জঙ্গিবাদ ছাড়তে চাওয়ায় খুন আলামিন, ২০ জনের বিরুদ্ধে বাবার মামলা

27

জঙ্গি সংগঠন জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে যোগ দেন কুমিল্লার অনার্স পড়ুয়া তরুণ ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম আল আমিন। পরে ভুল বুঝতে পেরে বাড়ি ফিরে যেতে চাইলে সহযোগীরা হত্যা করে তাকে। এই ঘটনায় কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) ও জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’ জঙ্গি সংগঠনের ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নিহতের বাবা।

মঙ্গলবার (১৭ জানুয়ারি) নিহত আমিনুল ইসলাম আলামিনের বাবা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে ৫ দিনের মধ্যে রুমা থানা কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন বান্দরবান চিফ জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করলে সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এ. এস. এম. এমরান। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম ডি খলিল।

অভিযুক্তরা হলেন, কুমিল্লার মোখলেছুর রহমানের ছেলে আনিসুর রহমান মাহমুদ (৩২), শামীম মাহফুজ (৪৭), নারায়ণগঞ্জের আনোয়ার হোসেনের ছেলে মোশাররফ হোসেন বাবু (৩৪), সিলেটের হাফিজ মাওলানা হোসাইনের ছেলে আব্দুল্লাহ মায়মুন ওরফে শায়েখ (৩৪), সিলেটের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে মাসকুর রহমান রনবীর (৪৪), সুনামগঞ্জের মৃত সৈয়দ আব্দুল কালামের ছেলে সৈয়দ মারুফ আহমেদ মানিক (৩১), আব্দুল কাদের সুজন ওরফে ফয়েজ সোহেল, কুমিল্লার মৃত মমতাজ আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ হাবিব (৩৫), বান্দরবানের জাওতন লনচেওয়ের ছেলে নাথানা লনচেও ওরফে নাথান বম (৫০), লাল মোহন বিয়াল ওরফে কর্নেল সলোমান (৫০), কুমিল্লার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. বায়োজিদ ইসলাম মোয়াজ ওরফে বাইরু (২১), নোয়াখালীর আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে নিজামুদ্দিন হিরন ইউসুফ ওরফে বাপুয়াল (৩২), বান্দরবানের সাংবেম বমের ছেলে লালদন সাং বম পাদন (২৭), কুমিল্লার আব্দুর রহমানের ছেলে দিদার ওরফে চম্পাই (২৭), সিলেটের আব্দুস সালামের ছেলে শিবির আহমেদ (২৬), অজ্ঞাত সাং ইসমাইল হোসেন হানজালা ওরফে ফাহিম, কুমিল্লার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সালেহ আহম্মদ সাইহা (২৭), সিলেটের মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো. সাদিকুর রহমান সুমন ওরফে ফারকুন (২৯) এবং কুমিল্লা মজিবুর রহমানের ছেলে ইমরান বিন রহমান শিথিল ওরফে বিল্লাল (১৮)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার কান্দির পাড়া এলাকায় তাবলিগে যাওয়ার কথা বলে ২০২২ সালের ২৩ আগস্ট ঘর থেকে বের হন আমিনুল ইসলাম আলামিন। এরপর থেকে ফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারায় ১ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার কোতয়ালি মডেল থানায় নিখোঁজ ডায়রি করেন তার বাবা। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় ও বিভিন্ন সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানতে পারেন তার ছেলে আলামিনসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে একইভাবে আনুমানিক ৫০ জনের অধিক তরুণ নিখোঁজ হয়েছেন।

উক্ত সংবাদ শুনে স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করলে থানার পরামর্শে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন-১১ (কুমিল্লা ক্যাম্প) এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন কুমিল্লা সদর থানাধীন কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ এলাকার কুবা মসজিদের ইমাম হাবিব উল্লাহ ওরফে হাবিবসহ কয়েকজন অপরাপর অজ্ঞাতনামাদের মিথ্যা ধর্মীয় অপব্যাখ্যায় ও প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত তরুণদের দেশ বিদেশের বিভিন্ন নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’ নামক জঙ্গি সংগঠনে সম্পৃক্ত করেছেন। পরে ধ্বংসাত্মক ও রাষ্ট্রবিরোধী কাজে সম্পৃক্ত করার কুউদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন যাবত গোপনে বুঝিয়ে তাদের কুমিল্লা জেলার লাকসামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরিয়ে অবশেষে বান্দরবান পার্বত্য জেলার দূর্গম এলাকায় অপর রাষ্ট্রবিরোধী সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট (কেএনএফ) এর শীর্ষ স্থানীয় নেতা, সদস্যদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে জঙ্গী প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে পাঠানো হয়।

এরইমধ্যে র্যাবের অভিযানে গ্রেফতার ৫ জঙ্গির দেওয়া তথ্যে জানা যায়, আমিনুল ইসলাম আলামিন প্রথমে ওক্ত সংগঠনের আদর্শে অনুপ্রাণিত হলেও পরবর্তীতে তার ভুল বুঝতে পেরে নিজ বাড়িতে ফিরে যেতে চাইলে তাদের সংগঠনের তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয়ে আলামিনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। আলামিনের মরদেহ বান্দরবানের রুমা উপজেলার দূর্গম লুমউয়াল পাড়া এলাকার পাহাড়ের ঢালে অজ্ঞাত স্থানে গুম করে ফেলে তারা। এমতাবস্থায় আলামিনের মরদেহ উদ্ধারপূর্বক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে ফৌজদারি অভিযোগ করা হয়।

নিহত আমিনুল ইসলামের বাবা নুরুল ইসলাম জানান, অনার্স পড়ুয়া ও তরুণ ব্যবসায়ী আলামিন নিয়মিত নামাজ আদায় করত। এলাকায় ভালো ছেলে হিসেবে খ্যাতি আছে তার। তবে বাসার পাশে মসজিদের ইমাম হাবিব উল্লাহ ও অজ্ঞাতদের প্ররোচনায় আলামিন ধীরে ধীরে এই জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। যারা তার ছেলেকে ভুল পথে জড়িয়েছে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করেন তিনি।