অনলাইন জুয়ায় হাজার কোটি টাকা পাচার, গ্রেফতার ৯

50

গাজীপুর প্রতিনিধি : অনলাইনে জুয়া খেলে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে ৯ যুবককে গ্রেফতার করেছে গাজীপুর মহানগর পুলিশ।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (৭ ডিসেম্বর) সদর থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন, নাসির মৃধা (৩০), মারুফ হাসান (২৪), জাহিদুল ইসলাম ওরফে রসুল (২২), আশিকুর রহমান আশিক (২৭), কাউসার হোসেন (২৩), রুবেল হোসেন (২৫), আশিকুল হক (২৫), আকরাম হোসেন রিপন (২৬) ও মুরাদ হাসান (২৫)।

বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলামের কার্যালয় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

এসময় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, গ্রেফতারদের জব্দ মোবাইলফোন, মোবাইল ব্যাংকিং ওয়ালেট, ব্যাংক হিসাব এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, বাংলাদেশে অবৈধ অনলাইন জুয়ার প্লাটফর্ম ব্যবহারের মাধ্যমে সমাজের উঠতি বয়সীদের আসক্ত করে বিদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করে নেওয়া হচ্ছে। তারা মালয়েশিয়া বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে বিজনেস অ্যাকাউন্ট খুলে নিজেদের পরিচয় গোপন করে যোগাযোগ করে থাকেন।

তিনি বলেন, এই সার্ভারটি প্রধানত নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন ভেলকি লাইভ ওয়েবসাইটের অ্যাডমিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুবাই প্রবাসী আকাশ মালিক। তিনি বিভিন্ন বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বাংলাদেশের পাঁচটি লেয়ারে তথা অ্যাডমিন, সাইট সাব অ্যাডমিন, সুপার এজেন্ট, মাস্টার এজেন্ট ও ইউজার (রুট লেভেলের ব্যবহারকারী) লেয়ারে বিভক্ত করেন। প্রতিটি লেয়ার তার ওপরের লেয়ারের মাধ্যমে কাজ করে থাকে। তাদের মাধ্যমে একজন রুট লেভেলের আগ্রহী অনলাইন জুয়ারি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে এক হাজার টাকার বিপরীতে ১০টি ডিজিটাল কয়েন কিনে অ্যাকাউন্ট খোলেন।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার বলেন, এই ডিজিটাল কয়েনের মাধ্যমে মূলত সারাবছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেট, ফুটবললীগ, টেনিস এবং চলমান বিশ্বকাপ ফুটবল খেলায় অনলাইনে জুয়ার বাজি ধরা হয়। ব্যবহারকারী জয়ী হলে ডিজিটাল কয়েন ফেরত নিয়ে এর বিপরীতে আর্থিক লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টাকা গ্রহণ করে থাকেন। হারলে তার পুরো ডিজিটাল কয়েনই পর্যায়ক্রমে জুয়া পরিচালনাকারীর কাছে জমা হয়ে যায়। ওই ভেলকি ওয়েবসাইটে একজন অ্যাডমিন, ১৪ জন সাইট সাব অ্যাডমিন, ২৪০ জন সুপার এজেন্ট, দেড় হাজারের অধিক মাস্টার এজেন্ট এবং সারাদেশে প্রায় দুই লক্ষাধিক ইউজার রয়েছে বলে জানা যায়।

তিনি বলেন, গাজীপুর সদর থানার পুলিশ প্রথমে মাস্টার এজেন্ট নাসিরকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্য, ব্যবহৃত মোবাইলের মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিং ও মোবাইল ব্যাংকিং ওয়ালেট যাচাই করে তার কাছে রুট লেভেলের প্রায় ৭০ জন ব্যবহারকারীর তথ্য পাওয়া যায়। নাসির তাদের কাছ থেকে দৈনিক লক্ষাধিক টাকা সংগ্রহ করে তার ঊর্ধ্বতন সুপার এজেন্ট মারুফের কাছে দিতেন। মারুফকে গ্রেফতারের জন্য উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় অভিযান চালানো হলে তার সঙ্গে আরও সাতজন জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে গ্রেফতার করা হয়।

তাদের ব্যবহৃত মোবাইল, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিং ও মোবাইল ব্যাংকিং ওয়ালেট যাচাই করে দেখা যায় যে, তারা তাদের ঊর্ধ্বতন সাইট সাব অ্যাডমিনকে একটি ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গত নভেম্বর মাসে দুই কোটি টাকার অধিক লেনদেন হয়েছে।

আলমগীর হোসেন আরও বলেন, এ হিসাবে বাংলাদেশে প্রায় ১ হাজার ৫০০টি মাস্টার এজেন্টের মাধ্যমে এক মাসেই তিন হাজার কোটি টাকার অধিক লেনদেন হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়, যা বাংলাদেশ থেকে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হচ্ছে। এ ঘটনায় গাজীপুর সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া সিআইডির মানিলন্ডারিং আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন।