আগাম নির্বাচনে যাবে আওয়ামী লীগ?

70

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তিনটি জনসভায় ভোট চেয়েছেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই নির্বাচনের জন্য তিনি নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে জনসভা করছেন।
আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে যে, এখন থেকে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

আগামী ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এই কাউন্সিলের পর প্রধানমন্ত্রী তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা আরও জোরদার করবেন। ২৪ জানুয়ারি যদি নির্বাচন হয় তাহলে নির্বাচনের এখনো এক বছরের কিছু বেশি সময় বাকি। এত আগে থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি কেন নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন? তাহলে কি আওয়ামী লীগ আগাম নির্বাচনে যাচ্ছে? এরকম প্রশ্ন এখন রাজনৈতিক অঙ্গণে। বিশেষ করে গত বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তর দক্ষিণের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী যে আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়েছেন এবং যেভাবে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন তাতে অনেকে মনে করছেন আওয়ামী লীগ বিএনপিকে অপ্রস্তুত রেখে নির্বাচন করতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের এর পিছনে বেশকিছু যুক্তি রয়েছে।

তারা প্রথমত মনে করছে যে, সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীরা আস্তে আস্তে একীভূত হচ্ছে, একত্রিত হচ্ছে এবং তারা সম্মিলিতভাবে সরকারকে আঘাত করতে চায়। আগামী বছরের ডিসেম্বরকে টার্গেট করে এই মেরুকরণ ঘটছে। একদিকে সুশীল সমাজ, অন্যদিকে কিছু পশ্চিমা দেশ এবং বিএনপির এই সম্মিলিত ষড়যন্ত্রের প্রধান লক্ষ্য হলো আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া। এ কারণে তাদেরকে গুছানোর সুযোগ না দিয়ে আওয়ামী লীগ আগে থেকে নির্বাচনে যেতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।

দ্বিতীয়ত, বিএনপি এখনো গুছিয়ে উঠতে পারেনি। তারা কেবল আন্দোলন শুরু করছে। আওয়ামী লীগের মতে, দলটির ভেতরে নানারকম সমস্যা রয়েছে। এক্ষেত্রে নির্বাচন যদি এগিয়ে আনা হয় সেক্ষেত্রে বিএনপি সমস্যায় পড়বে এবং অপ্রস্তুত হয়ে যাবে। এই কারণেই নির্বাচন এগিয়ে আনার কথা চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।

তৃতীয়ত, নির্বাচনের সময় পশ্চিমা দেশগুলোর ভূমিকা কি হবে, সেটি এখন একটি বড় প্রশ্ন হিসেবে এসেছে এবং পশ্চিমা দেশগুলো এ নিয়ে একটি সঙ্ঘবদ্ধ অবস্থান গ্রহণ করার আগেই নির্বাচন সেরে ফেলতে চায় আওয়ামী লীগ। এরকম পরিস্থিতিতে আগাম নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য ইতিবাচক ফলাফল আনতে পারে। এরকম ধারণা কোনো কোনো আওয়ামী লীগের শীর্ষ মহলের।

তবে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে দেখা গেছে যে, এখনই আওয়ামী লীগ আগাম নির্বাচনের কথা ভাবছে না, প্রধানমন্ত্রীও না। বরং সরকারের মেয়াদপূর্তিকে আওয়ামী লীগ তাদের বড় সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে যে, সরকারের একটি বড় ইতিবাচক দিক হলো প্রত্যেকটি মেয়াদ পূর্ণ করা। আওয়ামী লীগ প্রথম রাজনৈতিক দল যারা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্¡ পালন করেছিলো। আবার ২০০৮ সালের পর ধারাবাহিকভাবে আওয়ামী লীগ পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছে। তাই কাজেই আগাম নির্বাচন আওয়ামী লীগ দিবে না। তাছাড়া আগামী এক বছর সরকারের অনেকগুলো অনিষ্পন্ন কাজ রয়েছে সেগুলোকে দৃশ্যমান করে আওয়ামী লীগ নির্বাচনের মাঠে যাবে। আর একবছর যদি বিএনপিকে আরও চাপে রাখা যায়, এই এক বছরের মধ্যে বিএনপি নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি তো দূরের কথা, অন্যান্য দাবিগুলোও শেলফে ঢুকিয়ে নির্বাচনের মাঠে আসবে। এরকম একটি কৌশল থেকেই আওয়ামী লীগ এখন নির্বাচনী প্রচারণায় যাচ্ছে। আগাম নির্বাচন নয়, বরং একটি নির্বাচনের আবহ দেশে তৈরি করাই আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশল।