থাইল্যান্ডে সব আন্তর্জাতিক পর্যটকের জন্য নতুন বিধিনিষেধ

39

চীনসহ বিভিন্ন স্থানে করোনা সংক্রমণ নতুন করে বৃদ্ধি পাওয়ায় সব আন্তর্জাতিক সফরকারীর জন্য কোভিড-১৯ বিষয়ক নিয়ম নতুন করে চালু করছে থাইল্যান্ড। সোমবার থেকে এই নিয়ম চালু হচ্ছে। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী এ কথা বলেছেন। বিশেষ করে চীন থেকে যাওয়া পর্যটকদের নিরাপদে স্বাগত জানানোর উপায় খুঁজছে থাই জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এই একটি দেশের পর্যটকদের টার্গেট করতে গিয়ে মন্ত্রণালয় সব বিদেশি সফরকারীদের প্রমাণ দেখাতে বলেছে যে, তারা করোনার টিকা নিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে দ্য স্ট্রেইটস টাইমস। মন্ত্রীর রাজনৈতিক দলের ওয়েবসাইটে সাক্ষয়াম চিডছোব অনুযায়ী, প্রাপ্ত বয়স্কদের কমপক্ষে দুই ডোজ টিকা নেয়া অথবা এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার বিষয়ে প্রমাণ দেখাতে হবে।

ওই সাইটে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, যেসব পর্যটক টিকা নেননি, তার স্বপক্ষে টিকা না নেয়ার যৌক্তিকতার মেডিকেল রিপোর্ট উপস্থাপন করতে হবে। এই নিয়ম ৩১শে জানুয়ারি পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। যেসব দেশের পর্যটকদের পৌঁছার পর কোভিড-১৯ পরীক্ষার নিয়ম আছে তাদেরকে অবস্থানকালে স্বাস্থ্যবীমা দেখাতে হবে।
এক্ষেত্রে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ কোভিড-১৯ এর ১৬টি টিকার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে।

৬ই জানুয়ারি থেকে থাইল্যান্ডে প্রবেশের ক্ষেত্রে এসব টিকা গ্রহণযোগ্য হবে। এর মধ্যে আছে জনসন অ্যান্ড জনসনের জ্যানসেন টিকার একটি ডোজ, অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুটি ডোজ, মডার্নার দুই ডোজ, ফাইজারের দুই ডোজ অথবা আনহুই ঝিফেই লগকম-এর তিনটি ডোজ।
এ ছাড়া সম্প্রতি কোভিড-১৯ বিষয়ে আরও কিছু দেশ নতুন করে বিদেশি প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম আরোপ করেছে। এর মধ্যে চীন, হংকং, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর এবং থাইল্যান্ডের কোনো পর্যটক ভারতে প্রবেশ করতে হলে তাদেরকে বাধ্যতামুলকভাবে কোভিড-১৯ পরীক্ষা করাতে হবে। এই নিয়ম এ মাসে চালু হয়েছে। গত অক্টোবরে ব্যাংকক টিকা নেয়ার বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করে। কিন্তু প্রতিবেশী চীনে সম্প্রতি জিরো-টলারেন্স নীতি প্রত্যাহার করার পর সেখানে করোনা সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর প্রেক্ষিতে করোনা সংক্রমণ থাইল্যান্ডেও পৌঁছাতে পারে। এই আশঙ্কায় তারা বিদেশি পর্যটক প্রবেশের ক্ষেত্রে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। রোববার ৮ই জানুয়ারি থেকে চীনের দরজা বিশ্বের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

ফলে এ বছরের প্রথম চতুর্ভাগে থাইল্যান্ডে কমপক্ষে তিন লাখ চীনা পর্যটক সফরে যেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। ভয়ে থাইল্যান্ডে আতঙ্কটা থাকা স্বাভাবিক। এ দেশটি গত বছর পর্যটন খাতে এক কোটি বিদেশি পর্যটক প্রত্যাশা করেছিল। এসবের প্রেক্ষিতে চীন থেকে প্রথম বাণিজ্যিক ফ্লাইটÑ সিয়ামেন এয়ারলাইন্স ফ্লাইট এমএফ৮৩৩ থাইল্যান্ডে পৌঁছার কথা সোমবার। এই ফ্লাইটে যাওয়ার কথা রয়েছে ২৮৬ জন যাত্রীর। রোববার এ তথ্য দিয়েছেন সরকারের মুখপাত্র ট্রাইসুরি তাইসারানাকুল। কিন্তু নতুন আরোপিত নিয়ম পর্যটকদের মেনে চলার কথা বলা হয়েছে। তা নিশ্চিত করতে হবে ওই এয়ারলাইন্সকে। যেসব যাত্রীর মধ্যে কোভিড-১৯ এর লক্ষণ দেখা দেবে তাদেরকে পৌঁছামাত্রই পরীক্ষা করাতে বলা হয়েছে।