সাভারে ৪৩টি গির্জায় বর্ণিল আয়োজনে বড়দিন পালিত

52

স্টাফ রিপোর্টার : আজ শুভ বড় দিন। খ্রীস্টান ধর্মীয় সবচে বড় উৎসবের দিন। দিবসটি উপলক্ষে সাভারে খ্রীস্টান সম্প্রদায় অধ্যুষিত এলাকা কমলাপুর, ধরেন্ডা, রাজাশন ও দেওগাসহ বিভিন্ন স্থানের ৪৩টি গির্জা সেজেছে বর্ণিল সাজে। গীর্জা প্রাঙ্গণে প্রস্তুত করা হয়েছে খ্রীস্টমাস ট্রি, গোশালাসহ বর্ণাঢ্য সাজ সজ্জা।
সবচে বড় গির্জা ধরেন্ডার সেন্ট যোশেফ গির্জায় খ্রীস্টযোগে অংশ নেন শত শত খ্রীস্টান ধর্মালম্বী। যিশু খ্রীষ্টের জীবনাচার, তার ত্যাগ ও দানের কার্যক্রম নিয়ে হয় আলোচনা অনুষ্ঠান এবং প্রার্থনা সভা। এ ছাড়া প্রায় প্রতিটি বাড়ীতে বাড়ীতে সাজানো হয়েছে খ্রীষ্টমাস ট্রি। খ্রীষ্টান অনুসারিগণ এ দিন নতুন জামা কাপড় পড়ে ভোর থেকেই গির্জা প্রাঙ্গণে ভীড় করেন। সকলে যোগদান করেন এ দিনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায়।

ধরেন্ডা সেন্ট যোশেফ গির্জার পাল পুরোহিত ফাদার ব্যারিস্টার আলবার্ট রোজারিও এ দিনে সমবেত খ্রীষ্টান ধর্ম সভায় বলেন, খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখিস্ট এই দিনে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের বেথলেহেম শহরের এ গোয়াল ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বেচে ছিলেন মাত্র ৩৩ বছর। তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তার মহিমা প্রচার এবং মানব জাতিকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালনা করার জন্য যিশুখিষ্ট জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আজকের এই দিনে প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার উৎসব। যিশুর ৩৩ বছরের গুণাগুণ অপরিসীম। তিনি বলেন, আমি বিশে^র শান্তি কামনা করছি। বিশেষ করে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে সেক্ষেত্রে প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ভেতর যেন সহিঞ্চুতা দেখা দেয়। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন যেন সুন্দর সুস্থ পরিবেশ বিরাজ করে। সকলের কাছে এ প্রত্যাশা রইল।

এ দিনে গীর্জা প্রাঙ্গণে হয়েছে কীর্ত্তন প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় রাজাশন, দেওগা, কমলাপুর ও ধরেন্ডা গ্রামের শিল্পীগণ অংশগ্রহণ করেন। ধরেন্ডা গ্রামের বাসিন্দা কবি দীনেশ হিউবাট ডি রোজারিও শান্তাক্লুজ সেজে শিশুদের মাঝে গীর্জা চত্ত্বরে চকলেট বিতরণ করেছেন। অনেকেই গীর্জা প্রাঙ্গণে কবরস্থানে আপনজনের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। সাভারে সর্ববৃহৎ সেন্ট যোশেফ গির্জা ছাড়াও কমলাপুর গীর্জা, দেওগা গীর্জা, আনন্দপুর গীর্জা, শিমুলতলা গীর্জাসহ বিভিন্ন গির্জা ঘুরে খ্রীষ্টান ধর্মীয় নানা শ্রেণী পেশার মানুষের মাঝে বেশ আনন্দ উৎসব দেখা গেছে।