সাভারে চামড়া শিল্পনগরীর পাশে আরও ২০০ একর জমি অধিগ্রহণ

41

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেছেন, এলডব্লিউজি সনদ পেতে পাশেই আরও বেশ কিছু জমি অধিগ্রহণ করা প্রয়োজন। আমরা চেষ্টা করবো আরও ২০০ একর জমি এই কাজের জন্য সংগ্রহ করতে।

কারণ এলডব্লিউজি না হলে আমরা ইউরোপিয়ান মার্কেটে রপ্তানিতে পিছিয়ে পড়বো। সে জন্য এই কঠিন বর্জ্যগুলো ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। ’

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের রপ্তানি বাড়াতে সাভারের ট্যানারিকে আরও আধুনিকায়ন করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। আন্তর্জাতিক সংগঠন লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদের জন্য আরও ২০০ একর ভূমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
শনিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ সব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কোভিডের প্রথম পর্যায়ে গত ৩ বছরে আমাদের চামড়ার শিল্পের রপ্তানি অনেক কমে গিয়েছিলো, এখন আমরা একটা পজিটিভ ট্রেন্ডে যাচ্ছি, এখন আমাদের প্রায় ১.২ বিলিয়ন ইউএস ডলারের বেশি রপ্তানি হচ্ছে এই খাতে। এ কাজটি করতে গিয়ে আমাদের বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও আছে, সেগুলো নিয়েও আমরা আলোচনা করেছি। তারপর আমাদের ভূমি, পানি, বায়ু দুষন, বিভিন্নভাবে পরিবেশ দূষণ, এবং মাটির দূষণ হচ্ছে। এই দূষণগুলো আমরা কিভাবে বন্ধ করতে পারি, সেই বিষয়ে মতবিনিময় সভায় আমরা বিভিন্ন পরামর্শ নিয়েছি।

তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বলেন, আরেকটা বড় বিষয় হচ্ছে, আমাদের সিইটিপিকে আরও বেশি আধুনিকায়ন করা দরকার, এটা করার জন্য যে ধরনের কারিগরি পরিবর্তন করা দরকার, বা প্রযুক্তিগত পরিবর্তন করা দরকার, সে বিষয়েও মনে করি আমাদের পরিবর্তন করতে হবে। বড় বিষয় হচ্ছে আমাদের প্রাইভেট সেক্টর, তাদের ভূমিকা কিন্তু সবচেয়ে বেশি। ট্যানারী এসোসিয়েশন, লেদার গুডস এসোসিয়েশন বা অন্যান্য যে সকল এজেন্সিস আছে, তাদেরকেও আমরা বলেছি এ কাজগুলো করতে গিয়ে পরিবেশকে সচল রাখার জন্য, যা যা করা দরকার সেই কাজগুলোও আমরা করবো।

তিনি আরও বলেন, আলোচনায় আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি এই শিল্পটাকে অনেক বেশি ইন্সপায়ার করবো গ্রো করার জন্য। কারণটা হচ্ছে এখানে শুধু চামড়ার প্রক্রিয়াই হয়না, এর বাহিরে এখানে যেসকল বর্জ্য আছে, সেই বর্জ্যগুলোকেও কিন্তু আমরা জিলেটিন, গ্লু বা অন্যান্য পণ্য সামগ্রী তৈরি করতে পারি। আবার একই সাথে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে আমাদের ফুড চেইনে যেন কোনোভাবে দূষণকারী কোনো পদার্থ, ক্রোমিয়াম বা অন্যান্য স্বাস্থ্যহানিকর ক্যামিকেল যেন যুক্ত না হয়।

চামড়া খাতের রপ্তানিকারকদের একটি বড় অংশের লাইসেন্স জটিলতাকে কেন্দ্র করে এ বছর চামড়া রপ্তানি কমে আসবে কিনা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, বিষয়টি আমরা অবহিত আছি। এজন্য আমি বলেছি যে আমাদের যারা ব্যবসায়ী বা কারখানা চালাচ্ছেন, তারা পরিবেশের সঙ্গে কমপ্লায়েন্ট হতে হবে। আবার একই সঙ্গে আমরা কোনোভাবে গ্রোথকে থামাতে চাইনা। এখন যে সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান তারা পরিবেশের সকল মানদণ্ড উত্তির্ণ হয়নি, তাদেরকে আমরা নজরে রাখছি এবং তাদেরকে আমরা বলেছি একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা তাদের অবস্থাকে ইমপ্রোভ করবে এবং তখন তাদেরকে লাইসেন্স দেওয়া হবে। আমরা ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্থ্য করে কোনোভাবেই কিছু করবো না। ইতোমধ্যে ২৭টি ট্যানারিকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, তারা লাইসেন্সও পেয়েছেন আবার নিজেদের কমপ্লায়েন্টও করছেন।

মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশন ও লেদারগুডস এন্ড ফুটওয়্যারস এক্সপোর্টারার এসোসিয়েশনসহ চামড়া খাতের বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অংশ নিয়েছিলেন। এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকিয়া সুলতানা, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মুহ. মাহবুবুর রহমানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের উর্দ্ধত্বন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া চামড়া শিল্প নগরীতে বৃক্ষরোপণ শেষে শিল্প নগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) পরিদর্শন করেন।