বিএনপি গোলাপবাগ মাঠে ঘোড়ার ডিম পেরেছে : সাভারে ওবায়েদুল কাদের

106

স্টাফ রিপোর্টার : কোন প্রকার অনুমতি ছাড়া সমাবেশের ঘোষণা দিলেও নয়াপল্টনে জমায়েত হতে না পেরে গোলাপবাগে সমাবেশ করার মধ্যদিয়ে বিএনপির অর্ধেক পরাজয় হয়ে গেছে বলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। শনিবার ঢাকায় গোলাপবাগে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশ ছিলো। এদিনকে ঘিরে আজ শনিবার সাভারের রেডিও কলোনি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠের ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিরোধী দলকে উদ্দেশ করে বলেন, আজ বিএনপি গোলাপবাগ মাঠে ঘোড়ার ডিম পেরেছে। তিনি বলেন, আজকে কী? পল্টনে গেলেন না? গেলেন না? হাফ ডিফিট হয়ে গেছে।’


নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরাকরের দাবিতে গত ৮ অক্টোবর থেকে বিএনপি বিভাগীয় শহরগুলোতে ধারাবাহিক যে সমাবেশ করছে, তার শেষ কর্মসূচি হিসেবে ১০ ডিসেম্বর রাজধানীতে জমায়েতের ঘোষণা দেয়। আাগের সমাবেশগুলো নির্বিঘ্নে হলেও রাজধানীর সমাবেশস্থল নিয়েই তৈরি হয় বিরোধ। বিএনপি জমায়েত হতে চেয়েছিল নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে। কিন্তু পুলিশ অনুমতি দেয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, সেখানে যেতে আপত্তি জানায় দলটি।

বুধবার দলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে এসে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, পুলিশের কাজ পুলিশ করবে, তাদের জমায়েত হবে নয়াপল্টনেই।

এর কিছুক্ষণ পর বিএনপির কর্মীরা সড়কে অবস্থান নিতে থাকলে বাধা দেয় পুলিশ। শুরু হয় সংঘর্ষ। প্রাণ হারান একজন। বিএনপির কার্যালয় থেকে আটক হন কয়েক শ’ নেতা-কর্মী। যাদেরকে পরে বিস্ফোরক মামলায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। পরদিন সংবাদ সম্মেলনে এসে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘোষণা করেন, ‘সমাবেশ নয়াপল্টনেই, বাধা দিলে ব্যবস্থা নেবে জনগণ। তবে রাতে বরফ গলার ইঙ্গিত মেলে। বিএনপির সমাবেশ কমলাপুর স্টেডিয়াম বা মিরপুর বাঙলা কলেজ মাঠ-যে কোনো এক জায়গায় হবে বলে দলের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়। কিন্তু সেই রাতে গ্রেপ্তার হয়ে যান ফখরুল-আব্বাস দুই জনই। এরপর উত্তেজনার মধ্যে শুক্রবার দুপুরের পর ঠিক হয় সমাবেশটি হবে নয়াপল্টন থেকে কিলোমিটার পাঁচেক দূরে ঢাকার কেন্দ্রস্থলের বাইরে গোলাপবাগ মাঠে।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘নয়াপল্টনের অফিস প্রাঙ্গণে ১০ তারিখে সমাবেশের অনুমতি পায়নি। অনুমতি পাওয়ার আগেই তারা কী করেছে? তারা সেখানে প্রস্তুতি নিয়েছে। পুলিশ পরে তল্লাশি করে সেখানে কী পেল? ১৬০ বস্তা চাল, ওই যে হান্ডি পাতিল, মশারি-বিছানা, সব নিয়ে পিকনিক পার্টি শুরু করেছে এই নয়াপল্টনকে ঘিরে। নয়াপল্টনে সংঘর্ষের জন্য বিএনপিকেই দায়ী করেন কাদের। তার অভিযোগ, পুলিশের ওপর বিএনপিই হামলা করে সেদিন।

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘পুলিশের উপর হামলা, পুলিশ কি দাঁড়িয়ে ললিপপ খাবে? পুলিশের উপর হামলা চালাবে, পুলিশ কি দাঁড়িয়ে চুপ করে থাকবে? আত্মরক্ষা তাদেরও করতে হবে। সংসদের পদত্যাগের ঘোষণায় অনুতাপ করবে বিএনপি।

গোলাপবাগের সমাবেশে বিএনপির ৭ জন সংসদ সদস্যের পদত্যাগের যে ঘোষণা এসেছে, তা দলটির ভুল সিদ্ধান্ত বলেও মনে করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য পদত্যাগ করলেন। আপনারা ৭ জন গেলে জাতীয় সংসদ অচল হয়ে পড়বে এটা ভাবার কোনো কারণ নেই। এই ভুলের জন্য অনুতাপ বিএনপিকে করতে হবে। বিএনপিকে কোন ব্যবসায়ী, কোন শিল্পপতি টাকা দিচ্ছে জানি। বিএনপির এই বিভাগীয় সমাবেশগুলোকে পিকনিকের সঙ্গেও তুলনা করেন আওয়ামী লীগ নেতা। বলেন, যারা এই পিকনিকে টাকা দিচ্ছেন, তাদের বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।

কাদের বলেন, কোথা থেকে আসে টাকা, ফখরুল সাহেবদের? খবর নেয়া হচ্ছে কোথা থেকে টাকা আসে। কোন ব্যবসায়ী, কোন শিল্পপতি কতো টাকা দিয়েছে, সে খবর আমরা জানি। টাকা দিয়ে পিকনিক করাচ্ছে বিএনপি।’
‘বিএনপির লবিস্ট প্রকাশ পেয়ে গেছে’ র‌্যাবের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পেছনে বিএনপির লবিস্ট কলকাঠি নেড়েছিলেন বলেও দাবি করেন আওয়ামী লীগ নেতা। তিনি দাবি করেন, তার সবই এখন প্রকাশ পেয়ে গেছে। তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে র‌্যাবের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে না? বেড়িয়ে গেছে, ফাঁস হয়ে গেছে। ব্রিটিশ এক আইনজীবী তার নাম টবি ক্যাডম্যান। সে আল জাজিরায় বলেছে, ‘আমি লবি করেছি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে যাতে বাংলাদেশের র‌্যাব আর পুলিশের উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র আমার কথা শুনেছে। কিন্তু যুক্তরাজ্য শোনেনি।’ এ কথা ওই টবি স্বয়ং আল জাজিরাকে বলেছে।

সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিসেস হাসিনা দৌলার সভাপতিত্বে জনসভায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, এ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সংসদ সদস্য বেনজীর আহমেদ, টাঙ্গাইলের সংসদ সদস্য ছোট মনির, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুণ, সাভার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাভার পৌর মেয়র হাজী আব্দুল গনি, সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীবসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।