ঢাকা ‘বিএনপিকে দিয়ে’ শনিবার সাভার যাচ্ছেন কাদের

93

 

বিএনপির সমাবেশ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে সাধারণ মানুষকে ‘আতঙ্কিত না হওয়ার’ পরামর্শ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে এক প্রতিবাদ সভায় তিনি বলেন, “আতঙ্কের কারণ নেই, আমরা চলে যাচ্ছি কাল সাভারে। ঢাকায় আমরা নাই।”

‘বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচারের’ প্রতিবাদ জানাতে সাভারের রেডিও কলোনি স্কুলমাঠে জনসভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। সেই জনসভায় যোগ দিতেই কাদের শনিবার সাভার যাবেন।

এদিকে বিএনপি শনিবার যাত্রাবাড়ীর গোলাপবাগ মাঠে তাদের ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ করার অনুমতি পেয়েছে। তার আগে ঢাকার সড়ক-মহাসড়কে যানবাহন চলাচল কমে গেছে। ঢাকার প্রতিটি প্রবেশমুখে পুলিশি চেকপোস্টে তল্লাশি চলছে। জরুরি প্রয়োজন কেউ বের হচ্ছেন না খুব একটা।

কাদের বলেন, “তারা থাকবে গোলাপবাগে, মানুষ কেন আতঙ্কিত হবে? জনগণকে বলব, আতঙ্কের কারণ নেই। আমরা চলে যাচ্ছি কাল সাভারে। ঢাকায় আমরা নাই, আমরা কাল সাভারে চলে যাচ্ছি।

“বিএনপি…  এই শহর তাদের দিয়ে গেলাম। আতঙ্ক কেন। আমরা ক্ষমতায়, আমরা কেন অশান্তি চাইব? আমরা কেন বিশৃঙ্খলা করব? আরও এক বছর বাকি, নির্বাচন হবে ইনশাল্লাহ।”

গোলাপবাগে সমাবেশ করতে রাজি হওয়ায় বিএনপির ‘অর্ধেক পরাজয়’ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, “বিএনপি আজ বলে, সরকার নাকি ভয় পেয়েছে। সরকার ভয় পেয়েছে? মহানগর নাট্যমঞ্চে সভা, এদিকে গুলিস্তান, বঙ্গভবনের আশপাশ এলাকায় লোকে লোকারণ্য।

“কাদের পরাজয় হল? অর্ধেক পরাজয় হযে গেছে পল্টনে সমাবেশ করতে পারেনি। আন্দোলন কর্মসূচির পরাজয় এখানেই অর্ধেক হয়ে গেছে।”

সঙ্কটের মেঘ চলে যাওয়ার আভাস আগেই দেওয়ার কথা তুলে ওবায়দুল কাদের বলেন, “আমি দুদিন আগে বলিনি যে মেঘ চলে যাবে? আমি বলিনি যে, বিএনপি শেষ পর্যন্ত সমাধানে আসবে? পল্টন থেকে ভেবেছিলাম বাংলা কলেজ, না হলে গোলাপবাগ। অবশেষে মেনে নিয়েছে, শুভ বুদ্ধির উদয় হয়েছে।”

দলের নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “তৈরি হয়ে যান, প্রস্তত হয়ে যান। যারা আমার সহস্র জননীর বুক খালি করেছে, যারা এদেশের শত শত মায়ের কোল খালি করেছে, সন্তানহারা মায়ের কান্না, স্বামী হারা নববধূর ফরিয়াদ, ভাইহারা বোনের আর্তনাদে বাংলার বাতাস আজও ভারী।

“যারা ২১ অগাস্ট ও ১৫ আগস্ট ঘটিয়েছে। যারা ৩ নভেম্বর জেল হত্য করেছে, যারা জয় বাংলা নিষিদ্ধ করেছে, যারা মুক্তি যুদ্ধের মুল্যবোধ নিষিদ্ধ করেছিল, যারা স্বাধীনতার ভাষণ নিষিদ্ধ করেছিল, যারা হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ থেকে পাচার করেছে, আমেরিকা সিঙ্গাপুরে ধরা খেয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে খেলা হবে।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে না ফেরার প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, “জেলে গিয়ে রাজনীতি করবেন, সেই সাহস তারেক রহমানের নেই। বলে আসবে! কবে আসবে? ২০০৭ সাল সেই থেকে পনেরো বছর, পনেরো বছরে এল না, আসবে কবে? কবে আসবে?

“ক্ষমতায় গিয়ে আন্দোলনের মুখে তাকে নিয়ে আসবেন। ওই চিন্তা করে লাভ নেই। বিএনপি স্বপ্ন দেখছে, দিবাস্বপ্ন। বিএনপি দুঃস্বপ্ন দেখছে, অচিরেই ক্ষমতাকেন্দ্রীক রঙ্গিন খোয়াব কর্পুরের মত উবে যাবে।”

বাংলাদেশের নিজস্ব বিষয়ে বিদেশিদের হম্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বিদেশি বন্ধুদের বলি, আমরা আপনাদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করি না। এই দেশের দূতাবাসে যে সকল বন্ধুদেশের প্রতিনিধি আছে, আপনারা এখানে কারও পক্ষ নিবেন না। আমাদের ঘরের ভেতরে হস্তক্ষেপ করবেন না। আমরা জানি আমাদের গণতন্ত্র কীভাবে সংরক্ষণ করবো।”

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, “বিএনপিকে ক্ষমতায় আনার প্রতিযোগিতায় নেমেছে কিছু মিডিয়া। আপনারা তাদের চিনেন, চিনে রাখুন। সময় মত জবাব পাবে তারা।

“সত্যের বিরুদ্ধে যারা আজকে যাচ্ছে। কোন কোন মিডিয়া রাতে এবং সকালে যখন দেখি, মনে হয না এখানে আর কোনো দল আছে। আওয়ামী লীগ ছাড়া বাংলাদেশে আর কোন দল বলেন? চট্রগ্রাম, যশোর, কক্সবাজার শেখ হাসিনা দেখিয়ে দিয়েছে। তাদের সব সমাবেশ চট্রগ্রামের সমান হবে না।”

ঢাকা নগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাতিত্বে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, মো. শাজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মির্জা আজম, এসএম কামাল হোসেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র শেখ ফজলে নুর তাপস, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণে সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির সভায় বক্তব্য দেন।