ফ্রান্স জিতেছে ম্যাচ, মরক্কো জিতেছে হৃদয়

44

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের পর টকস্পোর্টের প্রেজেন্টর আদ্রিয়ান ডারহাম বলেন, ‘ফ্রান্স ম্যাচ জিতেছে, আর মরক্কো জিতেছে হৃদয়।’ সত্যিই তাই। বিশ্বকাপ শুরুর আগে সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট নিয়ে একটি জরিপ করা হয়। মরক্কোর ফাইনাল খেলার পক্ষে ভোট পড়ে মাত্র ০.০১ শতাংশ। আফ্রিকার একটি দেশ, যারা এর আগে মাত্র একবারই বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে খেলতে পেরেছে, তাদের পক্ষে  বাজির রেট  কম থাকাই স্বাভাবিক। ক্ষীণ আশাকে জোর সম্ভাবনায় রূপ দিয়ে ফাইনাল খেলতে না পারলেও সমর্থকদের হতাশ করেনি মরক্কো। আফ্রিকা মহাদেশের প্রথম দল হিসেবে বিশ্বমঞ্চে সেমিফাইনালে লড়েছে মরোক্কানরা। চমক জাগানিয়া পারফরম্যান্সে হৃদয় কেড়েছে ফুটবল প্রেমীদের। মরক্কো কোচ ওয়ালিদ রেগরাগির ভাষ্য, গোটা বিশ্ব তার দলকে নিয়ে গর্বিত।

গ্রুপপর্ব থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত আনবিটেন ছিল মরক্কো। ৫ ম্যাচে মাত্র একটি গোল হজম করেছিল দলটি। সেমিফাইনালে ২-০ গোলে হারলেও ফরাসিদের সঙ্গে পায়ে পায়ে লড়াই করেছে হাকিমি-জিয়াশরা।

আক্রমণে ফ্রান্সের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মরক্কো বল দখলে বেশ এগিয়ে ছিল। ৬২ শতাংশ বল পজেশনে রেখে ফ্রান্সের গোলবারের উদ্দেশ্যে ১৩টি শট নেয় মরক্কো। লক্ষ্যে ছিল ৩টি। ১৪টি শট নিয়ে ফ্রান্সও টার্গেটে রাখে ৩টি। ফরাসিদের দখলে ছিল মাত্র ৩৮ শতাংশ বল। এমন নান্দনিক পারফরম্যান্সে ম্যাচ না জিতলেও কোটি কোটি ফুটবল ভক্তের হৃদয় ঠিকই জিতে নিয়েছে মরক্কো। ম্যাচশেষে কোচ রেগরাগি বলেন, ‘ইতোমধ্যেই আমরা অনেক বড় অর্জন করেছি। আমরা সংবাদ পড়েছি, সোশ্যাল মিডিয়া এবং টিভিতে দেখেছি যে, আমাদের দেশের মানুষ কতটা গর্বিত আমাদের নিয়ে।’
রেগরাগি বলেন, ‘মরোক্কানদের আনন্দে ভাসাতে পারিনি বলে দুঃখিত। আমরা স্বপ্নটা জিইয়ে রাখতে চেয়েছিলাম। তবে আমরা যা অর্জন করেছি, তা নিয়ে সন্তুষ্ট। আমরা আরো দূর যেতে পারতাম। ম্যাচের ছোট ছোট বিষয় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।’

 

রেগরাগি বলেন, ‘আমি মনে করি গোটা বিশ্ব মরক্কো দলকে নিয়ে গর্বিত। আমরা অনেক বড় স্বপ্ন লালন করেছি। কঠোর পরিশ্রম করেছি। ছেলেরা ফেয়ার ফুটবল খেলেছে। আমরা বিশ্বকে মরক্কোর সুন্দর একটি প্রতিচ্ছবি দেখিয়েছি। আফ্রিকান ফুটবলকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরেছি। এসব আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমরা আমাদের দেশ এবং মহাদেশের প্রতিনিধি।’

সেমিফাইনাল ম্যাচের শুরুতেই  পিছিয়ে পড়ে মরক্কো। পঞ্চম মিনিটেই থিও হার্র্নান্দেজের গোলে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। এই গোলই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয় বলে মন্তব্য করেন মরক্কো কোচ রেগরাগি। তিনি বলেন, ‘আজ (বুধবার) আমার একমাত্র অনুশোচনা ম্যাচের শুরু নিয়ে। বাজেভাবে আরম্ভ করি আমরা এবং দ্রুতই গোল হজম করি। এটাই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেয়।’

বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সকে সমর্থন দেবেন ওয়ালিদ রেগরাগি। তিনি বলেন, ‘গোলের জন্য সবকিছু করেছি আমরা। ফ্রান্সকে অভিনন্দন। আমরা এবার তাদের সমর্থন দেব।’