মির্জা ফখরুল-ডা. শফিকুরের গ্রেফতারে যা বললেন চরমোনাই পীর

58

বরিশাল সংবাদদাতা : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, দেশে বাকস্বাধীনতা নেই, হাজারও মানুষ খুন-গুম হচ্ছে। মানুষ নির্বিচারে জেলখানায় ধুঁকে ধুঁকে মরছে। দেশে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বলতে যা কিছু আছে আওয়ামী সরকার তা এতটুকুও বাকি রাখেনি।

তিনি বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আটকের দরকার আছে? এতটুকু শিষ্টাচার-সম্মানবোধ কেন থাকবে না? একটি দলের মহাসচিবকে কেন আটক করতে হবে? কালকে (মঙ্গলবার) দেখলাম জামায়াতের আমীরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কয়েক দিন পর দেখবেন আমার অবস্থাও ‘কেরোসিন’! সবাইকেই কারাবন্দি করবে।

বুধবার বিকালে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের মহানগর কমিটির নগর সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনীতি, কল্যাণমুখী রাজনীতি এবং ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় নীতির পরিবর্তনের দাবিতে এ সম্মেলন হয়।

ফয়জুল করীম আরও বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলব- আপনার বাবা জেলে বন্দি থেকে কষ্ট পেয়েছেন বলে বারবার কাঁদেন। বর্তমানে জেলে ধুঁকে ধুঁকে মানুষ মরছে, তাদের ব্যথায় একবারও কেন কাঁদেন না? আপনি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য যা ইচ্ছা করতে পারেন। মাথায় পট্টি বাঁধতে পারেন, হাতে তসবিহ নিতে পারেন, চোখে পানি ঝরাতে পারেন, হজের মধ্যে তওবা করতে পারেন। আওয়ামী লীগ সরকারকে বলব- কোনো খুনি-জালেম ইতিহাসে স্থায়ী হয়নি। আপনি যদি বাংলাদেশের জনগণের ওপর স্টিমরোলার চালান, তাহলে এ দেশের মানুষ আন্দোলন করে উৎখাত করে ছাড়বে।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ছাত্র আন্দোলনের ছেলেদের চরিত্র গঠন করতে হবে। কারণ মাদার গাছ লাগিয়ে আমের আশা করা যায় না। চরিত্রহীন, দুষ্ট, খুনি, ডাকাত, বদমায়েশদের দ্বারা এ দেশে কোনো শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়নি, হবেও না। তাই ইসলামী ছাত্র আন্দোলন একঝাঁক চরিত্রবান যোগ্যতা সম্পন্ন নেতৃত্ব তৈরি করে এ দেশ শাসন করতে চায়।

সম্মেলনে প্রধান বক্তা ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি শরিফুল ইসলাম রিয়াদ। মহানগর শাখার সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।