দেশে কূটনীতিকদের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে : আমীর খসরু

52

 

বাংলাদেশের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, এখন দেখা যাচ্ছে কূটনৈতিকদের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, তাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক আছে, বাণিজ্য আছে। তাদের সাথে সম্পর্ক আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আজ বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) বিএনপির চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

খুসরু বলেন, এটাতো গভীর উদ্বেগের বিষয়। একজন কূটনৈতিক একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে গিয়েছেন। এবং সেখানে যাওয়ার পরে একটি সরকার দলের মদদে, সহযোগিতায় আর কিছু লোক আরেকটি প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে উপস্থিত হওয়াটাই তো আইনবিরোধী। কেউ যদি তাদের নিজেদের অনুষ্ঠান করতে চায় তাদের ফ্রিডম আছে। কিন্তু আর একটা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠানে গিয়ে বাধা দেয়ার প্রক্রিয়া, সেটাকে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া। এটাতো অগণতান্ত্রিক।

তিনি আরো বলেন, এ ধরনের ঘটনা আগেও দেখেছি এটা তো প্রথম না। এই সরকারি দলের মদদে ও সরকারের মদদে এর আগেও মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট এক নৈশ ভোজনে যাওয়ার সময় তার ওপর আক্রমণ করেছে ও ভাঙচুর করেছে। বিএনপির একটি মানবাধিকার অনুষ্ঠানে একই লোক সেখানে গিয়ে বাধগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। এই যে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিয়ে বাধা দেয়ার চেষ্টা সরকারি মদদে। এটাতো আওয়ামী লীগের চরিত্রে পরিণত হয়েছে।

আমির খসরু বলেন, একদিকে বাংলাদেশের মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, এখন দেখা যাচ্ছে কূটনৈতিকদের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক আছে, বাণিজ্য আছে। তাদের সাথে সম্পর্ক আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মানুষের নিরাপত্তাহীনতা ও কূটনীতিকদের নিরাপত্তাহীনতা এটা কি প্রতিফলন ঘটে। এটাতো বাংলাদেশের জন্য বিদেশে ও বাইরে দেশের ভাবমূর্তি ভীষনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সরকার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে কোনো জায়গায় যাওয়ার আগে আমাদেরকে বলে যাওয়া হয়নি এমন মন্তব্যে খসরু বলেন, এটা কোথায় বলা আছে? সরকারকে বলে কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়া যাবে না। সরকারকে না বলে কেউ গেলে তারা যে নিরাপত্তা পাবে না এটা হয় কি! তাদেরকে বলে গেলে নিরাপত্তা পাবেন, আর না বলে গেলে নিরাপত্তা পাবেন না! এমন কথায় কি দেশের নিরাপত্তার চরিত্র প্রতিপালন ঘটছে না?

এর আগে মার্শা বার্নিকাটের গাড়িবহরে যে হামলা করা হয়েছিল তার তো বিচার হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার পক্ষে কথাবার্তায় মনে হয় তাদের মদদে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। তা সরকারের মন্ত্রীদের কথাবার্তায় পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। কারণ তাদের মদদ ছাড়া এ ধরনের কাণ্ড সম্ভব নয়। এ ঘটনা যারা করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। সরকার চাচ্ছে এই ধরনের ঘটনা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হোক। দেশের মানুষকে যেভাবে ভয়-ভীতি মাধ্যমে তারা চেপে রাখতে চাচ্ছে। এখন কূটনৈতিকদের মাঝেও ভয়-ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করে তাদের অবৈধ সরকার, দখলদার সরকার, অব্যাহতভাবে ক্ষমতায় থাকার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির শামা ওবায়েদ, চেয়ারপারসনের প্রেস উইং কর্মকর্তা শায়রুল কবির খান, শামুদ্দিন দিদার।