সহকারীর হাতে ওয়ার্কশপের ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি খুন

59

গাজীপুর প্রতিনিধি :  গাজীপুরের টঙ্গীতে কাজ না শেখানোয় এক সহকারীর হাতে ওয়ার্কশপের ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি খুন হয়েছেন। শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন মুদাফা এলাকার নুরুল ইসলামের বাড়ির প্রবেশ পথ থেকে নিহতের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওয়ার্কশপের দুই সহকারীকে গ্রেফতার করা হয়।

নিহত মো. রাকিব (২০) ঢাকার নবাবগঞ্জ থানার সাদাপুর এলাকার মো. শেখ খলিলুর রহমানের ছেলে। গ্রেফতাররা হলেন- রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ থানার বাহাদুরপুর গ্রামের আসলাম খানের ছেলে শাহেদ খান (১৮) ও একই থানার মনসের খাড়াগাড়া এলাকার আয়নাল শেখের ছেলে ইমরান হোসেন (১৭)।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম জাগো নিউজকে বলেন, মুদাফা এলাকার নুরুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় মাদরাসা মার্কেটের ডিকে ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি নামে একটি ওয়ার্কশপ কারখানায় ওয়েল্ডিং মিস্ত্রির কাজ করতেন রাকিব। তার সঙ্গে একই ওয়ার্কশপে শাহেদ ও ইমরানসহ কয়েকজন সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। বেশকিছুদিন ধরে ওয়েল্ডিং মিস্ত্রির কাজ শেখানোর জন্য রাকিবকে অনুরোধ করে আসছিলেন শাহেদ ও ইমরান। কিন্তু ওয়েল্ডিংয়ের কাজ না শেখানোয় রাকিবের ওপর ক্ষুব্ধ হন তারা।

ওসি আরও বলেন, ওয়েল্ডিংয়ের কাজ শেখানো নিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে রাকিব ও তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা এবং হাতাহাতি হয়। এর জেরে গভীর রাতে রাকিবকে পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন করে দুই সহকারী। হত্যার পর মরদেহ বস্তাবন্দি করে নুরুল ইসলামের বাড়ির প্রবেশ পথে ফেলে রাখেন তারা। শুক্রবার সকালে ফেলে রাখা ওই বস্তা থেকে রক্ত বেরোতে দেখে পুলিশকে সংবাদ দেয় এলাকাবাসী। পুলিশ রাকিবের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের পর গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের চাচা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শাহেদ ও ইমরানকে আটক করে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে রাকিবকে খুন করার কথা স্বীকার করেন শাহেদ। পরে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।