বিএনপির যুগপৎ আন্দোলন মাঠে গড়াচ্ছে

44

অবশেষে মাঠে গড়াচ্ছে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলন। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ, সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ নানা দাবি আদায়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কথা বলে আসছিল মাঠের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এ লক্ষ্যে সরকারবিরোধী দলগুলোর সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করে তারা। দীর্ঘদিন আলোচনার পর এবার মাঠে দেখা যাবে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীতে ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দল আলাদা আলাদা মিছিল করবে।

১০ দফা দাবিতে আগামী ২৪ ডিসেম্বর সারাদেশে গণমিছিল করবে বিএনপি। এ দিন আওয়ামী লীগের কাউন্সিল থাকায় ঢাকায় গণমিছিল না করার সিন্ধান্ত নেয় দলটি। ২৪ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ঢাকায় ৩০ ডিসেম্বর গণমিছিল করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি। এদিন সরকারবিরোধী দলগুলোও বিএনপির সঙ্গে একত্মতা প্রকাশ করে মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।

সরকার পতনের ১৪ দফা এবং ২০১৮ সালের ভোট কারচুরি ‘কালো দিবস’ উপলক্ষে আগামী ৩০ ডিসেম্বর গণমিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে রাজনীতিতে হঠাৎ আলোচনায় আসা গণতন্ত্র মঞ্চ।

গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক ও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আগামী ৩০ ডিসেম্বর কালো দিবসের প্রতি ঘৃণা নিক্ষেপ করে দেশব্যাপী যে নির্যাতন ও ধরপাকড়, বেগম জিয়ার মুক্তি, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি ও সরকারের অত্যাচার নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা দাবিতে সেদিন গণমিছিল ও সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করছি। কেন্দ্রীয় কর্মসূচি হিসেবে আমরা ঢাকায় মহানগরীতে বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আমরা সমাবেশ করব এবং সেখান থেকে গণমিছিল শুরু হবে।

মাঠে থাকবে ২০ দলীয় জোটভুক্ত ১১টি দল। তারা ওইদিন গণমিছিল কর্মসূচি পালন করবে। দলগুলো হচ্ছে, জাতীয় পার্টি (জাফর), কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয় দল এনডিপি, বাংলাদেশ এলডিপি, ইসলামী ঐক্য জোট, মুসলিম লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল।

দলগুলো থেকে বলা হয়, বিএনপি ঘোষিত ১০ দফা কর্মসূচির আলোকে ভোট জালিয়াতি ও ভোট চুরির প্রতিবাদে, অনির্বাচিত ‘দুর্নীতিবাজ’ সরকারের পদত্যাগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং গ্রেপ্তারকৃত সব রাজনৈতিক নেতার মুক্তির দাবিতে এ গণমিছিল কর্মসূচি পালন করা হবে।

যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিএনপির সঙ্গে রাজপথে থাকবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)। আগামী ৩০ ডিসেম্বর বিকাল ৩টায় রাজধানীর পূর্বপান্থপথস্থ এলডিপি কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল করবে দলটি। মিছিল মালিবাগ মোড়ে গিয়ে শেষ হবে। এলডিপির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এ কথা জানান।

ওইদিন রাজধানীতে গণমিছিল করবে জামায়াতে ইসলামীও। এ ছাড়া ২৪ ডিসেম্বর দেশের বিভিন্ন মহানগর ও জেলা-উপজেলায় গণমিছিল করবে তারা। দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

আরো কয়েকটি দল এদিন গণমিছিল করবে। বিএনপি সূত্র বলছে গণমিছিলের মাধ্যমে যুগপৎ আন্দোলন শুরু হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে কর্মসূচি আরো আসবে। যুগপৎ আন্দোলনে সবার জন্য দোয়ার খোলা রয়েছে। যারা নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচনের মত কমন দাবিতে একমত তারাই বিএনপির নেতৃত্বাধীন এই যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নিতে পারবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এই লড়াইয়ে দেশের অনেক রাজনৈতিক দল যুক্ত হয়েছে। তারা গণতন্ত্র চান, তারা জনগণের নির্বাচিত শাসন চান, তারাও অত্যাচার-অনাচারের অবসান চান, লুটপাটের অবসান চান। তাদের অনেকই একই কর্মসূচি ঘোষণা করছেন। আগামী দিনে আমরা যুগপৎ আন্দোলের মাধ্যমে এই সরকারের পতন ঘটাতে পারবো।