দিনের শেষ বলেও উইকেট, ভারতের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৭৮

30

৪৮ রানে ৩ উইকেট, ১১২ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর দিনটা বাংলাদেশের বোলারদেরই ধরে নিয়েছিলো প্রায় সবাই। কিন্তু চেতেশ্বর পুজারা এবং স্রেয়াশ আয়ার মিলে পঞ্চম উইকেট জুটিতে ১৪৯ রানের বড় জুটি গড়ে বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন।

কিন্তু দিনের শেষ ভাগে এসে দ্রুত দুটি উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে আবার খেলায় ফেরান দুই স্পিনার তাইজুল ইসলাম এবং মেহেদী হাসান মিরাজ। ৯০ রান করা চেতেশ্বর পুজারাকে ফেরান তাইজুল এবং দিনের একেবারে শেষ বলে অক্ষর প্যাটেলকে এলবিডব্লিউতে শিকার করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

যার ফলে চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিন ৬ উইকেট হারিয়ে ২৭৮ রান সংগ্রহ করেছে ভারত। ৮২ রান নিয়ে উইকেটে রয়েছেন স্রেয়াশ আয়ার। তাইজুল ৩টি, মেহেদী হাসান মিরাজ ২টি এবং খালেদ আহমেদ নেন ১টি উইকেট।

সকালে টস জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন লোকেশ রাহুল। ব্যাট করতে নেমে রাহুল এবং শুভমান গিল মিলে ৪১ রানের জুটি গড়ে বিচ্ছিন্ন হন। শুভমান গিল এ সময় আউট হন ২০ রান করে। লোকেশ রাহুল আউট হন ২২ রান করে। বিপজ্জনক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা ছিল বিরাট কোহলির। শেষ ওয়ানডে তে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন তিনি।

bd team
কিন্তু কোহলিকে উইকেটেই দাঁড়াতে দেননি তাইজুল ইসলাম। মাত্র ৫টি বল খেললেন তিনি। পঞ্চম বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান বিরাট কোহলি। শার্প টার্ন ছিল। বল প্যাডে লাগতেই আঙ্গুল তুলে দেন আম্পায়ার। কিন্তু পুজারার সঙ্গে আলোচনা করে রিভিউ চেয়ে নেন কোহলি। রিভিউ দেখে বোঝা গেলো, পরিষ্কার আউট। আম্পায়ার নিজের সিদ্ধান্তই বহাল রাখলেন। ১ রান করে বিদায় নেন কোহলি।

৪৮ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর ৬৪ রানের জুটি গড়ে তোলেন পুজারা এবং রিশাভ পান্ত। ওয়ানডে স্টাইলে খেলে ৪৫ বলে ৪৬ রান সংগ্রহ করেন পান্ত। এরপরই মেহেদী হাসান মিরাজের বলে পেছনের পায়ে দাঁড়িয়ে পয়েন্টে খেলতে গিয়ে স্ট্যাম্পই হারিয়ে বসেন তিনি।

৩২তম ওভারে ৪র্থ উইকেট পড়ার পর ক্রিজে এসে সেট হয়ে যান পুজারা এবং স্রেয়াশ আয়ার। দু’জন খেলেন একেবারে শেষ বিকেল পর্যন্ত। ১৪৯ রানের জুটি গড়ে ভারতকে একটা ভালো জায়গায় নিয়ে আসেন। দিনের কেবল ৫.৪ ওভার বাকি তখন। এ সময় তাইজুলের হালকা ইনসুইং করা বলে বোল্ড হয়ে গেলেন পুজারা। ২০৩ বল খেলে ৯০ রান করেন তিনি।

অবশ্য তার আগেই দুটি উইকেট পড়তে পারতো। একটি ক্যাচ ছেড়ে দেন এবাদত হোসেন। ৭৬তম ওভারে মেহেদি হাসান মিরাজের বলে ডিপ মিডউইকেটে শ্রেয়াস আয়ারের সহজ ক্যাচ ফেলে দেন তিনি। আয়ার তখন ব্যাট করছিলেন ৬৭ রানে। এরপর ৮৪ তম ওভারেই এবাদত হোসেনের বল স্ট্যাম্প ছুঁয়ে যায়। কিন্তু বেল না পড়ার কারণে এবারও বেঁচে যান স্রেয়াশ আয়ার। পরের ওভারেই পড়লো পুজারার উইকেট।

দিনের শেষ ওভারের বল করতে আসেন মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম বলেই অক্ষর প্যাটেল একটি বাউন্ডারি মারেন। পরের চার বল কোনো রান নিতে পারেননি। শেষ বলে ব্যাট মিস করেন প্যাটেল বল গিয়ে আঘাত হানে প্যাডে। আবেদন করতেই আঙ্গুল তুলে দেন আম্পায়ার। রিভিউ নেন প্যাটেল। কিন্তু রিভিউতে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকলো। শেষ বলে নিশ্চিত হলো উইকেট।