ডোনাল্ড লুর সফর নিয়ে মার্কিন দূতাবাসের বিবৃতিই যথেষ্ট: ফখরুল

24

দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর ঢাকা সফর সম্পর্কে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ বিষয়ে গতকাল (মঙ্গলবার) রাতে মার্কিন দূতাবাস থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, এ সফরকে ব্যাখ্যা বা বিশ্লেষণ করার জন্য সেটিই যথেষ্ট। আজ বুধবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্ন ছিল, মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে আপনাদের পর্যবেক্ষণ কী? জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার তো মনে হয়, গতকাল মার্কিন দূতাবাস থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, দ্যাট ইজ এনাফ টু এক্সপ্লেইন দিস। অর্থাৎ, এই সরকার মিডিয়াকে এড়িয়ে, জোর করে একটা কথা বলতে চেয়েছে জনগণের সামনে যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার অবস্থান পরিবর্তন করেছে এবং তারা নিষেধাজ্ঞা (র‍্যাবের ওপর আরোপিত) তুলে নেবেন এবং বাংলাদেশের সরকার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচন করতে চায়।

এই ধরনের একটা ধারণা জনগণকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।’ বিএনপির মহাসচিব যোগ করেন, ‘কিন্তু রাতে (গতকাল মঙ্গলবার) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের যে বিবৃতি, সে বিবৃতিতে সেটা পরিষ্কার হয়ে গেছে। আসলে অতীতেও আওয়ামী লীগের জনবিচ্ছিন্ন এ সরকার, তারা সব সময় মিথ্যাচার করে এসেছে। অত্যন্ত দুঃখের ও লজ্জার বিষয়, এই মিথ্যাচারটা তারা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে। মার্কিন দূতাবাস সেটার প্রতিবাদও জানিয়েছে।’

এই সফরে বিএনপি পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বরাবরই যেটা মনে করি, বিদেশের শক্তির ওপর নির্ভর করে কখনো গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করা যায় না। জনগণের শক্তির ওপরই এখানে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বরাবরই এবং এবারও জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে। জনগণ সব বাধা-বিপত্তি, হত্যা, অত্যাচার-নির্যাতনকে উপেক্ষা করে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের যে প্রতিবাদ, সেটা তারা জানাচ্ছে এবং সেভাবে তারা সংগঠিত হচ্ছে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সুতরাং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলুন, চীন বলুন বা রাশিয়া বলুন, বা ভারত বলুন; তারা কী বলবেন না বলবেন—তাদের নিঃসন্দেহে একটা জিও পলিটিক্যাল সিচুয়েশন থাকে। আমরা যেটা লক্ষ করছি, গণতন্ত্রের ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে কমিটমেন্ট, সেই কমিটমেন্ট অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে তারা প্রকাশ করেছে, এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, একটি অংশীদারমূলক নির্বাচনের ব্যাপারেও তারা তাদের যে মন্তব্য, তারা অবশ্যই সেটা করেছেন।’

এ প্রসঙ্গে ঢাকায় সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়ার একটি বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কোথাও কোনো সমস্যা দেখলে আমরা কথা বলব এবং কোথাও পরামর্শ দেওয়ার থাকলে আমরা দেব।’

এ বক্তব্যের উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, তিনি (সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু) একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলছেন, ‘আমরা যেখানে গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সেখানে কথা বলব এবং আমরা আমাদের পরামর্শের কথা জোর দিয়ে বলব। সে পরামর্শ তারা দিয়ে গেছেন।’

সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর ঢাকা সফরের সময় তাঁর সঙ্গে বিএনপির কোনো যোগাযোগ হয়েছিল কি না বা যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল কি না, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘না, আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ হয়নি। সে ধরনের কোনো কর্মসূচিও ছিল না। আপনারা দেখেছেন, এর আগেও যদি এ ধরনের কোনো কর্মসূচি থাকে, সে ক্ষেত্রে তারা আগেই আমাদের জানান দিয়েছে, আমরা গেছি। এবার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই তারা কোনো যোগাযোগ করেনি।’

এই সফরের পর সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, ‘আপনারা (বিএনপি) যেটা প্রত্যাশা করেছিলেন, সেটা হয়নি। আপনারা হতাশ হয়ে পড়েছেন।’ জবাবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘মন্ত্রীরা তাঁদের দৃষ্টিকোণ থেকে বলছেন।

তিনি জানলেন কোত্থেকে যে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম। বরং তাঁরা এত হতাশ হয়েছেন যে বলতে বাধ্য হয়েছেন, আমরা চেষ্টা করছি তাদের—যুক্তরাষ্ট্রের—যে নিষেধাজ্ঞা, সেটা প্রত্যাহারের জন্য চেষ্টা করছি। কীভাবে একজন মন্ত্রী বলতে পারেন যে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাবে। এ কথা তো তারা বলেনি।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে আনন্দিত হইনি। বারবার বলেছি, এই নিষেধাজ্ঞা মানেই হচ্ছে আমাদের জন্য, বাংলাদেশের জন্য লজ্জাজনক। এই নিষেধাজ্ঞা তো আসলে সরকারের ওপর। কারণ, সরকারের নির্দেশে এ সমস্ত ঘটনাগুলো ঘটেছে, র‍্যাবের গুমের ঘটনাগুলো।’

চলমান আন্দোলনের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির এই নেতা বলেন, এখন নিষেধাজ্ঞা তো জনগণ দিচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কী দিল না দিল, এটা বিষয় না। নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে জনগণ এবং সামনে জনগণ সে নিষেধাজ্ঞাকে বাস্তবায়িত করবে।

এক সাংবাদিক জানতে চান, আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু করার ব্যাপারে সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে, এ বিষয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়া কী। জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে স্পোকসম্যান ওয়াশিংটন থেকে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তিনি বলেছে যে হ্যাঁ, প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেছেন। কিন্তু কাজে এবং কথায় কতটুকু মিল হবে, সেটা আমাদের দেখতে হবে।’

বিএনপির মহাসচিব যোগ করেন, ‘আমরা তো পরিষ্কার করে বলেই দিয়েছি যে আমরা এই সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাব না—এটা খুব পরিষ্কার কথা। কারণ, আমরা বিশ্বাস করি, এই সরকার, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যিনি আছেন, তাঁর অধীনে নির্বাচন কখনো সুষ্ঠু, অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’