জাবিতে উদ্বেগজনক হারে কমেছে অতিথি পাখি

52

আশুলিয়া প্রতিনিধি : শীতের শুরু থেকেই পাখির বাড়ি বা আশ্রম হিসেবে খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)। এরই মধ্যে আগাম শীতের বার্তা নিয়ে শীত প্রধান বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছে অতিথি পাখি বা পরিজায়ী পাখিরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন লেক জলাশয়ে শীতের সোনামাখা রোদে চলছে তাদের অবাদ বিচরণ। মুক্ত ডানায় ভর করে বাতাসে গাঁ ভাসিয়ে দিচ্ছে হেলেদুলে। এ যেন এক বিহঙ্গের মেলা। তবে দিন দিন উদ্বেগজনক হারে অতিথি বা পরিজায়ী পাখি আসা কমেছে জাবিতে।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, এর জন্য পাখির আশ্রয়ের ব্যবস্থাপনা না থাকা এবং উন্নয়ন নগরায়নকে দায়ী।

পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯৪ সালে দেশে অতিথি পাখি এসেছিল আট লাখেরও বেশি। কিন্তু ২০১৪ সালে এর সংখ্যা কমে দাঁড়ায় দু’লাখে। অর্থাৎ বিগত ২০ বছরে দেশে অতিথি পাখির সংখ্যা কমেছে ছয় লাখের বেশি।

জানা গেছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ছোট-বড় মিলিয়ে লেক আছে ২৪টি। এরমধ্যে চারটি লেকেই বসে অতিথি পাখি বা পরিজায়ী পাখিরা। যেখানে প্রায় ২০ থেকে ২৫ প্রজাতির পরিজায়ী পাখি চোখে পড়ে। এসব অতিথি বা পরিজায়ী পাখিগুলো শীতের মৌসুমে রাশিয়া, সাইবেরিয়া, উত্তর মঙ্গোলিয়া, তিব্বতের একটি অংশ ও চীনের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে এখানে আসে। তবে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে পাখি আসার সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে।

পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাবির দুটি লেকেই দেখা মিলবে পরিজায়ী পাখির। একটি ট্রান্সপোর্ট লেক এবং অন্যটি ডব্লিআরসি লেক। তবে ডব্লিউআরসি লেকেই এবার সবচেয়ে বেশি পাখি এসেছে। পাখিগুলোর মধ্যে রয়েছে সরালী ও বড় সরালী, পিচার্ড, গার্গেনি, মানিকজোড়, ফ্লাইপেচার, পাতারি, চিতাটুপি, লালগুড়গুটিসহ নানা প্রজাতির অতিথি পাখি।

প্রকৃতি ঘেরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ পরিজায়ী পাখিদের আশ্রয়স্থলের ব্যাপারে আরো বেশি গুরুত্ব দেয়ার দাবি জানিয়েছেন এখানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীসহ এখানকার শিক্ষার্থীরা।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়ার্ল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টার (ডব্লিউআরসি)’র মালি মো: সানোয়ার হোসেন জানান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে প্রচুর পরিমাণে অতিথি পাখি আসত। কিন্তু এখন পাখি আসা কমে গেছে। ডব্লিউআরসি লেকেই এবার মূলত বেশি পাখি এসেছে। এই লেকে পানকৌড়ি, শরালি, ঢাহুক, বিভিন্ন প্রজাতির বক সহ নানা প্রজাতির পাখি এসেছে। তবে এই লেকের পাখিগুলো সন্ধ্যার পরে থাকে না। এ সময়টা খাবারের খোঁজে আশপাশের বিভিন্ন খাল বিলে চলে যায়। আবার ভোর হওয়ার সাথে সাথেই পাখিগুলো লেকে চলে আসে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জামাল উদ্দিন ‘দৈনিক নয়া দিগন্ত’কে জানান, একদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নয়ন, সেই উন্নয়নে ১০ তলা ভবন হচ্ছে, এই ১০ তলা ভবনগুলোর কারণে পাখির ফ্লাইংটোনগুলোতে প্রবলেম হচ্ছে। আরেকদিকে, উন্নয়নের ফলে লেকগুলোর দিকে মনোযোগ একটু কম। এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব লেক রয়েছে এগুলো সংস্কার করা প্রয়োজন। এগুলোতে পানি থাকা প্রয়োজন। কিন্তু লেকগুলোতে কচুরিপানা দিয়ে ভরপুর।

তিনি আরো জানান, আরেকটা দিক আছে, এখানে যে সুয়ারেজ সিস্টেম রয়েছে, সেটা সুনির্দিষ্ট কোনো সিস্টেম না থাকার ফলে এখানে যতগুলো সুয়ারেজ আছে তার সবগুলোই পড়ছে লেকে। তার ফলে এখানে আসা পাখিগুলোর জন্য পানি, তাদের বসবাসের জায়গা মান সম্মত থাকছে না। তাই দিন দিন পাখি আসা কমে গেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।