জাতীয় স্মৃতিসৌধের লেকে চুবিয়ে পথশিশুকে হত্যা, আটক ১

27

আশুলিয়া প্রতিনিধি : কথিত বড় ভাইয়ের কথা না শোনায় এক পথশিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর মা। নিহতের তিনদিন আগে নিখোঁজ ছিল শিশুটি। শিশুটিকে সাভারে স্মৃতিসৌধের লেকের পানিতে চুবিয়ে হত্যা করে রফিক (ছদ্মনাম, ১৪) নামের এক কিশোর।

মামলার পর আজ রবিবার (১৫ জানুয়ারি) সকালে রফিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় পুলিশ। এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যায় স্মৃতিসৌধ এলাকা থেকে আটক করা হয় তাকে। এদিকে নিহত শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার কিশোরের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সাইদুলের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মারামারি সংক্রান্ত আগের একটি মামলায় জেল খেটেছে সে।

নিহত শিশুর নাম হাসিবুর রহমান আল আমিন (৬)। সে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানার রাজপাট গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে। সে মায়ের সঙ্গে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডের দিলকুশাবাগ এলাকায় ভাড়া থাকত।

নিহতের মা দিপা জানান, ১১ জানুয়ারি দিলকুশাবাগ থেকে নিখোঁজ হয় আল আমিন। শনিবার রাতে খবর পেয়ে থানায় গিয়ে দেখি আমার ছেলে আল আমিনের লাশ।

গ্রেপ্তারকৃত রফিক সাভার পৌরসভার জামসিং এলাকায় থাকত। নিহত আল আমিন রফিকের সঙ্গে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এলাকায় ভিক্ষা করত।

পুলিশ জানায়, রফিক ও আল আমিন আশুলিয়ার নবীনগরে স্মৃতিসৌধের লেকের একটি নৌকায় ওঠার জন্য আল আমিনকে ধাক্কা দিতে বলে। আল আমিন কথা না শোনায় রফিক তাকে মারধর করে এবং পানিতে চুবাতে থাকে। এক পর্যায়ে আল আমিন অচেতন হয়ে পড়ে। এ সময় স্মৃতিসৌধে দায়িত্বরত আনসার সদস্য ও দর্শনার্থীরা আল আমিনকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত রফিক মূলত স্মৃতিসৌধে কয়েকজন পথশিশুর কথিত বড় ভাই। তারা ভিক্ষা ও ফেরি করে কিছু বিক্রি করলে সেই টাকার ভাগ নিত সে।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, ‘স্মৃতিসৌধের পেছন দিকের লেকের পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যুর সংবাদ পাই। ওইদিকে তেমন একটা দর্শনার্থী যায় না। পরে শিশুটিকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে ভর্তি করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত শিশুটির সঙ্গে গোসল করতে নামা এক কিশোরের বক্তব্য রহস্যজনক হওয়ায় তাঁকে পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছিল। সে প্রথমে নিহত শিশুটিকে তার ছোট ভাই পরিচয় দেয়। তাঁর মা-বাবা কেউ নেই, থাকার জায়গা নাই এসব বিভ্রান্তিকর কথা বলে। পরে তার বাবা আসলে আমরা সত্যটা জানতে পারি।’

মিজানুর রহমান আরও বলেন, শিশুটির মৃত্যুর পর লাশ কোলে নিয়ে জঙ্গলে ফেলে দেয় কিশোরটি। প্রত্যক্ষদর্শীরা বিষয়টি স্মৃতিসৌধে কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের জানায়। আনসার সদস্যরা গিয়ে তাকে আটক করে। এর আগে লেকে ওই শিশুকে মারার সময় অন্য পথশিশুরা প্রতিবাদ করলে তাদের মারধরের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয় ওই কিশোর।’

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত রায় বলেন, নিহতের মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রফিককে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আল আমিন ও রফিক জাতীয় স্মৃতিসৌধের ভেতর এক সাথে ভিক্ষা করত এবং এক সাথে থাকত।