আশুলিয়ায় নিখোঁজের চার দিন পর নালায় মিলল শিশুর লাশ, যুবক গ্রেপ্তার

32

আশুলিয়া প্রতিনিধি : নিখোঁজ হওয়ার চার দিন পর আশুলিয়ার খেজুরবাগান এলাকার একটি নালা থেকে এক কন্যাশিশুর (৬) লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর প্রতিবেশী অভিযুক্ত আবুল কাদেরকে (২০) গ্রেপ্তার করে রবিবার (৮ জানুয়ারি) আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করেছে র‌্যাব-৪।

আশুলিয়া থানার পুলিশ বলেছে, সুরতহাল প্রতিবেদনে শিশুটিকে হত্যার আগে ধর্ষণের আলামত মিলেছে। এ ঘটনায় শনিবার ভুক্তভোগীর বাবা আশুলিয়া থানায় মামলা করেছেন।

অভিযুক্ত কাদেরের বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদর থানা এলাকায়। তাঁর সহযোগী রাজু ও অজ্ঞাতপরিচয় চার আসামি পলাতক রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

ভুক্তভোগীর বাবা জানান, স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে খেজুরবাগান এলাকার একটি বাসায় ভাড়া থাকেন তিনি। তাঁর স্ত্রী পেশায় একজন পোশাক শ্রমিক এবং তিনি একটি প্রতিষ্ঠানে বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। গত বুধবার বাড়ির উঠানে খেলছিল তাঁর মেয়ে। এর পর থেকে শিশুটিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই দিন মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা। পরে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তাদের ১৫ হাজার টাকা দেন তিনি। সেই সূত্র ধরেই প্রতিবেশী কাদেরকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চকোলেটের লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে ডেকে নেন অভিযুক্ত কাদের। মুক্তিপণের জন্য শিশুটিকে নিজ কক্ষে আটকে রাখেন। এক পর্যায়ে শিশুটি চিৎকার করলে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে একটি ব্যাগে ভরে শিশুটির লাশ বাড়ির পাশের নালায় ফেলে দেন কাদের। হত্যার আগে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে।

র‌্যাব জানায়, কাদেরের ঘর থেকে লাশ গুমের কাজে ব্যবহৃত ব্যাগ, ভুক্তভোগীর জামা ও জুতা উদ্ধার করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার পরিদর্শক জামাল সিকদার বলেন, প্রাথমিকভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কাদের। শিশুটিকে অপহরণের পর গত বুধবার রাতেই হত্যা করেন তিনি। এরপর দুই দিন ঘরের খাটের নিচে লাশ লুকিয়ে রাখেন। গত শুক্রবার রাতে শিশুটির লাশ বাড়ির পাশের নালায় ফেলে দেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লাশটি উদ্ধার করা হয়। ধর্ষণের বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে প্রমাণ পাওয়া গেলে মামলায় ধর্ষণের ধারা যুক্ত করা হবে।