়ে তিনজন নেতা আছে যারা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে রয়েছে। তারা হলেন তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য ও চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান,সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় মহিলাদলের সাধারন সম্পাদক সুলতানা আহমেদ এবং বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য,উপজেলা বিএনপির সভাপতি,উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তমিজ উদ্দিন। এঁরা তিনজনেই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। এছাড়াও মনোনয়নপ্রত্যাশী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আমজাদ হোসেন ও ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাধারন সম্পাদক ইয়াছির ফেরদৌস মুরাদ। এরা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও ধামরাইয়ে কোন মিটিং-মিছিল,সভা-সমাবেশ করেনি তাদের নেতৃত্বে। এমনকি উপজেলা পর্যায়ের পদধারী নেতারাও না। বিএনপি’র চরম দুঃসময়ে পুলিশি হয়রানি,বাধা, হামলা-মামলা উপেক্ষা করে বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচী পালন করতে দেখা গেলেও ধামরাইয়ে কর্মসূচী পালন করতে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে সাধারন নেতাকর্মীদের মধ্যে হত্যাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সাধারন নেতাকর্মী অপেক্ষা করতে থাকে নেতারা কখন ডাক দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতাকর্মী ক্ষোভের সহিত জানান,পুলিশি ভয়ে তারা পালিয়ে বেড়ালেও নেতারা ডাক দিলে যেভাবেই হউক কর্মসূচীতে অংশ গ্রহন করতাম এবং করবো। কিন্তু নেতাদেরইতো কোন পাত্তা নেই। ব্যারিস্টার জিয়া,তমিজ উদ্দিন ও সুলতানা আহমেদ’র মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। তাঁরা সাধারন নেতাকর্মীদের কোন খোঁজ-খবর রাখছে না। তাঁরা ঢাকায় থাকেন। কোনকর্মীর খবর নিচ্ছে না। তাঁদের ডাকের অপেক্ষায় বসে আছি। যতই পুলিশি হয়রানি করুক কোনটাই দমন করতে পারবেনা আমাদের। শুধু ডাকের অপেক্ষা। এরমধ্যে কয়েকজন বলেন,ব্যারিস্টার জিয়া ও সুলতানাকে বিএনপি মনোনয়ন দিয়ে সংসদ সদস্য বানিয়েছিল। তাঁরা ক্ষমতার স্বাধ পেয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। বিএনপি তাদের অনেক দিয়েছে। কিন্তু তমিজ উদ্দিনকে বিএনপি এখনো কিছুই দিতে পারেনি। তিনি আওয়ামী প্রতিকূলতার মধ্যেও দুইবার ও ১৯৯১ সনে একবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন ব্যক্তিগত ইমেজ দিয়েই। এছাড়া ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান যখন এলডিপিতে যোগদান করেন ও ওয়ান ইলেভেনের সময় চরম দুর্দিনে বিএনপি’র হাল ধরে তমিজ উদ্দিন নেতাকর্মীদের সংগঠিত করেছেন সাহস যুগিয়েছেন। বরং তিনি জেল খেটেছেন নাশকতা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায়। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য বর্তমান সরকারের আমলে ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান খান, সুলতানা আহমেদ,উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এমএ জলিল,ঢাকা জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক যিনি ঢাকা জেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক পদ প্রত্যাশী ওয়ালিদ খান,পৌর বিএনপির সাধারন সম্পাদক খন্দকার আবু তাহের মুকুটের নামে একটি মামলাও নেই। এরপরও তারা কোন মিটিং মিছিল সভা সমাবেশ করছেন না। এছাড়াও নিস্ক্রিয় রয়েছে পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপি সভাপতি দেওয়ান নাজিম উদ্দিন মঞ্জু’। নেতাকর্মীরা আরো বলেন,‘যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা আমজাদ হোসেন এলাকায় আসলেও বিএনপি নেতাকর্মীদের কোন খবরই রাখেননা। ঢাকা জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারন সম্পাদক ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদের বিরুদ্ধে প্রায় ডজন খানেক মামলা থাকাতে বর্তমান সরকারের আমলে একদিনের জন্যও ধামরাইয়ে অবস্থান করেননি এমনকি আসেননি। এছাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এমএ জলিলের নামে বিগত দিনে একটিও মামলা হয়নি। নেতাকর্মীরা প্রত্যাশা করেছিল অন্তত তাকে (জলিল) কর্মসূচীতে পাবেন। কিন্তু সেটাও হয়নি। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব থাকলেও বিএনপির চরম দুঃসময়ে সব নেতাদের (জিয়া,তমিজ ও সুলাতানা) একমঞ্চে থেকে আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়ার আহবান জানিয়েছেন সাধারন নেতাকর্মীরা। যা হউক ব্যক্তির চেয়ে দল বড়,দলের চেয়ে দেশ বড়। তাদের উচিত ছিল বর্তমানে নেতাকর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা’।