টাঙ্গাইলে বিয়ের আশ্বাসে ছাত্রীকে ধর্ষণ : ইউএনওর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

22

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা : টাঙ্গাইলে বিয়ের আশ্বাসে ধর্ষণের অভিযোগে কলেজছাত্রীর করা মামলায় বাসাইলের সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

পিবিআইয়ের তদন্তে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সোমবার (২৩ জানুয়ারি) টাঙ্গাইল সদর থানা আমলি আদালতের বিচারক মনিরা সুলতানা এই গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ দেন।

 

 

আদালত সূত্র জানায়, ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে টাঙ্গাইলের বাসাইলে ইউএনও হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন মো. মনজুর হোসেন ফেসবুকের মাধ্যমে মির্জাপুরের এক কলেজছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একপর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় ওই কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করেন। ওই কলেজছাত্রী ও ইউএনও টাঙ্গাইল কুমুদিনী কলেজের সাথে পাওয়ার হাউজের পিছনে একটি বাসায় একসাথে বসবাস শুরু করেন। টাঙ্গাইল শহরে বাসা ভাড়া করে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে তারা একত্রে কয়েক মাস বসবাসও করেন। এক পর্যায়ে কলেজছাত্রী বিয়ে ও সামাজিকভাবে স্বীকৃতি প্রদানের জন্য ইউএনওকে চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। পরবর্তীতে দুইজনে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে ফিরে বিয়ে করবেন বলে আশ্বাস দেন। পরবর্তী সময়ে ওই কলেজছাত্রী বিয়ের জন্য চাপ দিলে মনজুর হোসেন তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

এ ঘটনায় ২০২২ খ্রিষ্টাব্দের ২১ জুন ওই কলেজছাত্রী মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

টাঙ্গাইল পিবিআই মামলাটি তদন্ত করে ২০২২ খ্রিষ্টাব্দের ২৯ ডিসেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ৪৯৩ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় টাঙ্গাইল সদর থানা আমলি আদালতের বিচারক মনিরা সুলতানা বাসাইল উপজেলার সাবেক ইউএনও মঞ্জুর হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।

মনজুর হোসেন রাজবাড়ী জেলার পাংশা থানার চরঝিকড়ী গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে। বর্তমানে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ওএসডি হিসেবে সংযুক্ত আছেন।