৪ দিন পর আবারও মুখর ইজতেমা মাঠ, মাওলানা সা’দ না এলেও এসেছেন ছেলেরা

27

শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব। ইজতেমায় যোগ দিতে বুধবার বিকাল থেকেই মুসল্লিরা টঙ্গীর তুরাগ তীরের মাঠে আসা শুরু করেছেন। বাস, ট্রাক, পিকআপে চড়ে মুসল্লিরা আসছেন। ধীরে ধীরে বাড়ছে মুসল্লিদের সংখ্যা। বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) ফজরের নামাজের পর ভারতের মাওলানা চেরাব উদ্দিন বিশ্ব ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের উদ্দেশে বয়ান করেছেন। সেটি বাংলায় তর্জমা করেন মাওলানা আজিম উদ্দিন।

ইজতেমার আয়োজক কমিটির শুরা সদস্য মাওলানা সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম জানান, বিশৃঙ্খলার কারণে এবং অনুমতি না থাকায় ২০১৯ সাল থেকে ভারতের মাওলানা সা’দ কান্ধলভী বাংলাদেশে বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিচ্ছেন না, তবে তার ছেলে মাওলানা ইউসুফ, মাওলানা সাঈদ, মাওলানা ইলিয়াস ও জামাতা মাওলানা হাসান বৃহস্পতিবার দুপুরে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে এসে পৌঁছেন। সাদ’র তিন ছেলে বয়ান করবেন বলে তিনি জানান।

tongi3

তিনি জানান, প্রথম পর্বে ইজতেমা শেষ হওয়ার পর চার দিন বিরতি দিয়ে মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ সমাবেশের দ্বিতীয় পর্বের মূল কার্যক্রম শুরু হবে শুক্রবার ফজরের নামাজের পর মূল বয়ানের মধ্য দিয়ে। রবিবার (২২ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত চলবে তাবলীগের ছয় উশুলের বয়ান। বাংলাদেশ ভারত ও পাকিস্তানের আলেমরা মূল বয়ান করবেন। মূল বয়ান বাংলাসহ বিভিন্ন ভাষা-ভাষীদের জন্য তাৎক্ষণিক তর্জমা করা হয়। রবিবার আখেরি মোনাজাতের আগে হেদায়েতি বয়ান শেষে আখেরি মোনাজাত হবে।

ইজতেমার আয়োজক কমিটির সহযোগী মিজান জানান, বিশ্ব ইজতেমার মূল পর্ব শুক্রবার থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বুধবার থেকেই দলে দলে মুসল্লিরা ইজতেমা মাঠে এসে অবস্থান নিয়েছেন। মুসল্লির দল মাঠের ভেতরে ঢুকে নিজ নিজ জেলার খিত্তায় অবস্থান নিতে শুরু করেছেন। লাখ লাখ মুসল্লির উপস্থিতিতে ইজতেমা মাঠ প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। বাস, ট্রাক, ট্রেন পায়ে হেঁটে মুসল্লিরা টঙ্গীর ইজতেমায় আসছেন। রবিবার আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মুসল্লিদের এ আগমন অব্যাহত থাকবে।

tongi1

টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বের জিম্মাদার মাওলানা আব্দুস সাত্তার সাহেব (নিজামুদ্দিন) জানান, ফজরের পর বয়ানের বয়ান করেছেন ভারতের মাওলানা চেরাব উদ্দিন। তা বাংলায় তর্জমা করেন মাওলানা আজিমুদ্দিন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বয়ান করেন আরব দেশ থেকে আসা মাওলানা ওসমান। ইংরেজি ভাষার মেহমানদের সামনে বয়ান করেন মাওলানা এনাম ও খসরু মিয়া। মালয়েশিয়া থেকে আসা মেহমানদের সামনে কথা বলেন মাওলানা ফারুক ও মাওলানা ওমর মেওয়াতি। ফারসি ওলামাদের সামনে বয়ান করেন মুফতি গোলাম নবী ও মুফতি জহির নিজামুদ্দিন। থাই মেহমানদের সামনে কথা বলেন মাস্টার হারুন ও সাঈদী নিজামুদ্দিন। চীন থেকে আসা মেহমানদের সামনে কথা বলেন মাওলানা জামশেদ ও বাংলাদেশের মাওলানা আব্দুল্লাহ এবং পশ্চিমবঙ্গের মেহমানদের সঙ্গে কথা বলেন কাকরাইলের মাওলানা মোশারফ। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের ইজতেমার মূল মাসোয়ারা করা হয়।

গাজীপুর জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান জানান, গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একাধিক টিম মাঠে থাকবে। ইজতেমা মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং ছিনতাই-পকেটমারসহ নানা অপরাধ রুখতে টহল টিম ও ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করবে। পর্যাপ্ত ওয়াচ টাওয়ার ও সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রতিদিন কয়েকভাগে ভাগ হয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।