দেশের প্রথম মেট্রোরেলের চাকা ঘুরবে বুধবার

18

স্টাফ রিপোর্টার : বিশ্বে আধুনিক নগর যোগাযোগ ব্যবস্থায় অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ মেট্রোরেল। লন্ডনে সর্বপ্রথম এই রেলব্যবস্থা চালু হয়। এবার তালিকায় যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশের নাম।

বুধবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা এগারোটায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের প্রথম মেট্রোরেল উদ্বোধন করবেন। এর পরদিন থেকে সাধারণ যাত্রীরা চড়তে পারবেন। আপাতত উত্তরা থেকে দুরন্ত গতিতে মেট্রো যাবে আগারগাঁওয়ে।

রাজধানীবাসীসহ দেশের কোটি জনতা অপেক্ষা করছে মেট্রোরেল (এমআরটি লাইন ৬) উদ্বোধনের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্যে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাষ্য, স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন স্মার্ট যানবাহন। পৃথিবী এগিয়ে চলেছে আমরা পিছিয়ে থাকতে পারি না।

২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের প্রথম অংশ চালু হলেও আগারগাঁও থেকে মতিঝিল পর্যন্ত দ্বিতীয় অংশ  ২০২৩ সালের শেষ দিকে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। আর মতিঝিল থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত বর্ধিতাংশ চালু হতে পারে ২০২৫ সালের মধ্যে।

সড়কমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঘোষণা দিয়েছেন, ২০৩০ সালে ছয়টি এমআরটি লাইন ঢাকায় তৈরি করা হবে।

ঢাকার প্রথম মেট্রোরেল যা এমআরটি লাইন-৬ নামে পরিচিত, এই প্রকল্প সরকার হাতে নেয় ২০১২ সালে। এমআরটি লাইন-৬ প্রকল্পের প্রথমে ব্যয় ছিল ২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা।

পরে মতিঝিল থেকে কমলাপুর বাড়তি অংশ যোগ হওয়ায় ব্যয় বাড়ে ১১ হাজার ৪৯৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা। তখন এ প্রকল্পে সর্বোমোট ব্যয় দাঁড়ায় ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা।

এর মধ্যে উন্নয়ন সহযোগী জাইকার করছে ১৯ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা। আর সরকারি অর্থায়ন ১৩ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা।

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্র জানায়, ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ পর্যায়ক্রমে তিন ধাপে শেষ করা হবে।

এমআরটি লাইন-৬ বাদে অন্য প্রকল্পের অগ্রগতিও হচ্ছে সময়মতো। দ্বিতীয় পর্যায়ে ২০২৮ সালের মধ্যে এমআরটি লাইন-৫ নর্দার্ন রুটের নির্মাণকাজ শেষ করা হবে। তৃতীয় পর্যায়ে ২০৩০ সালের মধ্যে এমআরটি লাইন-৫: সাউদার্ন রুট, এমআরটি লাইন-২, এমআরটি লাইন-৪ ও এমআরটি লাইন-১ এর নির্মাণকাজ শেষ করা হবে।

এমআরটি লাইন-১

এমআরটি লাইন-১ বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর ও নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল দুইভাগে বিভক্ত। এই রুটে ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার পথে মেট্রোরেল নির্মিত হবে। এই প্রকল্পে ব্যয় হবে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা।

এর মধ্যে জাপান সরকার দেবে ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি টাকা, বাকি ১৩ হাজার ১১১ কোটি টাকা আসবে সরকারি তহবিল থেকে।

এমআরটি লাইন-২

২০৩০ সালের মধ্যে গাবতলী থেকে চট্টগ্রাম রোড পর্যন্ত উড়াল ও পাতাল সমন্বয়ে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ জিটুজি ভিত্তিতে পিপিপি পদ্ধতিতে এমআরটি লাইন-২ নির্মাণের লক্ষ্যে জাপান ও বাংলাদেশ সরকার সহযোগিতা স্মারক সই করেছে।

এমআরটি লাইন-৩ 

এটি মেট্রোরেল নয়, এটিকে বলা হচ্ছে মেট্রোরেল বিআরটি। এমআরটি লাইন ৩ এ প্রকল্পটি গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত নির্মাণ হচ্ছে।

এমআরটি লাইন-৪ 

এমআরটি লাইন-৪ এরও নির্মাণকাজ শেষ করা হবে ২০৩০ সালের মধ্যে। পিপিপি পদ্ধতিতে কমলাপুর-নারায়ণগঞ্জ রেলওয়ে ট্র্যাকের পাশ দিয়ে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল মেট্রোরেল হিসেবে এমআরটি লাইন-৪ নির্মাণের উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন।

এমআরটি লাইন-৫  

২০২৮ সালের মধ্যে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত পাতাল ও উড়াল সমন্বয়ে ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ মেট্রোরেল নির্মাণ করা হবে। ইতোমধ্যে এর সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। মূল নকশা কাজের অগ্রগতি ৫০ দশমিক ৩৩ শতাংশ।