জাবি ছাত্রলীগের কমিটিতে বহিষ্কৃত, বিতর্কিত ও অছাত্র

46

জাবি প্রতিনিধি : জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পরও কয়েক দফায় নতুন করে পদ সংযোজন-বিয়োজন করার অভিযোগ উঠেছে। ফলে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর কমিটিতে নতুন করে এই সংযোজন-বিয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নেতাদের অভিযোগ, ঢাকায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কাছে গেলেই বড় পদ মিলছে। এদিকে কমিটির পদ সংযোজন-বিয়োজনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগকে অবগত করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন শীর্ষ নেতারা।

জানা যায়, প্রথম দফা ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি আল নাহিয়ান খান এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের স্বাক্ষর করা বিজ্ঞপ্তিতে পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়। একই দিন রাতে বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করা হয়। সংশোধিত এই বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, উপ-গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক তাসমিয়া মেহরিনকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে। ফের বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করে নতুন কয়েক জনের নাম যোগ করা হয়। পূর্বে ঘোষিত বিজ্ঞপ্তিতে নাম না থাকলেও সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আসাদুজ্জামান আসাদ সহ-সভাপতি পদ পেয়েছেন। সর্বশেষ আরেক দফা বিজ্ঞপ্তি সংশোধন করা হয়।

সংশোধিত এই বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, উপ মুক্তিযোদ্ধা ও গবেষণা সম্পাদক ফারহান আনজুম তানজিলকে সহ-সভাপতি করা হয়েছে। এছাড়া পূর্বে ঘোষিত বিজ্ঞপ্তিতে নাম না থাকলেও সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে শাহরিয়ার কবির অনিককে সহ-সভাপতি, শাকিল খানকে সহ-সম্পাদক, আসাদুজ্জামান আশিককে উপ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক, মো. ফরহাদ আলী শুভকে উপ-বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক, শান্ত চন্দ্র শীলকে (জাবালি) উপ-বিজ্ঞান সম্পাদক, রেজওয়ান চৌধুরি রায়হানকে সহ-সম্পাদক ও ফয়সাল আমিন আলিফকে (আলফা) সদস্য করা হয়েছে। অন্যদিকে একাধিক পদে একই শিক্ষার্থীকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্থান পাওয়াদের মধ্যে অছাত্র, ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি, বিএনপি ঘরানার, মারামারি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা রয়েছেন বলে তথ্য মিলেছে। জানা যায়, কমিটির সহ-সভাপতি সৈয়দ লায়েব আলীর বিরুদ্ধে রাজধানীর একটি ভ্রমণবিষয়ক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সাড়ে পঁচানব্বই হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে সহ-সভাপতি শাহ মোস্তাক আহমেদ সৈকতের বিরুদ্ধে বিএনপি ঘরানার, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। ছিনতাইয়ের ঘটনায় সৈকতকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই অভিযোগে বহিষ্কৃত আল-রাজি সরকার পেয়েছেন উপ-ছাত্রবৃত্তি বিষয়ক সম্পাদকের পদ।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে লাঞ্ছনা ও কর্তব্যরত এক সংবাদকর্মীকে মারধরের ঘটনায় সাময়িক বহিষ্কৃত শুভাশীষ ঘোষ উপ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক, র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় বহিষ্কৃত তামীম হোসেন উপ-প্রচার সম্পাদক ও রেজওয়ান রাশেদ সোহান সহ-সম্পাদক, ফয়জুল ইসলাম নীরব উপ-ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক এবং সারোয়ার হোসেন সাকিল উপ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক, সাংবাদিক নির্যাতনের দায়ে বহিষ্কৃত আইন ও বিচার বিভাগের মাসুম বিল্লাহ সহ-সম্পাদক এবং ছাত্রলীগের এক কর্মীকে মারধরের ঘটনায় সাময়িক বহিষ্কৃত খালিদ হাসান ও সাব্বির হোসেন সদস্য পদ পেয়েছেন। এদিকে সহ-সভাপতি সাজ্জাদুল ইসলাম ও এহসানুল হক আর সাংগঠনিক সম্পাদক ফারসাদ হোসেন এবং মেহেদী জয়ের বিরুদ্ধে ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের স্নাতকোত্তর শেষ হয়েছে। পরীক্ষায় ফেল করাসহ নানাভাবে ছাত্রত্ব টিকিয়ে রাখলেও বড়জোর ৪৪তম ব্যাচ পর্যন্ত ছাত্রত্ব আছে। অথচ পূর্ণাঙ্গ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে স্থান পেয়েছেন ৪২তম (২০১২-১৩ সেশন) ও ৪৩তম (২০১৩-১৪ সেশন) ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ছাত্রত্ব শেষ হয়ে যাওয়া কেউ কমিটিতে পদ পাওয়ার যোগ্য নন।