গোলাম মুস্তাফার মৃত্যুবার্ষিকী আজ, পদক পেলেন ১০ আবৃত্তিশিল্পী

অভিনয়ের কিংবদন্তি পুরুষ গোলাম মুস্তাফা। তিনি একজন দুর্দান্ত আবৃত্তিকারও ছিলেন। আজ ২০ ফেব্রুয়ারি এই নন্দিত অভিনেতার ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৩ সালের এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন গোলাম মুস্তাফা। বেতার, টিভি, মঞ্চ ও চলচ্চিত্র- এ চার মাধ্যমেই সুঅভিনয়ের স্বাক্ষর রেখে গেছেন পিরোজপুরে জন্মগ্রহণ করা গোলাম মুস্তাফা। ১৯৬০ সালে ‘রাজধানীর বুকে’ ছবিতে জমিদারের ভূমিকায় প্রথম অভিনয় করেন। প্রথম ছবি থেকেই খলনায়ক চরিত্রের একক ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। সবমিলিয়ে প্রায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘আলিবাবা ও চল্লিশ চোর’, ‘নিজেকে হারায়ে খুঁজি’, ‘রক্তাক্ত বাংলা’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘সূর্যসংগ্রাম’, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’, ‘শুভদা’, ‘ধীরে বহে মেঘনা’, ‘চন্দ্রনাথ’, ‘দেবদাস’ ইত্যাদি।

গোলাম মুস্তাফা ১৯৮০ সালে এমিলের গোয়ন্দা বাহিনী চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্ব অভিনেতা এবং ১৯৮৬ সালে শুভদা চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১ সালে একুশে পদক সম্মানে ভূষিত হন তিনি। এ ছাড়া বাচসাস পুরস্কারও লাভ করেন এ অভিনেতা। গোলাম মুস্তাফার সন্তান বাংলাদেশের নন্দিত অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। একসঙ্গে তারা বহু নাটকে কাজ করেছেন। দুজনের মধ্যে সম্পর্কটা পিতা-কন্যার বাইরেও ছিলো দারুণ বন্ধুত্বপূর্ণ।

এদিকে গেল বছর থেকে গোলাম মুস্তাফার মৃত্যুবার্ষিকীতে ‘গোলাম মুস্তাফা আবৃত্তি পদক’ চালু করে বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদ। প্রতি বছর দশজনকে দেয়া হবে এই পদক। চলতি বছরে ‘গোলাম মুস্তাফা আবৃত্তি পদক’ পাওয়া ১০ গুণী আবৃত্তিজন হলেন- খান জিয়াউল হক, তারিক সালাহউদ্দিন মাহমুদ, এসএম মহসীন, রুহুল আমিন প্রামাণিক, নিরঞ্জন অধিকারী, কাজী মদিনা, ড. ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, কাজী আরিফ (মরণোত্তর), রণজিত রক্ষিত ও সুবর্ণা মুস্তাফা।

তাদের সবাইকে পদকের সম্মানস্বরূপ ১০ হাজার টাকার চেক, উত্তরীয় ও পদক প্রদান করা হবে।

আজ মঙ্গলবার, ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় এ পদক প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকার কথা রয়েছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি এবং বিশেষ অতিথি থাকবেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দীন ইউসুফ।

প্রসঙ্গত, প্রথমবার পদক পেয়েছিলেন দেশের প্রথিতযশা ১০ আবৃত্তিকার। তারা হলেন- মৃণাল সরকার (মরণোত্তর), নিখিল সেন, ওয়াহিদুল হক (মরণোত্তর), নাজিম মাহমুদ (মরণোত্তর), হেমচন্দ্র ভট্টাচার্য (মরণোত্তর), অধ্যাপক নরেন বিশ্বাস (মরণোত্তর), কাজী আবু জাফর সিদ্দিকী (মরণোত্তর), সৈয়দ হাসান ইমাম, কামাল লোহানী ও আশরাফুল আলম।