বাংলাদেশ শনিবার 20, January 2018 - ৭, মাঘ, ১৪২৪ বাংলা

তদারকির অভাবে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হিনোঙরে চোরাচালান রমরমা

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশিত ১৭:৫২ সেপ্টেম্বর ১১, ২০১৬


সমুদপথে চোরাচালানের রমরমা ব্যবসা চলছে। দুর্বল তদারকির, অপর্যাপ্ত জলযান ও জনবলের অভাবে কোনোভাবেই তা ঠেকানো যাচ্ছে না। এসব সীমাবদ্ধতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই সমুদ্রপথে আসা পণ্যবাহী জাহাজ ও নৌযানের তদারকি কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে জাহাজে আসা বিভিন্ন মাদক ও অবৈধ পণ্য চোরাচালানিরা সহজেই বন্দরের বহির্নোঙরে সরিয়ে ফেলে। বিশেষ করে আনোয়ারা, বাঁশখালী ও পার্কি বিচ এলাকায় ছোট-মাঝারি নৌকায় করে সহজেই মাদকদ্রব্য সরিয়ে ফেলা যায়। তাছাড়া বন্দরের জেটি দিয়ে খালাসের সময়ও অপেক্ষাকৃত কম তদারকি হয় এমন পণ্য ঘোষণায় মাদকদ্রব্য নিয়ে আসা হয় কনটেইনারবাহী জাহাজে করে। যার প্রমাণ বন্দরের গেট দিয়ে খালাসকালে বিভিন্ন সময় কোকেন, সিগারেট, জাল মুদ্রাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য আটক। বন্দর ও কাস্টমস সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, নৌপথে চোরাচালানের বড় অংশই সংঘটিত হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হিনোঙরে। কিন্তু তা প্রতিরোধে পযাপ্ত জলযান ও জনবল অভাবের পাশাপাশি অভিযান পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামও নেই। তবে দেশের শুল্ক স্টেশনের মধ্যে একমাত্র চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অধীনেই রামেজ ডিভিশন ও এফ ডিভিশন নামে দুটি বিভাগ রয়েছে। চোরাচালানবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য রামেজ ডিভিশনের অধীনে সফেন ও সমীক্ষা নামে দুটি পেট্রল বোট (পিবি) থাকলেও বিগত ৫ বছর ধরেই তা অচল হয়ে রয়েছে। ফলে বন্ধ রয়েছে চোরাচালান প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান। জাহাজ দুটি সচল করতে এবং জাহাজ রাখার জেটি (পন্টুন জেটি) মেরামতের জন্য ২০১৪-১৫ অর্থবছরে সরকার ৫ কোটি টাকা খরচ করলেও তা কোনো কাজে আসেনি।
সূত্র জানায়, পর্যাপ্ত লোকবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় এফ ডিভিশন বহির্নোঙরে খালাস হওয়া বাল্ক (খোলা) পণ্যবাহী জাহাজও তদারক করতে পারছে না। বিশেষ করে অয়েল ট্যাংকারে কী পরিমাণ তেল রয়েছে তা পরিমাপ করার যন্ত্রপাতি ওই বিভাগে নেই। অথচ কয়লা, জ¦ালানি তেল, ভোজ্যতেল, স্ক্র্যাপ, বিটুমিন ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যসহ দেশের মোট আমদানির ৭০ শতাংশ পণ্যই আসে ওসব বাল্ক জাহাজে। তাছাড়া কাস্টমসের রামেজ ও এফ ডিভিশনে অন্তত ১০ জন করে সশস্ত্র আনসার সদস্যসহ ৫০ জন লোকবল থাকার বিধি থাকলেও রয়েছে ১০ জনের মতো। মূলত এসব কারণেই সমুদ্রপথে চোরাচালান প্রতিরোধে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না কাস্টমসের এ দুটি বিভাগ। বর্তমানে জলযান সঙ্কটের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে চোরাচালানবিরোধী কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে বছরে নামমাত্র তদারকির নামে দু-একটি পণ্যবাহী জাহাজ পরিদর্শন করা হয়। সেক্ষেত্রে তদারককারিদের নিজস্ব জাহাজ না থাকায় শিপিং এজেন্টের জাহাজ ব্যবহার করতে হয়। ফলে তাদেও পক্ষে নিরপেক্ষভাবে তদারক করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে ওসব জাহাজে আসা বিভিন্ন মাদক ও অবৈধ পণ্য বহির্নোঙরেই সরিয়ে ফেলা হয়।
সূত্র আরো জানায়, বিগত দুই বছরে চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস নেয়ার সময় অবৈধ পণ্য ও মাদকদ্রব্যের শতাধিক চালান আটক হয়েছে। তাছাড়া বেশ কয়েকবার মিথ্যা ঘোষণা বা ঘোষণাবহির্ভূত পণ্য আমদানি এবং অর্থ পাচারের ঘটনাও ঘটেছে। চলতি বছরের মে মাসে সাভারের জেনেটিক ফ্যাশন ও গাজীপুরের এফআরসি নিট কম্পোজিটের ১১ কোটি ৯০ লাখ টাকা মূল্যের দুটি সিগারেটের চালান আটক করা হয়। তৈরি পোশাক শিল্পের সুতা ঘোষণায় ওই সিগারেট আনা হয়েছিল। তার আগে গতবছরের শুরুর দিকে ঢাকা পশ্চিম রামপুরার এসকে করপোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান কসমেটিকস পণ্যের আড়ালে নিয়ে আসে ১০ কোটি টাকা মূল্যের সিগারেট। ওই চালানও বন্দরে আটক করা হয়। তাছাড়া গত বছরের শেষ দিকে সূর্যমুখী ও সয়াবিন তেলের ঘোষণায় কোকেন আমদানি ও একটি কনটেইনারে ১৬৫টি কার্টনে পৌনে ৩ কোটি ভারতীয় জাল রুপি উদ্ধারের ঘটনাও ঘটে।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে জমজমাট চোরাচালান প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ জানান, দীর্ঘদিন ধরেই চট্টগ্রাম কাস্টমসের চোরাচালান প্রতিরোধে কোনো পদক্ষেপ না থাকায় চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে অবৈধ বাণিজ্য তৈরি হয়েছে। বহির্নোঙরে একটি জাহাজকে কয়েক দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ওই সময় অবৈধভাবে বিভিন্ন মাদকদ্রব্য বাল্ক জাহাজ থেকে সরিয়ে ফেলার সুযোগ থাকে। যারা চোরাচালানের সাথে জড়িত তারা ওই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে। প্রতি বছরই চট্টগ্রাম বন্দরে ছোট-বড় অর্ধশতাধিক চালানে অবৈধ পণ্য ও মাদকদ্রব্য পাওয়ার ঘটনা ঘটছে। তারপরও কাস্টমসের গুরুত্বপূর্ণ দুটি ডিভিশনকে শক্তিশালী করা হচ্ছে না। দেশের নিরাপত্তার স্বার্থেই চট্টগ্রাম কাস্টমসের উচিত ওই জায়গায় শক্ত তদারক করা। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভাগ দুটিতে পর্যাপ্ত জলযান, যন্ত্রপাতি ও লোকবল সরবরাহ করা।
অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে তদারকির দায়িত্বে থাকা চট্টগ্রাম কাস্টমসেরডেপুটি কমিশনার মো. খাইরুল আলম জানান- পেট্রল বোট দুটি সচল না থাকা এবং পর্যাপ্ত লোকবলের অভাবে ডিভিশন দুটির নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করা যাচ্ছে না। তাছাড়া প্রয়োজনের তুলনায় সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতিরও অভাব রয়েছে। প্রায় সময়ই ভাড়া করা জাহাজে করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। গত এক মাসে কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন


এ সম্পর্কিত খবর

বদলি হচ্ছেন ২৪ সাব-রেজিস্ট্রার

বদলি হচ্ছেন ২৪ সাব-রেজিস্ট্রার

নিবন্ধন অধিদফতরের ২৪ জন সাব-রেজিস্ট্রারকে বদলি করা হচ্ছে। আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার বদলি

চট্টগ্রামে আদনান হত্যায় ৫ কিশোর আটক

চট্টগ্রামে আদনান হত্যায় ৫ কিশোর আটক

চট্টগ্রামে কলেজিয়েট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র আদনান ইসফার খুনের ঘটনায় পাঁচ কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ।

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি : দুদকের ৬১তম মামলায়ও নেই বাচ্চু

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি : দুদকের ৬১তম মামলায়ও নেই বাচ্চু

১৩৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জাপা নেতা মোরশেদ মুরাদ ইব্রাহীমের ছোট ভাই ফয়সাল মুরাদ ইব্রাহিম


ফিলিস্তিনের ৬৫ মিলিয়ন ডলার কমাবে যুক্তরাষ্ট্র

ফিলিস্তিনের ৬৫ মিলিয়ন ডলার কমাবে যুক্তরাষ্ট্র

 ফিলিস্তিনিদের সাহায্যের জন্য অর্ধেক অর্থ সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের রিলিফ অ্যান্ড ওয়ার্ক এজেন্সিকে

চট্টগ্রামে আমির খসরুর বাসায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত, কিন্তু কেন?

চট্টগ্রামে আমির খসরুর বাসায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত, কিন্তু কেন?

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : বিশ্বের প্রভাবশালী দু’টি দেশের গুরুত্বপূর্ণ দুই ব্যক্তি একই সময়ে চট্টগ্রামে। বিষয়টি ছিল

ভোটের অধিকার সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত : প্রণব মুখার্জি

ভোটের অধিকার সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত : প্রণব মুখার্জি

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বলেছেন, গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা মানুষের অধিকার। দেশের প্রধান শাসক জনগণ


সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা পাবে স্কুলগুলো

সাড়ে ১০ হাজার কোটি টাকা পাবে স্কুলগুলো

 সারাদেশে ৩০০০ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনসহ অন্যান্য ভবন নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি এসব

ইয়াবা আসছেই, পাচারকারী সিন্ডিকেটগুলো বহাল তবিয়তে

ইয়াবা আসছেই, পাচারকারী সিন্ডিকেটগুলো বহাল তবিয়তে

মিয়ানমার ও ভারতের বিভিন্ন স্থান দিয়ে ইয়াবা দেশে ঢুকলেও ইয়াবার প্রধান উৎস মিয়ানমার। নাফ নদী

রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানো নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্রিটিশ এমপিরা

রোহিঙ্গা ফেরত পাঠানো নিয়ে উদ্বিগ্ন ব্রিটিশ এমপিরা

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্রিটিশ এমপিরা। কারণ তারা মনে করেন, এখনো



আরো সংবাদ










রুডার সভাপতি আকাশ সম্পাদক সোহেল

রুডার সভাপতি আকাশ সম্পাদক সোহেল

২৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১৫:৫৫




ব্রেকিং নিউজ






শোক বাণী

শোক বাণী

১৯ জানুয়ারী, ২০১৮ ২৩:৩৩





হিজড়া পরিচয়ে ভোটার হওয়া যাবে : ইসি

হিজড়া পরিচয়ে ভোটার হওয়া যাবে : ইসি

১৮ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৯:৪৩