বাংলাদেশ শনিবার 20, January 2018 - ৬, মাঘ, ১৪২৪ বাংলা

এনামুর রহমান কোন সংগঠন করেছে, আমাদের মতো মানুষকে যদি তাকে মেনে নিতে বলেন, তার আগে আমাদের গুলি করে মেরে ফেলেন : হাসিনা দৌলা

১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ধামরাই থানা আ’লীগের সভাপতি হওয়ার রহস্য ফাঁস করলেন এমপি মালেক, ঢাকা জেলা আ.লীগের সভায় বিষোদগার, হট্টগোল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশিত ২২:০২ ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০১৭

১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ধামরাই থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন ধামরাই থানার সভাপতি ও সংসদ সদস্য এম এ মালেক। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ধানমন্ডির প্রিয়াঙ্কা কমিউনিটি সেন্টারে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কর্মী সভায় তিনি এ তথ্য জানান। এসময় দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদের নানা সমালোচনা করে এম এ মালেক এমপি বলেন, ‘আমাকে সভাপতি হতে হলে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে জানান বেনজির। এরপর তাকে ১০ লাখ টাকা দিয়ে আমি থানার সভাপতি হই।’ এরপর এম এ মালেকের বক্তব্য দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পরে বক্তব্য দেন ওবায়দুল কাদের। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এটি আমাদের নিজেদের ঘরোয়া বিষয়। তবে এ ধরনের ঘটনা আমাদের পার্টি অফিসে আগে ঘটেনি। কিন্তু অন্য অনেক দল আছে, যেখানে পার্টি অফিসে নিয়মিতই মারামারি হয়।’

আওয়ামী লীগের ঢাকা জেলার নেতাদের কোন্দল কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে তারই চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ পেল দলের এ যৌথ সভায়। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সামনেই জেলা নেতারা পরস্পরের বিরুদ্ধে বিষোদগার করলেন আচ্ছামতো। তাতে যেমন ছিল নিজেদের কোন্দলের কারণে বিভিন্ন নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী দাঁড় করানোর গোমর ফাঁস, তেমনি আছে ১০-২০ লাখ টাকা দিয়ে সমঝোতার কাহিনীও।

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় দলীয় নেতাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমালোচনার সূত্রপাত ঘটান সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার। এরপর একে একে উপজেলা নেতাদের আক্রমণাত্মক ও পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিবেশ। পরে ওবায়দুল কাদেরের হস্তক্ষেপে শান্ত হয় পরিস্থিতি।

আগামী নির্বাচনে সাভারে জয়ী হওয়ার জন্য কোন্দল মেটানোর পরামর্শ দিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশে আলী হায়দার বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাভার থেকে যাকে নমিনেশন দেয়া হবে তার নাম এক বছর আগে ঘোষণা দিতে হবে। তার নেতৃত্বে আমাদের দলে ছোটখাটো যেসব ভুল-ত্রুটি রয়েছে তার সমাধান করে আমরা ঐক্যবদ্ধ হতে পারব।’ তিনি উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতাদের সাভার যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা মিটিং ডাকি, আপনারা আসুন, আমাদের কথা শুনবেন। আমারও আপনাদের কথা শুনব। দলের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কিছু কোন্দল রয়েছে, যা সংশোধন করে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।’ ১৯৭৩ সালের নির্বাচনী জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধামরাই উপজেলাকে ‘উত্তর পাকিস্তান’ উল্লেখ করেছেন বলে মন্তব্য করে ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সাকু বলেন, ‘সেই উত্তর পাকিস্তানকে ১৯৭৫ সালের পর ধীরে ধীরে সংগঠিত করেছেন বেনজির আহমেদ (বর্তমান জেলা সভাপতি)। এখানে দল তিন-চারবার পরাজিত হওয়ার পর বেনজির আহমেদ ২০০৮ সালের নির্বাচনে সাংসদ নির্বাচিত হন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সাংসদ হন এম এ মালেক। এরপর হঠাৎ করে দুজন দুই প্রান্তে চলে গেল। কিন্তু এর কারণ আমরা বুঝতে পারলাম না।’

ধামরাই উপজেলায় আওয়ামী লীগসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের অবস্থান আগের মতো নেই উল্লেখ করে সাখাওয়াত বলেন, উপজেলা যুবলীগের সম্মেলন হয় না ১২ বছর ধরে। আর ছাত্রলীগের সম্মেলন হয় না ১৪ বছর ধরে। এটা কি দুই নেতার কারণেই হচ্ছে না?  না আমাদের কারণে?’

জেলা সভাপতি বেনজির আহমেদকে উদ্দেশ করে সাখাওয়াত বলেন, ‘আপনি আমাদের সংগঠনের মুরব্বি। আপনি কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে গ্রুপিং নিরসনের চেষ্টা করুন।’

সাখাওয়াত বলেন, ‘অনেক হাইব্রিড নেতা মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার চেষ্টা করছে। ঘরে ঘরে চুক্তি হচ্ছে। সেই চুক্তি থেকে আপনারা বিরত থেকে সঠিক মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই করুন।’

‘হাইব্রিড নেতা মুক্তিযোদ্ধা’ কে নামটি যদিও বলেননি সাখাওয়াত, তবে পরে ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাংসদ এম এ মালেকের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় তাকে ইঙ্গিত করেই কথাটি বলা হয়েছে।  মালেক অভিযোগ করেন, তিনি ও বেনজির আহমেদ একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলেও মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে তার নাম বাদ দিয়েছেন বেনজির ও সাখাওয়াত।

সাখাওয়াতের বক্তব্যের পর সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা দৌলা নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে শ্রম, ঘাম ও অর্থ ব্যয় করলাম, কিন্তু হঠাৎ করে আপনারা (কেন্দ্রীয় নেতা) সাংসদ বানিয়ে দেন। আপনারা কি আমাদের মতো মানুষদের চোখে দেখেন না।’

হাসিনা দৌলা বলেন, ‘আমাকে দিয়ে সকল কাজ করিয়েছেন, আর হঠাৎ করে মুরাদ জংকে এমপি (২০০৮ সালের নির্বাচন) বানিয়ে দিলেন। মেনে নিলাম। মুরাদ জংকে সাংসদ বানানোর পরে আমি পাঁচ বছর কর্ণার হয়ে রইলাম। এরপর আবার বানালেন এনামুর রহমানকে, যাকে আমরা জানি না, চিনি না।’

হাসিনা দৌলা বলেন, ‘আপনারা কি জানেন তিনি (এনামুর রহমান) কোন সংগঠন করেছেন। আমাদের মতো মানুষকে যদি তাদের মেনে নিতে বলেন, তার আগে আমাদের গুলি করে মেরে ফেলেন, তারপর যেন এ সকল লোক এমপি হয়। আগামীতে এমপি পদে মনোনয়ন দেয়ার আগে আপনারা ভেবেচিন্তে দিবেন। আমাদের মনে কষ্ট দিয়েন না। কষ্ট দেয়ার অধিকার আপনাদের নেই।’

দলের কোন্দল তুলে ধরতে গিয়ে দোহার উপজেলা চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আব্দুল মান্নান সাহেব যখন মন্ত্রী ছিলেন, তখন তার কথামতো সংগঠন চলত, নেতারা পদ-পদবি পেত। আবার যখন মান্নান ভাই সংসদ হলেন না তখন জেলার সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমানের পছন্দমতো নেতাকর্মীরা দলে পদ পেয়েছে।’

ধামরাই পৌরসভার মেয়র গোলাম কবির বলেন, ‘ধামরাই আওয়ামী লীগে আগে দ্বন্দ্ব ছিল না, কিন্তু এখন অনেক দ্বন্দ্ব দেখা যাচ্ছে। এ দ্বন্দ্ব মিটিয়ে ফেললে আগামী নির্বাচনেও বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয়ী হবে।’

ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগে বিভেদ আছে, তা স্বীকার করে এর সভাপতি ও সংসদ সদস্য এম এ মালেক এই বিভেদের জন্য ঢাকা জেলা সভাপতি বেনজির আহমেদকে দায়ী করেন। আর সেটি উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী দেয়াকে কেন্দ্র করে শুরু।

এম এ মালেক বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের জন্য আমি যৌথ সভা ডাকি। সেখানে সবাই বলল বেনজির আহমেদ ও আমি যাকে বলব তিনিই প্রার্থী হবেন। আমি বললাম, না, বেনজীর ভাই যাকে বলবেন তিনিই প্রার্থী হবেন। কয়েকদিন পরে বেনজির ভাই বলল, তৃণমূলের ভোটে প্রার্থী বাছাই হবে। এতে আওয়ামী লীগ শুধু দ্বিখন্ডিত না চার ভাগের তিন ভাগ একদিকে, আরেক ভাগ অন্যদিকে।’ 

এম এ মালেক বলেন, ‘তৃণমূলের নির্বাচনে আমি যাকে সমর্থন করলাম তিনি পেলেন ২৫২ ভোট, আর বেনজির যাকে সমর্থন করলেন তিনি (মিজান) পেলেন ১১৪ ভোট। এতে প্রমাণিত হলো মানুষ বেনজির সাহেবের সাথে নেই। বিষয়টি এখানেই সীমবদ্ধ থাকেনি। তৃণমূলের রেজাল্ট পাল্টিয়ে আমাকে বলা হলো মুন্সিগঞ্জে যেভাবে তৃণমূলের নির্বাচনে জেতার পরেও আরেকজনকে দেয়া হয়েছে, এখানেও তেমনি মিজানকে দেয়া হয়েছে।’

এ সময় মঞ্চ থেকে বেনজির নিষেধ করেন এসব কথা বলতে। তখন এম এ মালেক বলেন, ‘এগুলো না বললে তো মানুষ বুঝবে না।’ মালেক বলেন, ‘এরপর তৎকালীন ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন আমাকে ফোন দিয়ে বলেন ওপর থেকে প্রার্থী পরিবর্তন করা হয়েছে। পরের দিন নেত্রীর সাথে আমি দেখা করি। তিনি আমাকে বললেন, না, তিনি পরিবর্তন করেননি।’

থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে প্রার্থিতার সময় তার বিরোধিতা করেছেন বেনজির-এমন অভিযোগ করেন মালেক। বলেন, ‘আমি যখন থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী হয়েছি,  তা নিষ্কণ্টক করার জন্য বেনজির সাহেবের বাসভবনে বৈঠকও করেছি। কিন্তু তিনি বহুভাবে চেষ্টা করেছেন আমি যাতে থানা সভাপতি না হতে পারি। কিন্তু কর্মীরা আমার পক্ষে। এরপর আবার তার বাসায় বৈঠক করি। তখন তিনি বলেন, “তুমি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হতে পারো। এ জন্য তুমি আবুলকে ২০ লাখ টাকা দিয়ে দাও।” তখন আমি বললাম, আমার কাছে তো এত টাকা নাই। তিনি বললেন, তাহলে ১০ লাখ টাকা দাও। তখন অমি চেকের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা দিয়েছি।’

এ সময় সভায় হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে এম এ মালেক বলেন, ‘আমার কথা শেষ হলে তিনি (বেনজীর) কথা বলবেন। এরপর পৌরসভা নির্বাচন হয়েছে। সেখানে তার (বেনজীর) প্রার্থী আমার প্রার্থীর কাছে নমিনেশনে হেরে যান। এরপরও তিনি বিরোধিতা করেন, কিন্তু আমি আমার প্রার্থীকে পাস করিয়ে আনি।’

জেলা পরিষদে একাধিক প্রার্থিতার বিষয়ে এম এ মালেক বলেন, ‘জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে ধামরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে প্রার্থী করানো হয়েছিল, কিন্তু সেখানে তিনি ৩০ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। আমার প্রার্থী ৭৭ ভোট পান। আরেক জায়গায়ও আমার প্রার্থী পান ৯০ ভোট, আর তার (বেনজির) প্রার্থী ২৫ ভোট পান। যত জায়গায় নির্বাচন হয় তার প্রার্থী পরাজিত হয় এবং তার সাথে তৃণমূলের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। এখানে আমি কিছু করি নাই।’

এম এ মালেক অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি আর বেনজির সাহেব একসাথে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি, ট্রেনিং নিয়েছি; একসঙ্গে খেয়েছি, যুদ্ধ করেছি। আর এখন মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাচাই কমিটির সভাপতি বেনজির আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক সাকু। তারা এখন মুক্তিযোদ্ধার তালিকা থেকে আমার নামটা কেটে দিয়েছে।’ এ সময় এম এ মালেককে এ বিষয়টি বলতে নিষেধ করা হয় মঞ্চ থেকে। কিন্তু তিনি কথা বলতে চেষ্টা করেন। এর পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাকে মাইক থেকে সরিয়ে দেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এখানে খোলামেলা আলোচনায় আমরা বিব্রত। আওয়ামী লীগ অনেক বড় দল, অনেক বড় পরিবার। ছোটখাটো সমস্যা থাকতে পারে। পার্টির কার্যক্রম নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা হতে পারে। যারা বক্তব্য রাখবেন, কাউকে আক্রমণ করবেন না। সমস্যা আমরা সবাই জানি। আজকের পরিবেশটা নষ্ট করবেন না। আমরা ঘরোয়া আলোচনায় সমস্যা সমাধান করতে পারি।’ 

জেলার নেতাদের বক্তব্যে বিরক্তি প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘একই পরিবারে কাজ করতে গিয়ে মতবিরোধ হয়, তার সমাধান হয়। কিন্তু ঘরের ভেতর ঘর কেন? আপন ঘরে শত্রু হলে বাইরের শত্রুর দরকার আছে? আপন ঘরে শত্রু তৈরি করবেন না। কেউ জনগণ ও দলের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ালে এর পরিণাম কী হয় তার প্রমাণ অতিসম্প্রতি সিরাজগঞ্জ ও ঢাকা কলেজের নেতাদের পরিণতি।’ এরপর ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ বলেন, ‘কাদা ছড়াবেন না। ছড়ালে সবার গায়েই লাগবে। সাংগঠনিক ডিসিপ্লিন মেনে চলুন। কেউই ধোয়া তুলসীপাতা না। ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়। সময়-সুযোগমতো শ্বেতপত্র প্রকাশ হতে পারে। তিন বছরের যে কীর্তিকলাপ আছে, তা প্রকাশ হতে পারে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এসব আত্মসমালোচনার বিষয়। তবে শৃঙ্খলা থাকতে হবে। কথাবার্তায় সবার মধ্যে মার্জিত রূপ আনতে হবে।’ আগামী নির্বাচনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গাধা জল ঘোলা করে খায়। বিএনপি জল ঘোলা করে সিইসি মেনে নিয়েছে। আগামী নির্বাচনও মেনে নিবে। কারণ বিকল্প নেই। নিবন্ধন হারিয়ে অপ্রাসঙ্গিক হওয়ার আশঙ্কায় তারা নির্বাচন করবে।’ দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে হালকাভাবে নিবেন না। আওয়ামী বিরোধী সব শক্তির প্লাটফর্ম হলো বিএনপি। এদের দুর্বল ভাবার কারণ সেই। এরা হালকা প্রতিপক্ষ নয়।’

সেতু মন্ত্রী ওবাদুল কাদের আরো বলেন, আগামী ৬ মার্চ ১৮টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে। এতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি বিএনপি অংশ নিচ্ছে বলে জানা গেছে। যদিও নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয় বলে দলটির নেতারা মন্তব্য করেছেন। আশা করি, আগামী জাতীয় নির্বাচনেও তারা আসবে। নির্বাচনে আসা ছাড়া আর কোনো বিকল্প তাদের নেই। নিবন্ধন হারিয়ে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তাদের নির্বাচনে নিয়ে আসবে।

সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য আবদুল মান্নান খান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান, সহ-সভাপতি ডা.এনামুর রহমান এমপি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন শাহীন, মিজানুর রহমান, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক হালিমা আক্তার লাবণ্য, সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রসাশক মিসেস হাসিনা দৌলা, সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলী হায়দার, সাভার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র হাজী আব্দুল গণি, সাভার উপজেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-১ (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ফখরুল আলম সমর, সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা মনজুরুল আলম রাজীব, যুবলীগ নেতা ফারুক হাসান তুহিন, ধামরাই থানা আওয়ামী লীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান প্রমুখ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির আহমেদ।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন


এ সম্পর্কিত খবর

ধামরাইয়ে চালককে জবাই করে রিক্সা ছিনতাই

ধামরাইয়ে চালককে জবাই করে রিক্সা ছিনতাই

ধামরাইয়ে র‌্যাব-পুলিশ আলাদীনস পার্কে পিকনিক করা অবস্থায় পিকনিক স্পটের আধা কিলোমিটার দূরত্বে এক রিক্সাচালককে গলা

সিংগাইরে হেলালউদ্দিন স্মৃতি বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান মাতালেন ইমরান ও অংকুর

সিংগাইরে হেলালউদ্দিন স্মৃতি বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠান মাতালেন ইমরান ও অংকুর

  আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় কমিটির সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক দেওয়ান সফিউল আরেফিন টুটুলের

সাভারে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বই বিতরণী অনুষ্ঠান

সাভারে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বই বিতরণী অনুষ্ঠান

  শিক্ষিত জাতি দেশের সম্পদ। যে সব দেশ বিশ্বকে নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা সকলেই শিক্ষায় অনেক


মানারাত ভার্সিটিতে নবীনবরণ অনুষ্ঠান

মানারাত ভার্সিটিতে নবীনবরণ অনুষ্ঠান

  মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে স্পিং সেমিস্টার ২০১৮ ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের সম্মানে নবীনবরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শোক বাণী

শোক বাণী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলা উত্তর শাখার সাভার পৌরসভার প্রবীন রুকন ও বিশ^নন্দিত মুফ্ফাসির মাওলানা

ধামরাইয়ে ক্লাস বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন 

ধামরাইয়ে ক্লাস বন্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন 

ঢাকা-২০ আসন, ধামরাইয়ের সংসদ সদস্য এমএ মালেক ও তার স্ত্রী মিনা মালেকের বিরুদ্ধে বে-সরকারী টেলিভিশন


ভোরের কাগজ সম্পাদকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে সাভারে মানববন্ধন

ভোরের কাগজ সম্পাদকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে সাভারে মানববন্ধন

দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক বরেন্য সাংবাদিক শ্যামল দত্তের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ও

মানিকগঞ্জ-২ আসনের নির্বাচনী এলাকায় দুস্থদের মধ্যে  টুটুুলের শীতবস্ত্র বিতরণ

মানিকগঞ্জ-২ আসনের নির্বাচনী এলাকায় দুস্থদের মধ্যে  টুটুুলের শীতবস্ত্র বিতরণ

 মানিকগঞ্জ-২ আসনের নির্বাচনী এলাকার ১টি পৌর সভা ও ২৭টি ইউনিয়নের দুস্থ শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীত

দুর্বৃত্তের কাছে পরাজিত হচ্ছি: সুলতানা কামাল

দুর্বৃত্তের কাছে পরাজিত হচ্ছি: সুলতানা কামাল

 মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুলতানা কামাল বলেছেন, ‘অধিকার হারাতে হারাতে মানুষ হিসেবে নিজের মর্যাদা



আরো সংবাদ






শোক বাণী

শোক বাণী

১৯ জানুয়ারী, ২০১৮ ২৩:৩৩





হিজড়া পরিচয়ে ভোটার হওয়া যাবে : ইসি

হিজড়া পরিচয়ে ভোটার হওয়া যাবে : ইসি

১৮ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৯:৪৩



ব্রেকিং নিউজ






শোক বাণী

শোক বাণী

১৯ জানুয়ারী, ২০১৮ ২৩:৩৩





হিজড়া পরিচয়ে ভোটার হওয়া যাবে : ইসি

হিজড়া পরিচয়ে ভোটার হওয়া যাবে : ইসি

১৮ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৯:৪৩