এবার স্পিকারের কাছে বিএনপির হারুনের পদত্যাগ

33

এবার স্পিকারের কাছে বিএনপির হারুনের পদত্যাগ
দলের সিদ্ধান্ত মেনে জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ করলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদও।

বৃহস্পতিবার সকালে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এর আগে বিএনপির ছয়জন সংসদ সদস্য পদত্যাগ করেছিলেন।

গত ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে সংসদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা এসেছিল। পর দিন স্পিকারের হাতে পদত্যাগপত্র জমা দেন দলের ছয় সংসদ সদস্য। তারা হলেন ঠাকুরগাঁ-৩ আসনের জাহিদুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের আমিনুল ইসলাম, বগুড়া-৪ আসনের মোশাররফ হোসেন, বগুড়া-৬ আসনের জি এম সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আবদুস সাত্তার এবং সংরক্ষিত নারী আসনের রুমিন ফারহানা।

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সংসদ থেকে কেউ পদত্যাগ করতে চাইলে সশরীরে গিয়ে তা জমা দিতে হবে। হারুন সে সময় দেশের বাইরে থাকায় তা জমা দিতে পারেননি।

২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জিতে ছয়টি আসনে। আর জাতীয় সংসদে আসনের আনুপাতিক হারে তারা সংরক্ষিত নারী আসনের একটি পায়।

হারুনুর রশীদের পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার মধ্য দিয়ে বিএনপির দলীয় সব সংসদ সদস্যের পদত্যাগ নিশ্চিত হলো।

হারুন পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার সময় তার সঙ্গে ছিলেন সদ্য পদত্যাগ করা সাবেক সংসদ সদস্য মোশাররফ হোসেন ও জি এম সিরাজ।

পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে সংসদ থেকে বেরিয়ে হারুন বলেন, ‘বর্তমান সংসদ মহাজোটের দলীয় কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে। বর্তমান সংসদকে অবিলম্বে বিলুপ্ত করতে হবে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।’

গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের যে শরিক দলগুলো ছিল, তাদের সংসদ সদস্যদেরও পদত্যাগের আহ্বান জানান বিএনপি নেতা।
বলেন, ‘সরকার ফাঁকা মাঠে গোল দিতে চায়; বিএনপি ও তার জোট আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে দেশে কোনো অর্থবহ নির্বাচন হবে না।’

হারুনের আগে পদত্যাগ করা বিএনপির সংসদ সদস্যদের আসনগুলো এরই মধ্যে শূন্য ঘোষণা হয়েছে। পাঁচটি আসনে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ভোটের তারিখ দিয়ে ঘোষণা হয়েছে তফসিল।

বিএনপি জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে সংসদ থেকে সরে যাওয়ার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২০১১ সালে উচ্চ আদালত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করলে আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধান সংশোধন করে নির্বাচিত সরকারের অধীনে ভোটের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনে।

এর প্রতিবাদে ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়ে সহিংস আন্দোলনে যায় বিএনপি-জামায়াত জোট ও সমমনারা। তবে ভোট ঠেকাতে পারেনি তারা।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনের আগে আবার আন্দোলনের ঘোষণা দিলেও বিএনপি তার ২০ দলীয় জোটের পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে আরও একটি জোট করে নির্বাচনে যায়। সেই নির্বাচনে আগের রাতেই ভোট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলে তাদের সংসদ সদস্যরা শপথ নেবেন না বলে জানান। তবে শেষ পর্যন্ত বগুড়া-৬ থেকে নির্বাচিত দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়া বাকিরা শপথ নেন। সেই আসনে পরে উপনির্বাচনে জয় হয় বিএনপিরই। জেতেন জি এম কাদের।

আন্দোলনের অংশ হিসেবে সংসদ থেকে পদত্যাগের ঘটনা এর আগে ঘটেছিল ১৯৯৪ সালে। সে সময় আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ বিরোধী দলগুলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনে থাকা দলগুলো।

সে সময় বিএনপির স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে ঝুলিয়ে রেখেছিলেন। তবে এবার স্পিকার তা সঙ্গে সঙ্গে গ্রহণ করেছেন।